আওয়ামী লীগের শাসনামলে চাটখিল উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদে জীবনযাপন করলেও সরকারের পতনের পর পুলিশি নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা, চাঁদাবাজি, দখল, মাদক কারবার, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
গত বরিবার সন্ধ্যায় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক জুয়েলকে চাটখিল বাজারে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে সিএনজিতে করে তুলে নিয়ে যায়। ভোর রাতে সেনা বাহিনী তাকে উদ্ধার করে। জুয়েল সাংবাদিকতার পেশা এবং ব্যবসার কারণে তার পরিজন নিয়ে চাটখিলে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন।
সংবাদিক জুয়েলকে অপহরণ নির্মম নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাটখিল এবং দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকা রামনারায়পুর ও খিলপাড়া ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী এলাকার ৮/১০ টি কিশোর গ্যাং অত্যচার নির্যাতনে বিষয়ে আলোচনায় আসে এবং এলাকাবাসী চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না জানা যায়। তারা দ্রুত সেনাবাহিনীর অভিযান চান এলাকাবাসী।
চাটখিলের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকা রামনারায়পুর ও খিলপাড়া ইউনিয়ন এবং পাশ্ববর্তী এলাকার ৮/১০ টি কিশোর গ্যাং ২০/২৫জন অস্ত্রধারী সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিভিন্ন মামলায় মৃত্যু দন্ডাদেশ প্রাপ্ত যাবৎ জীবন সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী রয়েছে। এরা প্রকাশে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এলাকায় ২/৩ জন গডফাদার রয়েছে। যাদের নিদের্শে ও নিয়ন্ত্রণে থেকে এ সব কিশোর গ্যাং ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। এরা ১০/১২ জন করে কয়েকটি গ্রুপ দিনে এবং রাতে মহড়া দিছেন এমন তথ্য উঠেছে।
এলাকায় ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে এসে হামলা, ভাংচুর, লুটপাটের শিকার হয় বৈকুন্টপুর গ্রামের সজিব, রামনারায়নপুর গ্রামের ডোলবাড়ীর হারুন ও তার পরিবারের সদস্যগণ।
সব ঘটনায় থানায় লিখিত দেওয়া হলেও থানা পুলিশ আমলে না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে নির্যাতিত কয়েকজন ভূক্তভোগী সংবাদিকদের জানান, শ্রীপুর গ্রামের মোল্লাবাড়ীর আহসান হাবিব বাবু মোল্লা, দিপু মোল্লা, ডাঃ তৌহিদ, আবুল কাশেম মেম্বার, দক্ষিণ দেলিয়াই গ্রামের হাদা বাড়ীর ভ্যান চালক বাবুলের ঘর, বৈকুন্টপুর গ্রামের মেহরাব হোসেন হৃদয়ের ঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হৃদয়ের ঘরের ৩ মহিলা শিং বাহড়া সাদি মোল্লা বাড়ীর বয়বৃদ্ধ রুহুল আমিন (৬০) হামলা শিকার হয়ে গুরুত্ব আহত হয়েছে।
এছাড়াও এলাকায় চালছে নিরবে চাঁদবাজি। কিশোর গ্যাং এবং সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডে অনেকে ঘর থেকে বের হন না। আবার অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন। নির্যাতনের ভয়ে কেউ এ সব অপকার্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অভিযোগ করছেন না। এলাকা যে এখন অপরাধের স্বর্গরাজ্য পরিণত হয়েছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় খিলপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ব্যাপক কাজ করছে।






















