১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জুয়ার আসরে পুলিশের হানা,সহযোগিতার অভিযোগে কলেজ ছাত্রকে মারধর

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযানের সময় পুলিশকে সহযোগিতা করায় হামলার শিকার হয়েছেন কলেজ ছাত্র মেহেদি হাসান (২৩)। তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ঝাউগড়া গ্রামের মো. আক্কাছ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গত ৭এপ্রিল রাতে আচারগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব শিবনগর নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছিল। এলাকার জিলু মিয়া (৪৫), শামীম মিয়া (৪২) ও বাশার মিয়া (২৮) এই জুয়ার আসরের মূল হোতা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তাদের আসর বসেছিল। কিন্তু গোপন খবরে জুয়ারস্থলে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এদিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে জুয়াড়িরা তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়।
তবে উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে জুয়াড়িরা
মেহেদী হাসানকে বিভিন্ন ভয় হুমকী দেখাইয়া আসিতে থাকে।০৯ এপ্রিল আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মেহেদি হাসানকে স্থানীয় জুয়াড়িরা রাস্তায় আটকে মারধর করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা জুয়ার আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা এখানে খুবই নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে ওই দিন রাতে পুলিশ সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় সড়কে মেহেদি হাসানকে পেয়ে সেখান থেকেই তাকে নিয়ে জুয়ার আসরে হানা দেয় পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান, ওই এলাকায় জুয়া খেলা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তাদের মতে, পুলিশ যদি আগেই কঠোর পদক্ষেপ নিত, তাহলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।
শাহজাহান নামক আরেক বাসিন্দা বলেন, “এখানে প্রতিদিনই জুয়া খেলা হয়, কিন্তু পুলিশ কখনো আসেনি। আজকে তো পুলিশ এসেছিল, তবে তারা আসার আগেই সবাই পালিয়ে যায়। কিন্তু কাল থেকে আবারও হয়েতো জুয়া খেলা শুরু হবে। এই ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসনকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
মারধরের শিকার কলেজ ছাত্র মেহেদি হাসান বলেন, “আমি শুধু পুলিশের সাহায্য করেছি, কিন্তু এর ফলস্বরূপ আমি হামলার শিকার হলাম। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং জানি না ভবিষ্যতে আমার কী হবে।”
এদিকে জুয়ারিদের মারধর এবং নানা রকম হুমকি-ধামকির ঘটনায় নান্দাইল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন মেহেদি। অভিযোগে স্থানীয় জিলু মিয়া, শামীম মিয়া এবং বাশার মিয়াসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) ঝুটন চন্দ্র সরকার বলেন, “আমরা সংবাদ পেয়ে মেহেদি হাসানকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে মেহেদি হাসানকে মারধর করার ঘটনায় তদন্ত চলছে, এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এবিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

জুয়ার আসরে পুলিশের হানা,সহযোগিতার অভিযোগে কলেজ ছাত্রকে মারধর

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নে জুয়ার আসরে পুলিশের অভিযানের সময় পুলিশকে সহযোগিতা করায় হামলার শিকার হয়েছেন কলেজ ছাত্র মেহেদি হাসান (২৩)। তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ঝাউগড়া গ্রামের মো. আক্কাছ মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গত ৭এপ্রিল রাতে আচারগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব শিবনগর নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছিল। এলাকার জিলু মিয়া (৪৫), শামীম মিয়া (৪২) ও বাশার মিয়া (২৮) এই জুয়ার আসরের মূল হোতা। প্রতিদিনের মতো সেদিনও তাদের আসর বসেছিল। কিন্তু গোপন খবরে জুয়ারস্থলে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এদিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে জুয়াড়িরা তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়।
তবে উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে জুয়াড়িরা
মেহেদী হাসানকে বিভিন্ন ভয় হুমকী দেখাইয়া আসিতে থাকে।০৯ এপ্রিল আচারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মেহেদি হাসানকে স্থানীয় জুয়াড়িরা রাস্তায় আটকে মারধর করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা জুয়ার আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা এখানে খুবই নিষ্ক্রিয় ছিল। তবে ওই দিন রাতে পুলিশ সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করতে যায়। এসময় সড়কে মেহেদি হাসানকে পেয়ে সেখান থেকেই তাকে নিয়ে জুয়ার আসরে হানা দেয় পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জানান, ওই এলাকায় জুয়া খেলা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তাদের মতে, পুলিশ যদি আগেই কঠোর পদক্ষেপ নিত, তাহলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত।
শাহজাহান নামক আরেক বাসিন্দা বলেন, “এখানে প্রতিদিনই জুয়া খেলা হয়, কিন্তু পুলিশ কখনো আসেনি। আজকে তো পুলিশ এসেছিল, তবে তারা আসার আগেই সবাই পালিয়ে যায়। কিন্তু কাল থেকে আবারও হয়েতো জুয়া খেলা শুরু হবে। এই ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় প্রশাসনকে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
মারধরের শিকার কলেজ ছাত্র মেহেদি হাসান বলেন, “আমি শুধু পুলিশের সাহায্য করেছি, কিন্তু এর ফলস্বরূপ আমি হামলার শিকার হলাম। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং জানি না ভবিষ্যতে আমার কী হবে।”
এদিকে জুয়ারিদের মারধর এবং নানা রকম হুমকি-ধামকির ঘটনায় নান্দাইল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন মেহেদি। অভিযোগে স্থানীয় জিলু মিয়া, শামীম মিয়া এবং বাশার মিয়াসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। অভিযোগ প্রসঙ্গে এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
এই প্রসঙ্গে নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) ঝুটন চন্দ্র সরকার বলেন, “আমরা সংবাদ পেয়ে মেহেদি হাসানকে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে জুয়াড়িরা পালিয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে মেহেদি হাসানকে মারধর করার ঘটনায় তদন্ত চলছে, এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এবিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, এবিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।