০৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে মাহা সাংগ্রাই পোয়ে (জলকেলি) উৎসব

কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে মাহা সাংগ্রাই পোয়ে (জলকেলি) উৎসব।
১৭ এপ্রিল,বৃহস্পতিবার ১৩৮৬ মণীসনকে বিদায় জানিয়ে সানন্দে বরণ করে নিল ১৩৮৭ মণীসনকে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা বর্ষ বরণে প্রতিবছরের ন্যায় তিনদিন ব্যাপী, জাঁকজমকভাবে পালন করছে সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলি উৎসব।
শহরের টেকপাড়ায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে মুল জলকেলি মন্ডপে জমে উঠেছে সাংগ্রই পোয়ে জলকেলি উৎসব।
দলগত ভিত্তিক নানা পোশাকে সজ্জিত রাখাইন তরুণীরা জলকেলিতে মেতে উঠেছেন। বাহারি সাজে সাজানো মণ্ডপের মাঝখানে রাখা হয়েছে জলভর্তি নৌকা। দলে দলে রাখাইন তরুণ তরুণীরা নেচে গেয়ে আসছে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে চলে যাচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের ক্যাং পাড়া, উমাতারা ক্যাং মাঠ, পূর্ব মাছ বাজার, পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড ও চাউল বাজার এলাকায় রঙিন সাজসজ্জায় জলকেলির মন্ডপ তৈরি করা হয়।
এ ছাড়া মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, হারবাং, রামু, চৌফলদন্ডী, হ্নীলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে রাখাইন জনবসতি এলাকায় একই আয়োজন চলছে বলে জানান রাখাইন নেতারা।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মং ছেলা রাখাইন জানান, কক্সবাজার শহরে ২০টির মতো,জেলার অন্যন্য উপজেলায় ২০ টিরমতো মোট ৪০টি জলকেলি মন্ডবে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নগদ অর্থ সহায়তা করেছে। এই উৎসব কোনো ধর্মীয় রীতির ভিত্তিতে নয়। সামাজিক রীতিমতে, রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রাখাইনরা একে অপরকে পানি ছোড়ার খেলায় মেতে উঠেছে। নতুন বছর যেন সকলের মঙ্গল বয়ে আনে। আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের।
কক্সবাজার ক্যাং পাড়ার তরুণী লালা মে রাখাইন জানান, সাংগ্রাই পোয়ে ৩ দিনের এ উৎসবকে আমাদের ভাষায় বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে’। সকাল থেকে এলাকাভিত্তিক শোভাযাত্রা বাহারী পোশাক, দলগতভাবে একরকম পোশাক পরিহিত করে প্যান্ডেলে, প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো,তরুণ  তরুণীদের নাচে গানে আনন্দের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয় পান করবে। একে-অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পুরাতন বছরের সব পাপ, ক্লান্তি আর অসঙ্গতি মুছে-ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে আমাদের এ আয়োজন।
আরেক রাখাইন তরুণী নোমে রাখাইন জানান, আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সবাই। এর মাধ্যমে আমরা একে-অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র ও উৎসবের দিন।
রাখাইন সম্প্রদায়ের এই বর্ষবরণ উৎসব উপভোগ করছেন স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা রাখাইন পল্লীর জলকেলির মন্ডপগুলোতে গিয়ে জল ছেটানোসহ নানা উৎসব উপভোগ করতে দেখা যায়।
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে মাহা সাংগ্রাই পোয়ে (জলকেলি) উৎসব

আপডেট সময় : ০৭:২২:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৫
কক্সবাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হচ্ছে মাহা সাংগ্রাই পোয়ে (জলকেলি) উৎসব।
১৭ এপ্রিল,বৃহস্পতিবার ১৩৮৬ মণীসনকে বিদায় জানিয়ে সানন্দে বরণ করে নিল ১৩৮৭ মণীসনকে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইনরা বর্ষ বরণে প্রতিবছরের ন্যায় তিনদিন ব্যাপী, জাঁকজমকভাবে পালন করছে সাংগ্রাই পোয়ে বা জলকেলি উৎসব।
শহরের টেকপাড়ায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আয়োজনে মুল জলকেলি মন্ডপে জমে উঠেছে সাংগ্রই পোয়ে জলকেলি উৎসব।
দলগত ভিত্তিক নানা পোশাকে সজ্জিত রাখাইন তরুণীরা জলকেলিতে মেতে উঠেছেন। বাহারি সাজে সাজানো মণ্ডপের মাঝখানে রাখা হয়েছে জলভর্তি নৌকা। দলে দলে রাখাইন তরুণ তরুণীরা নেচে গেয়ে আসছে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে চলে যাচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের ক্যাং পাড়া, উমাতারা ক্যাং মাঠ, পূর্ব মাছ বাজার, পশ্চিম মাছ বাজার, ফুলবাগ সড়ক, হাঙর পাড়া, টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল রোড ও চাউল বাজার এলাকায় রঙিন সাজসজ্জায় জলকেলির মন্ডপ তৈরি করা হয়।
এ ছাড়া মহেশখালী, টেকনাফ, চকরিয়া, হারবাং, রামু, চৌফলদন্ডী, হ্নীলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে রাখাইন জনবসতি এলাকায় একই আয়োজন চলছে বলে জানান রাখাইন নেতারা।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালক মং ছেলা রাখাইন জানান, কক্সবাজার শহরে ২০টির মতো,জেলার অন্যন্য উপজেলায় ২০ টিরমতো মোট ৪০টি জলকেলি মন্ডবে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নগদ অর্থ সহায়তা করেছে। এই উৎসব কোনো ধর্মীয় রীতির ভিত্তিতে নয়। সামাজিক রীতিমতে, রাখাইন নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রাখাইনরা একে অপরকে পানি ছোড়ার খেলায় মেতে উঠেছে। নতুন বছর যেন সকলের মঙ্গল বয়ে আনে। আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের।
কক্সবাজার ক্যাং পাড়ার তরুণী লালা মে রাখাইন জানান, সাংগ্রাই পোয়ে ৩ দিনের এ উৎসবকে আমাদের ভাষায় বলা হয় ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে’। সকাল থেকে এলাকাভিত্তিক শোভাযাত্রা বাহারী পোশাক, দলগতভাবে একরকম পোশাক পরিহিত করে প্যান্ডেলে, প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো,তরুণ  তরুণীদের নাচে গানে আনন্দের পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যবাহী পানীয় পান করবে। একে-অপরকে পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে পুরাতন বছরের সব পাপ, ক্লান্তি আর অসঙ্গতি মুছে-ধুয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে আমাদের এ আয়োজন।
আরেক রাখাইন তরুণী নোমে রাখাইন জানান, আদিকাল থেকে রাখাইন নববর্ষ উপলক্ষে সামাজিকভাবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব পালন হয়ে আসছে। এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। আনন্দ-উল্লাসে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে সবাই। এর মাধ্যমে আমরা একে-অপরের গায়ে পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে পুরনো দিনের সব ব্যথা, বেদনা, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। এটি আমাদের কাছে খুবই পবিত্র ও উৎসবের দিন।
রাখাইন সম্প্রদায়ের এই বর্ষবরণ উৎসব উপভোগ করছেন স্থানীয় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন। তারা রাখাইন পল্লীর জলকেলির মন্ডপগুলোতে গিয়ে জল ছেটানোসহ নানা উৎসব উপভোগ করতে দেখা যায়।