০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুরে বিএনপির জেলা কার্যালয় নিয়ে বিরোধ : সংবাদ সম্মেলন করলেন সবেক মন্ত্রী

জামালপুরে বিএনপি’র জেলা কার্যালয় নিয়ে বিরোধ, মিথ্যা অভিযোগ এবং সংবাদপত্র সহ অন্যান্য মিডিয়াতে অসত্য খবর পরিবেশনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলেন সবেক উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভোলা মল্লিক।

সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে শহরের সকাল বাজারস্থ একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আরমান, ছাত্রদলের সবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানী প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহরের স্টেশন রোডের সফি মিয়ার বাজার মোড়ে আমার পিতা নাজমুল হকের ক্রয়কৃত সম্পতিতে টিনসেট হাফ বিল্ডিং ঘর রয়েছে। এই সম্পতি আমার বাবা আমার বড় ছেলে বাবুর নামে লিখে দেয়। সেখানে আমার ছোট ভাই রুবেল আজিজ বিড়ির এজেন্সি নিয়ে ব্যবহার করতো ঘরটি।

তৎকালীন জেলা বিএনপির কোন অফিস না থাকায় আমি আমার ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খালি করে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে ওয়ারেছ আলী মামুনকে বিএনপি অফিস পরিচালনা করার দায়িত্ব দেই। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়টি তার ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করে এবং তার অনুসারী ছাড়া বিএনপির কোন নেতা কর্মীকে দলীয় অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ১৮ বছর আমি যদি অফিসটির ভাড়া হিসেবে ধরতাম তাহলে এ পর্যন্ত ভাড়া বাবদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা হতো। এখানে দলের কার্যক্রম চলবে তাই বিনামূল্যে অফিসটি ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু দলের সার্বিকভাবে অফিসটি ব্যবহার হচ্ছে না করে, ব্যক্তিগত চেম্বারে পরিণত হয়েছে।

অফিস ঘরের মালিক আমার বড় ছেলে বাবু ঘরের বিষয়ে কথা বলতে গেলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন, তার বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান ও তাদের ভাগিনা খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলসহ সন্ত্রাসীরা মারধর করে আমার ছেলে বাবুকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তাদের কবল থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে সকলে আমাদের উপর মারমূখী হয়ে উঠে। আমি ও আমার ছেলের জীবন বাঁচাতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্সকৃত পিস্তল উচিয়ে আমার ছেলেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করি।

প্রকৃত এই ঘটনা বিকৃত করে ঘটনার খন্ডাংশের ভিডিও ক্লিপ ও মিথ্যা তথ্য চালিয়েছে। যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রাণোদিত। মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচার করায় সংবাদ সম্মেলন থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুনের বিরুদ্ধে শহরে জমি দখল, ৫ আগস্ট পরবর্তী বালু মহাল থেকে কমিশন, আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া অসমাপ্ত কাজের ঠিকাদারি, বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখলসহ দল থেকে অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বিতাড়িত করে দলে পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, অভিযোগ তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করাই যায়। সে রাজনৈতিকভাবে অভিযোগ করতেই পারে কিন্তু এগুলির তো সত্যতা থাকতে হবে। বিগত দিনে আমার বিরুদ্ধে যারা দলীয় পদ-পদবী এবং নমিনেশন পাওয়ার জন্য বিরোধীতা করেছে তারাই আজকে সংবাদ সম্মেলন করেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের কোন সত্যতা বা প্রমাণ তাদের হাতে নেই। আর উনি যেসব অভিযোগ করেছে এগুলি বরং বিএনপির ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের জেলা বিএনপির অফিসটি তাদের জায়গায় এটা অস্বীকার করার কিছুই নাই। কিন্তু উনি যে প্রক্রিয়ায় অফিস বন্ধ করতে চায় এটা ঠিক না। আমাদের বললে আমরা অফিস ছেড়ে দিবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

জামালপুরে বিএনপির জেলা কার্যালয় নিয়ে বিরোধ : সংবাদ সম্মেলন করলেন সবেক মন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫

জামালপুরে বিএনপি’র জেলা কার্যালয় নিয়ে বিরোধ, মিথ্যা অভিযোগ এবং সংবাদপত্র সহ অন্যান্য মিডিয়াতে অসত্য খবর পরিবেশনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করলেন সবেক উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম ও জেলা বিএনপির সবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন ভোলা মল্লিক।

সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে শহরের সকাল বাজারস্থ একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আরমান, ছাত্রদলের সবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানী প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনে সাবেক উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহরের স্টেশন রোডের সফি মিয়ার বাজার মোড়ে আমার পিতা নাজমুল হকের ক্রয়কৃত সম্পতিতে টিনসেট হাফ বিল্ডিং ঘর রয়েছে। এই সম্পতি আমার বাবা আমার বড় ছেলে বাবুর নামে লিখে দেয়। সেখানে আমার ছোট ভাই রুবেল আজিজ বিড়ির এজেন্সি নিয়ে ব্যবহার করতো ঘরটি।

তৎকালীন জেলা বিএনপির কোন অফিস না থাকায় আমি আমার ভাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খালি করে জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় হিসাবে ওয়ারেছ আলী মামুনকে বিএনপি অফিস পরিচালনা করার দায়িত্ব দেই। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়টি তার ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করে এবং তার অনুসারী ছাড়া বিএনপির কোন নেতা কর্মীকে দলীয় অফিসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ১৮ বছর আমি যদি অফিসটির ভাড়া হিসেবে ধরতাম তাহলে এ পর্যন্ত ভাড়া বাবদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা হতো। এখানে দলের কার্যক্রম চলবে তাই বিনামূল্যে অফিসটি ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু দলের সার্বিকভাবে অফিসটি ব্যবহার হচ্ছে না করে, ব্যক্তিগত চেম্বারে পরিণত হয়েছে।

অফিস ঘরের মালিক আমার বড় ছেলে বাবু ঘরের বিষয়ে কথা বলতে গেলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন, তার বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান ও তাদের ভাগিনা খন্দকার আহসানুজ্জামান রুমেলসহ সন্ত্রাসীরা মারধর করে আমার ছেলে বাবুকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে তাদের কবল থেকে আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে সকলে আমাদের উপর মারমূখী হয়ে উঠে। আমি ও আমার ছেলের জীবন বাঁচাতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্সকৃত পিস্তল উচিয়ে আমার ছেলেকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করি।

প্রকৃত এই ঘটনা বিকৃত করে ঘটনার খন্ডাংশের ভিডিও ক্লিপ ও মিথ্যা তথ্য চালিয়েছে। যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রাণোদিত। মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচার করায় সংবাদ সম্মেলন থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুনের বিরুদ্ধে শহরে জমি দখল, ৫ আগস্ট পরবর্তী বালু মহাল থেকে কমিশন, আওয়ামী লীগের ফেলে যাওয়া অসমাপ্ত কাজের ঠিকাদারি, বাসস্ট্যান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখলসহ দল থেকে অসংখ্য নেতা-কর্মীদের বিতাড়িত করে দলে পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, অভিযোগ তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করাই যায়। সে রাজনৈতিকভাবে অভিযোগ করতেই পারে কিন্তু এগুলির তো সত্যতা থাকতে হবে। বিগত দিনে আমার বিরুদ্ধে যারা দলীয় পদ-পদবী এবং নমিনেশন পাওয়ার জন্য বিরোধীতা করেছে তারাই আজকে সংবাদ সম্মেলন করেছে। কিন্তু এসব অভিযোগের কোন সত্যতা বা প্রমাণ তাদের হাতে নেই। আর উনি যেসব অভিযোগ করেছে এগুলি বরং বিএনপির ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের জেলা বিএনপির অফিসটি তাদের জায়গায় এটা অস্বীকার করার কিছুই নাই। কিন্তু উনি যে প্রক্রিয়ায় অফিস বন্ধ করতে চায় এটা ঠিক না। আমাদের বললে আমরা অফিস ছেড়ে দিবো।