০৭:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুপেয় পানির সংকটে কক্সবাজার

কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনে কক্সবাজারে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

অনেক এলাকায় নলকূপে পাওয়া যাচ্ছে না পানি। বৈদ্যুতিক মোটরেও ঠিক মতো পানি উঠছে না। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে বোতলজাত কেনা পানির নিকট ঝুঁকছে মানুষ।

পানি নিচে নেমে যাবার পাশা পাশি বাড়ছে ভূ- গর্ভস্থলে লবণাক্ততা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইকোসিস্টেমের উপর প্রভাব পড়ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে পানিতে ই-কোলাই ভাইরাস বৃদ্ধি পেয়ে পানিবাহীত রোগব্যাধী ছড়াতে পারে। সংকটে পড়তে পারে পর্যটন শিল্প। ব্যাহত হতে পারে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপন। এ অবস্থায় সুপেয় পানি সংকট সমাধানের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

বিশ্ব পানি দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে সুপেয় পানির দাবিতে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক জাতীয় সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কুতুবদিয়া উপজেলা, শুক্রবার, ২২ মার্চ, বিকাল সাড়ে তিনটা দিকে দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায়, সুপেয় পানির দাবিতে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায়।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, ধরা কুতুবদিয়া উপজেলা আহবায়ক মো শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে সবুজ বাংলাকে বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এই দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় পানি না ওঠায় অকেজো পড়ে আছে অগভীর নলকূপ। দ্বীপের উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং এবং লেমশীখালী ইউপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দশ-বিশটি বাড়ি মিলিয়ে একটি নলকূপ আবার কোন কোন স্থানে কোন নলকূপ নাই। দ্বীপের কিছু এলাকায় ৮শ থেকে ৯শ ফুট নিচে সুপেয় পানির স্তর কোথাও আবার ১২শ ফুট গভীরে নলকূপের পাইপ বসাতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে দ্বীপের বৃহৎ খাল পাইলটকাটা এর ভরাট, দখল দূষনে নাব্যহীন হয়ে পড়ায় বিগত ৩/৪ বছর যাবৎ লবনচাষীরা পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ লবন পানি উত্তোলন করে লবন চাষ করে আসছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাছাড়া কৃষকরা ডিব- টিউবওয়েলের মাধ্যমে সুপেয় পানি তোলে ধান চাষ করায় সুপেয় পানির টিউবওয়েলেও পানি উঠছেনা। এ সবের কারণে দ্বীপে সুপেয় পানির হাহাকার বিরাজ করছে। ডিব-টিউবওয়েল বা পানির পাম্প মেশিন ব্যবহারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে দ্বীপবাসী পান করার জন্য সুপেয় পানি পাবেনা। তাছাড়া লেমশীখালী ইউপিবাসী পানির সংকটে থাকায় সদর ইউপি বড়ঘোপ থেকে ক্রয় করে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে। তাই দ্বীপে জরুরী ভিত্তিতে সুপেয় পানি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় আট হাজার হেক্টর বনভূমি। একইসঙ্গে প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে মাটির নিচে সুপেয় পানি পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গোপসাগর কাছাকাছি হওয়ায় বাড়ছে পানির লবণাক্ততা। এখান থেকে রক্ষা পেতে হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সূত্র মতে, ২০১৭ সালে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ করতে বিভিন্ন ক্যাম্পে ৩ হাজার অগভীর, ৮০ টি গভীর এবং এনজিজও সংস্থা আরও ২০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। প্রতিদিন রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের জন্য ৩০ লাখ লিটার পানি উত্তোলণ করা হচ্ছে শুধু দুই উপজেলায়।

পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা হোটেল মোটেল জোন কক্সবাজার কলাতলী এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ব্যবহার ও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে প্রতিটি হোটেলে একের অধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

এই ছোট শহর কক্সবাজারে জনসংখ্যা ২৫ লাখের অধিক। আরো কম বেশি ২৫ লক্ষ যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তার উপর পর্যটক তো আছেই। সব মিলিয়ে বিশাল জন গোষ্ঠীর পানির চাহিদা মেটাতে সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে। সুপেয় পানি শুন্য হয়ে পড়বে কক্সবাজার।

টেকনাফের হ্নীলা, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, সাবরাং, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লেদা, দমদমিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে লবণাক্ততা। উখিয়াতে তিব্রতা দেখা না দিলেও দিন দিন পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদর, পোকখালী, গোমাতলী, ইসলামপুরের অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। অকেজো হয়ে গেছে অনেক বৈদ্যুতিক মোটরও।

কক্সবাজার শহরের নুরপাড়া, মাঝিরঘট, টেকপাড়া, নতুন বাহারছড়া, বদরমোকামসহ বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানের পানি খাওয়া তো দুরের কথা, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারও করা যাচ্ছে না।

একইভাবে পানি সংকট চলছে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপেও দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি সংকট।

এ অবস্থায় সার্ফেস ওয়াটারের দিকে জোর দেয়ার পরামর্শ সচেতন মহলের।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, যে হারে কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে বিকল্প সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চরম সংকটে পড়বে কক্সবাজারের মানুষ। তিনি আরো বলেন, আমাদের রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর আমরা তা কাজে লাগাতে পারি। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়। সাগরের লবনাক্ত পানি পরিশোধন করে সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করছে।

কক্সবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন চোধুরী বলেন, পানিতে লবণাক্ততা বাড়লে, পান অযোগ্য পানিতে ই-কোলাই ভাইরাস বৃদ্ধি পেতে পারে। ই-কোলাই ভাইরাস বায়বীয় ও অবায়বীয় দুই অবস্থাতেই থাকতে পারে। এ ভাইরাসের কারণে মূত্রনালীতে সংক্রমণ, রক্তে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস টাইফয়েড, ডায়রিয়া, বমি এবং রক্তযুক্ত মল, মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ এবং প্রচন্ড জ্বর হতে পারে।

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুপেয় পানি সংকট দুর করতে রেইন ওয়েটার হার্ভেস্টিং প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া-টেকনাফকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে উখিয়ার পালংখালীতে ৬০০ একর জমি লীজ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, টেকনাফ- উখিয়া এবং কক্সবাজার শহর ও উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তিব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমন শঙ্কায় ওয়াটার -এনার্জি -লাইভলিহোড (ওয়েল) নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও চলমান রয়েছে রেইন ওয়ার্টার হার্ভেস্টিং প্রকল্প। সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুপেয় পানি সংকট দুর হবে। একই সাথে সাগরের লবনাক্ত পানি পরিশোধন করে কিভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার জিতলেন

সুপেয় পানির সংকটে কক্সবাজার

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট দিন দিন বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি অতিমাত্রায় ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনে কক্সবাজারে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

অনেক এলাকায় নলকূপে পাওয়া যাচ্ছে না পানি। বৈদ্যুতিক মোটরেও ঠিক মতো পানি উঠছে না। সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে বোতলজাত কেনা পানির নিকট ঝুঁকছে মানুষ।

পানি নিচে নেমে যাবার পাশা পাশি বাড়ছে ভূ- গর্ভস্থলে লবণাক্ততা। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইকোসিস্টেমের উপর প্রভাব পড়ছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে পানিতে ই-কোলাই ভাইরাস বৃদ্ধি পেয়ে পানিবাহীত রোগব্যাধী ছড়াতে পারে। সংকটে পড়তে পারে পর্যটন শিল্প। ব্যাহত হতে পারে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপন। এ অবস্থায় সুপেয় পানি সংকট সমাধানের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

বিশ্ব পানি দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে সুপেয় পানির দাবিতে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক জাতীয় সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কুতুবদিয়া উপজেলা, শুক্রবার, ২২ মার্চ, বিকাল সাড়ে তিনটা দিকে দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায়, সুপেয় পানির দাবিতে সমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচী পালন করতে দেখা যায়।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, ধরা কুতুবদিয়া উপজেলা আহবায়ক মো শহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে সবুজ বাংলাকে বলেন, উপকূলীয় দ্বীপ কুতুবদিয়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট। এই দ্বীপের বিভিন্ন জায়গায় পানি না ওঠায় অকেজো পড়ে আছে অগভীর নলকূপ। দ্বীপের উত্তর ধূরুং, দক্ষিণ ধূরুং এবং লেমশীখালী ইউপিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে দশ-বিশটি বাড়ি মিলিয়ে একটি নলকূপ আবার কোন কোন স্থানে কোন নলকূপ নাই। দ্বীপের কিছু এলাকায় ৮শ থেকে ৯শ ফুট নিচে সুপেয় পানির স্তর কোথাও আবার ১২শ ফুট গভীরে নলকূপের পাইপ বসাতে হচ্ছে। তবে বর্তমানে দ্বীপের বৃহৎ খাল পাইলটকাটা এর ভরাট, দখল দূষনে নাব্যহীন হয়ে পড়ায় বিগত ৩/৪ বছর যাবৎ লবনচাষীরা পাম্পের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ লবন পানি উত্তোলন করে লবন চাষ করে আসছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাছাড়া কৃষকরা ডিব- টিউবওয়েলের মাধ্যমে সুপেয় পানি তোলে ধান চাষ করায় সুপেয় পানির টিউবওয়েলেও পানি উঠছেনা। এ সবের কারণে দ্বীপে সুপেয় পানির হাহাকার বিরাজ করছে। ডিব-টিউবওয়েল বা পানির পাম্প মেশিন ব্যবহারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে দ্বীপবাসী পান করার জন্য সুপেয় পানি পাবেনা। তাছাড়া লেমশীখালী ইউপিবাসী পানির সংকটে থাকায় সদর ইউপি বড়ঘোপ থেকে ক্রয় করে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে। তাই দ্বীপে জরুরী ভিত্তিতে সুপেয় পানি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানান তাঁরা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা, কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় আট হাজার হেক্টর বনভূমি। একইসঙ্গে প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে মাটির নিচে সুপেয় পানি পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বঙ্গোপসাগর কাছাকাছি হওয়ায় বাড়ছে পানির লবণাক্ততা। এখান থেকে রক্ষা পেতে হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয় সূত্র মতে, ২০১৭ সালে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহ করতে বিভিন্ন ক্যাম্পে ৩ হাজার অগভীর, ৮০ টি গভীর এবং এনজিজও সংস্থা আরও ২০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে। প্রতিদিন রোহিঙ্গা এবং স্থানীয়দের জন্য ৩০ লাখ লিটার পানি উত্তোলণ করা হচ্ছে শুধু দুই উপজেলায়।

পর্যটকদের জন্য গড়ে ওঠা হোটেল মোটেল জোন কক্সবাজার কলাতলী এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল মোটেল রয়েছে। ব্যবহার ও সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে প্রতিটি হোটেলে একের অধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

এই ছোট শহর কক্সবাজারে জনসংখ্যা ২৫ লাখের অধিক। আরো কম বেশি ২৫ লক্ষ যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তার উপর পর্যটক তো আছেই। সব মিলিয়ে বিশাল জন গোষ্ঠীর পানির চাহিদা মেটাতে সরকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে। সুপেয় পানি শুন্য হয়ে পড়বে কক্সবাজার।

টেকনাফের হ্নীলা, টেকনাফ সদর, বাহারছড়া, সাবরাং, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লেদা, দমদমিয়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে লবণাক্ততা। উখিয়াতে তিব্রতা দেখা না দিলেও দিন দিন পানির স্তর নীচে নেমে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও সদর, পোকখালী, গোমাতলী, ইসলামপুরের অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। অকেজো হয়ে গেছে অনেক বৈদ্যুতিক মোটরও।

কক্সবাজার শহরের নুরপাড়া, মাঝিরঘট, টেকপাড়া, নতুন বাহারছড়া, বদরমোকামসহ বিভিন্ন এলাকায় সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানের পানি খাওয়া তো দুরের কথা, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারও করা যাচ্ছে না।

একইভাবে পানি সংকট চলছে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সোনাদিয়া দ্বীপেও দেখা দিয়েছে সুপেয় পানি সংকট।

এ অবস্থায় সার্ফেস ওয়াটারের দিকে জোর দেয়ার পরামর্শ সচেতন মহলের।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, যে হারে কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে বিকল্প সুপেয় পানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চরম সংকটে পড়বে কক্সবাজারের মানুষ। তিনি আরো বলেন, আমাদের রয়েছে বিশাল বঙ্গোপসাগর আমরা তা কাজে লাগাতে পারি। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়। সাগরের লবনাক্ত পানি পরিশোধন করে সুপেয় পানি হিসেবে ব্যবহার করছে।

কক্সবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন চোধুরী বলেন, পানিতে লবণাক্ততা বাড়লে, পান অযোগ্য পানিতে ই-কোলাই ভাইরাস বৃদ্ধি পেতে পারে। ই-কোলাই ভাইরাস বায়বীয় ও অবায়বীয় দুই অবস্থাতেই থাকতে পারে। এ ভাইরাসের কারণে মূত্রনালীতে সংক্রমণ, রক্তে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস টাইফয়েড, ডায়রিয়া, বমি এবং রক্তযুক্ত মল, মূত্রত্যাগের সময় ব্যথা, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ এবং প্রচন্ড জ্বর হতে পারে।

কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুপেয় পানি সংকট দুর করতে রেইন ওয়েটার হার্ভেস্টিং প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়া-টেকনাফকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে উখিয়ার পালংখালীতে ৬০০ একর জমি লীজ নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, টেকনাফ- উখিয়া এবং কক্সবাজার শহর ও উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির তিব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমন শঙ্কায় ওয়াটার -এনার্জি -লাইভলিহোড (ওয়েল) নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়াও চলমান রয়েছে রেইন ওয়ার্টার হার্ভেস্টিং প্রকল্প। সব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুপেয় পানি সংকট দুর হবে। একই সাথে সাগরের লবনাক্ত পানি পরিশোধন করে কিভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।