০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে চবিতে বিক্ষোভ, ইসরায়েলি পন্য বয়কটের দাবি

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতম ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ জনতা অংশ নেয়।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদুল হকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারীসহ উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব সভ্যতার নামে যারা মানবতা শেখায় তারা আজ ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আজকে বিশ্বের বিবেক কোথায়? আমরা হয়তো সরাসরি ফিলিস্তিনকে সাহায্য করতে পারবো না, তবে নিজ ও পরিবার থেকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে পারবো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল এবং থাকবে। ফিলিস্তিনে মানবতা বিরোধী যে কার্যকলাপ বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ ও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী বলেন, আমাদের প্রতিবাদ ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে, যারা ফিলিস্তিনে নারী, শিশু, বৃদ্ধাকে হত্যা করছে। আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ জুড়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন প্রতিবাদ হচ্ছে কিন্তু বিশ্ববিবেক আজ নিরব। ওআইসি, জাতিসংঘ, আরবলীগ এ বিষয়ে কোন ভূমিকা পালন করছে না। আমরা আশা করি বিশ্ববিবেক দাঁড়াবে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ করবে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আজ আমাদের একটাই এজেন্ডা তা গাজাবাসিকে রক্ষা করার এজেন্ডা। আমাদের প্রতিবাদ তাদের বিরুদ্ধে যারা নিয়মিতভাবে মানবতা লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু, বৃদ্ধা, নারীদের নৃশংসভাবে হত্যা করছে। আরববিশ্ব রাজনৈতিক কারনে মানবতার পক্ষে কথা বলছে না। জায়োনিস্টরা জ্ঞানের জায়গায় বিচরণ করছে। আমাদের প্রতিবাদের ভাষা হত্যা হয়, জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করা।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, আমরা ছাত্র জীবন থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন মিছিল করছি কিন্তু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। মানব সভ্যতায় এমন হত্যা পৃথিবীর আর কোথায় ঘটেনি। পৃথিবীর ১৪৮টি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জাতিসংঘ কেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না? আরবলীগ, ইসলামী সহযোগী সংস্থা (ওআইসি) কে দ্রুত ফিলিস্তিনের পক্ষে পদক্ষেপ নিয়ে হবে। অন্যথায় এসব সংস্থা ভেঙ্গে দিতে হবে।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, গাজায় যে আক্রমন হচ্ছে তা আমরা বাল্যকাল থেকে দেখে আসছি।আন্তর্জাতিক মহল সকল বিষয়ে সরব কিন্তু ফিলিস্তিনের সময় তারা নিরব কেন? জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে শক্তিশালী জনসম্পদ তৈরী করতে হবে। পুরো পৃথিবী থেকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে হবে। মানবতা বিরোধী কাজ যেখানেই হবে সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করবো।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে চবিতে বিক্ষোভ, ইসরায়েলি পন্য বয়কটের দাবি

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি বর্বরতম ধ্বংসযজ্ঞ ও ভয়াবহতম মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাধারণ জনতা অংশ নেয়।

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শহীদুল হকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারীসহ উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ব সভ্যতার নামে যারা মানবতা শেখায় তারা আজ ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। আজকে বিশ্বের বিবেক কোথায়? আমরা হয়তো সরাসরি ফিলিস্তিনকে সাহায্য করতে পারবো না, তবে নিজ ও পরিবার থেকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে পারবো। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এদেশের মানুষ ফিলিস্তিনের পক্ষে ছিল এবং থাকবে। ফিলিস্তিনে মানবতা বিরোধী যে কার্যকলাপ বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘ ও বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্যা পাটোয়ারী বলেন, আমাদের প্রতিবাদ ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে, যারা ফিলিস্তিনে নারী, শিশু, বৃদ্ধাকে হত্যা করছে। আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ জুড়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন প্রতিবাদ হচ্ছে কিন্তু বিশ্ববিবেক আজ নিরব। ওআইসি, জাতিসংঘ, আরবলীগ এ বিষয়ে কোন ভূমিকা পালন করছে না। আমরা আশা করি বিশ্ববিবেক দাঁড়াবে এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কাজ করবে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আজ আমাদের একটাই এজেন্ডা তা গাজাবাসিকে রক্ষা করার এজেন্ডা। আমাদের প্রতিবাদ তাদের বিরুদ্ধে যারা নিয়মিতভাবে মানবতা লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের নিরপরাধ শিশু, বৃদ্ধা, নারীদের নৃশংসভাবে হত্যা করছে। আরববিশ্ব রাজনৈতিক কারনে মানবতার পক্ষে কথা বলছে না। জায়োনিস্টরা জ্ঞানের জায়গায় বিচরণ করছে। আমাদের প্রতিবাদের ভাষা হত্যা হয়, জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করা।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, আমরা ছাত্র জীবন থেকে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্দোলন মিছিল করছি কিন্তু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেনি। মানব সভ্যতায় এমন হত্যা পৃথিবীর আর কোথায় ঘটেনি। পৃথিবীর ১৪৮টি রাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও জাতিসংঘ কেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না? আরবলীগ, ইসলামী সহযোগী সংস্থা (ওআইসি) কে দ্রুত ফিলিস্তিনের পক্ষে পদক্ষেপ নিয়ে হবে। অন্যথায় এসব সংস্থা ভেঙ্গে দিতে হবে।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার বলেন, গাজায় যে আক্রমন হচ্ছে তা আমরা বাল্যকাল থেকে দেখে আসছি।আন্তর্জাতিক মহল সকল বিষয়ে সরব কিন্তু ফিলিস্তিনের সময় তারা নিরব কেন? জ্ঞান বিজ্ঞানের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আমাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে শক্তিশালী জনসম্পদ তৈরী করতে হবে। পুরো পৃথিবী থেকে ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করতে হবে। মানবতা বিরোধী কাজ যেখানেই হবে সেখানেই আমরা প্রতিবাদ করবো।