১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলা নববর্ষ বরণে কক্সবাজারে ব্যাপক আয়োজন থাকছে আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা

দিনব্যাপী কক্সবাজারে নানান আয়োজনে পালিত হচ্ছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন সর্ববৃহৎ উৎসব বাংলা নববর্ষ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২, পহেলা বৈশাখ বরণে ব্যাপক আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন, খেলাঘর সহ কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ বিভিন্ন আয়োজন রেখেছে তারাকা মানের হোটেল গুলো।
পহেলা বৈশাখ, ১৪ এপ্রিল, সকাল ৭টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরির মাঠের বটতলায় কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের যৌথ আয়োজনে এসো হে বৈশাখ এসো এসো গানে গানে বর্ষবরণ সংগীতা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে নৃত্য, আবৃত্তি, তবলার লহরা ও আনন্দ শোভাযাত্রা এবং পান্তা ভাতে আয়োজন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সমুদ্র বালিয়াড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছেন নানা রঙের বর্ষবরণের আয়োজন। সকাল ৮টায় সুগন্ধা পয়েন্ট হতে আনন্দ শুভযাত্রা নিয়ে লাবনী পয়েন্টের মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে গ্রামিন মেলার।
থাকছে প্রতিবারের ন্যায় দেশের অন্যতম গণসংগীত সংগঠন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে শহরের গুলদিঘির পাড়ে বিকেল চারটা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেল গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন বৈশাখী আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পণ্যের প্রদর্শনী। কক্সবাজারের স্হানীয়দের জন্য বিশেষ আয়োজন রেখেছে হোটেলে সীগাল পহেলা বৈশাখের দিন মাত্র ১৪৩২ টাকায় বুফে লাঞ্চ সহ সুইমিংপুলও ব্যবহার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ।
বৈশাখের আয়োজন নিয়ে কথা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে, তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য র‍্যালি মেলাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন শহর কক্সবাজারে ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বিদায় ও ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হবে। সোমবার সকালে তীব্র দাবদাহের কথা চিন্তা করে হোটেল-মোটেল জোনের সী-গাল পয়েন্ট থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের র‍্যালিতে যোগ দেবেন প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পয়লা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ ১৪৩২ এর আহবায়ক খেলাঘর সংগঠক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাংলা সংস্কৃতিকে লালনে প্রতিবছরের নিয়াই এবারও আমরা ব্যাপক আয়োজন করেছি। কক্সবাজারের প্রায়ই খেলাঘর সহ ২০টির মতো সংগঠন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
খেলাঘর কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সুবিমল পাল পান্না বলেন, বাংলা নববর্ষ যেমন সুর ও সংগীতের, মেলা ও মিলনের, আনন্দ অবগাহনের, তেমনিই সাহস ও সংকল্পের। নতুন প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যাশায় বুক বেঁধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ পরমতসহিষ্ণুতা, সদ্ভাব, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং বিবেক ও মনুষ্যত্বের দীক্ষা দিয়ে যায় আমাদের। তাই তো আমরা বলে উঠি- ‘প্রাণে প্রাণে লাগুক শুভ কল্যাণের দোলা, নব আনন্দ বাজুক প্রাণে’। আজ ‘মুছে যাক গস্নানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

বাংলা নববর্ষ বরণে কক্সবাজারে ব্যাপক আয়োজন থাকছে আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৫

দিনব্যাপী কক্সবাজারে নানান আয়োজনে পালিত হচ্ছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত অসাম্প্রদায়িক সার্বজনীন সর্ববৃহৎ উৎসব বাংলা নববর্ষ।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২, পহেলা বৈশাখ বরণে ব্যাপক আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন, খেলাঘর সহ কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ বিভিন্ন আয়োজন রেখেছে তারাকা মানের হোটেল গুলো।
পহেলা বৈশাখ, ১৪ এপ্রিল, সকাল ৭টায় শহরের প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী পাবলিক লাইব্রেরির মাঠের বটতলায় কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের যৌথ আয়োজনে এসো হে বৈশাখ এসো এসো গানে গানে বর্ষবরণ সংগীতা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে নৃত্য, আবৃত্তি, তবলার লহরা ও আনন্দ শোভাযাত্রা এবং পান্তা ভাতে আয়োজন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের সমুদ্র বালিয়াড়িতে অনুষ্ঠিত হচ্ছেন নানা রঙের বর্ষবরণের আয়োজন। সকাল ৮টায় সুগন্ধা পয়েন্ট হতে আনন্দ শুভযাত্রা নিয়ে লাবনী পয়েন্টের মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। গ্রামীণ ঐতিহ্যের বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে গ্রামিন মেলার।
থাকছে প্রতিবারের ন্যায় দেশের অন্যতম গণসংগীত সংগঠন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজনে শহরের গুলদিঘির পাড়ে বিকেল চারটা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কক্সবাজারের তারকা মানের হোটেল গুলোতে রয়েছে বিভিন্ন বৈশাখী আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পণ্যের প্রদর্শনী। কক্সবাজারের স্হানীয়দের জন্য বিশেষ আয়োজন রেখেছে হোটেলে সীগাল পহেলা বৈশাখের দিন মাত্র ১৪৩২ টাকায় বুফে লাঞ্চ সহ সুইমিংপুলও ব্যবহার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ।
বৈশাখের আয়োজন নিয়ে কথা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সাথে, তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের বর্ণাঢ্য র‍্যালি মেলাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটন শহর কক্সবাজারে ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বিদায় ও ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হবে। সোমবার সকালে তীব্র দাবদাহের কথা চিন্তা করে হোটেল-মোটেল জোনের সী-গাল পয়েন্ট থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা সৈকতের লাবণী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হবে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের র‍্যালিতে যোগ দেবেন প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পয়লা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ ১৪৩২ এর আহবায়ক খেলাঘর সংগঠক সাবেক পৌর কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাংলা সংস্কৃতিকে লালনে প্রতিবছরের নিয়াই এবারও আমরা ব্যাপক আয়োজন করেছি। কক্সবাজারের প্রায়ই খেলাঘর সহ ২০টির মতো সংগঠন এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে।
খেলাঘর কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি সুবিমল পাল পান্না বলেন, বাংলা নববর্ষ যেমন সুর ও সংগীতের, মেলা ও মিলনের, আনন্দ অবগাহনের, তেমনিই সাহস ও সংকল্পের। নতুন প্রতিজ্ঞা ও প্রত্যাশায় বুক বেঁধে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায় বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ পরমতসহিষ্ণুতা, সদ্ভাব, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং বিবেক ও মনুষ্যত্বের দীক্ষা দিয়ে যায় আমাদের। তাই তো আমরা বলে উঠি- ‘প্রাণে প্রাণে লাগুক শুভ কল্যাণের দোলা, নব আনন্দ বাজুক প্রাণে’। আজ ‘মুছে যাক গস্নানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’।