১২:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনের ঢালচর বিএনপি নেতা মনির বেপারীর চাঁদাবাজিও দখল বাণিজ্য চরমে

ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, লুটতরাজ জুলুমবাজি ও প্রভাব বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ ওঠেছে। পাহাড়সম অপকর্মের হোতা ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই নেতা চাঁদাবাজি করে প্রায় বিপুল পরিমাণ অর্থ কড়ির মালিক হয়েছেন। তার চাঁদাবাজির হাত থেকে অসহায় গরীব লোকজন ও রেহাই পাচ্ছে না। কেউ তার দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিতে চাইলে সে তার অনুগত বাহিনী দিয়ে লোকজনের ওপর নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। সম্প্রতি অসহায় অনেক জেলে তার নির্যাতনে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকেই প্রতি মাসে ভিজিডি, ভিজিএফ এর চাউল প্রকৃত ব্যক্তিদের না দিয়ে এই নেতা প্রতিবার ৩০/ ৪০ বস্তা করে চাউল নিজ বাসায় নিতেন। কয়েক দিন আগেও জেলে কার্ডের চাউল জেলেদের না দিয় ৪২ বস্তা চাউল নিজ বাড়ীতে নিয়ে যান। বিএনপির এ নেতার পাহাড় পরিমাণ অপকর্মে শুধু সাধারণ মানুষ নয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও চরম ক্ষুব্ধ এবং বিব্রত। কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
অভিযোগে জানযায়, ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনির বেপারী ঢালচরের ইউনিয়নের বয়ারচরের সরকারি চর ও খালসহ অধিকাংশ খাল দখল করে বিক্রি করে দিয়েছেন কাকড়া এবং মৎস্য ব্যসায়ীদের কাছে এতে খাল ক্রয়কারীরা খালে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করায় খালগুলোতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয় গেছে। অন্য দিকে সরকার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হত দরিদ্র সাধারণ মানুষ মাছ শিকার করতে না পারায় জীবিকা নির্বাহে চরম সংকটে পড়ছে।
এ নিয়ে স্থানীয়া জনসাধারণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে ঢালচর বীটের কর্মকর্তা নাসিম খুসবো চলতি মাসের ১৪ তারিখ গিয়ে খালের চারটি বাঁধ কেটে দেন।
মনির বেপারী সরকারী চর-খাল দখল করেই ক্ষান্ত হননি। গরীবের অধিকারও লুটপাট করছেন। ৫ আগস্টের পর প্রতিমাসে ভিজিএফ – ভিজিডি ও জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাউল প্রতিমাসে ৩০/৪০ বস্তা করে চাউল নিজের বাসায় নিতেন। পরবর্তীতে এসব চাউল অন্যত্র বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পর ৪২ বস্তা চাউল অটো রিকশা বোঝাই করে নিজের বাসায় নিয়ে যান।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে মনির বেপারী বলেন, এসব কাজের সাথে আমি জড়িত নই, আমি আমার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
খাল দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢালচর বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা নাসিম খুশবু বলেন, আমরা খালে বাধ দেওয়ার খবর পেয়ে গত ১৪ তারিখ বয়ার চরের খালের চারটি বাঁধ কেটে দিয়েছি। কারা দখল করে খালে বাঁধ দিয়েছে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোট পর্যবেক্ষণে দেশি-বিদেশি সাড়ে ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষক

চরফ্যাশনের ঢালচর বিএনপি নেতা মনির বেপারীর চাঁদাবাজিও দখল বাণিজ্য চরমে

আপডেট সময় : ০২:১৭:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নের বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য, লুটতরাজ জুলুমবাজি ও প্রভাব বিস্তারের ব্যাপক অভিযোগ ওঠেছে। পাহাড়সম অপকর্মের হোতা ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই নেতা চাঁদাবাজি করে প্রায় বিপুল পরিমাণ অর্থ কড়ির মালিক হয়েছেন। তার চাঁদাবাজির হাত থেকে অসহায় গরীব লোকজন ও রেহাই পাচ্ছে না। কেউ তার দাবীকৃত চাঁদার টাকা না দিতে চাইলে সে তার অনুগত বাহিনী দিয়ে লোকজনের ওপর নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতন চালায়। সম্প্রতি অসহায় অনেক জেলে তার নির্যাতনে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকেই প্রতি মাসে ভিজিডি, ভিজিএফ এর চাউল প্রকৃত ব্যক্তিদের না দিয়ে এই নেতা প্রতিবার ৩০/ ৪০ বস্তা করে চাউল নিজ বাসায় নিতেন। কয়েক দিন আগেও জেলে কার্ডের চাউল জেলেদের না দিয় ৪২ বস্তা চাউল নিজ বাড়ীতে নিয়ে যান। বিএনপির এ নেতার পাহাড় পরিমাণ অপকর্মে শুধু সাধারণ মানুষ নয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও চরম ক্ষুব্ধ এবং বিব্রত। কিন্তু তার ভয়ে কেউ মুখ খুলছে না।
অভিযোগে জানযায়, ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনির বেপারী ঢালচরের ইউনিয়নের বয়ারচরের সরকারি চর ও খালসহ অধিকাংশ খাল দখল করে বিক্রি করে দিয়েছেন কাকড়া এবং মৎস্য ব্যসায়ীদের কাছে এতে খাল ক্রয়কারীরা খালে বাধ দিয়ে মাছ চাষ করায় খালগুলোতে পানি প্রবাহ বন্ধ হয় গেছে। অন্য দিকে সরকার নিলামের মাধ্যমে বিক্রি না হওয়ায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। হত দরিদ্র সাধারণ মানুষ মাছ শিকার করতে না পারায় জীবিকা নির্বাহে চরম সংকটে পড়ছে।
এ নিয়ে স্থানীয়া জনসাধারণের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হলে ঢালচর বীটের কর্মকর্তা নাসিম খুসবো চলতি মাসের ১৪ তারিখ গিয়ে খালের চারটি বাঁধ কেটে দেন।
মনির বেপারী সরকারী চর-খাল দখল করেই ক্ষান্ত হননি। গরীবের অধিকারও লুটপাট করছেন। ৫ আগস্টের পর প্রতিমাসে ভিজিএফ – ভিজিডি ও জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাউল প্রতিমাসে ৩০/৪০ বস্তা করে চাউল নিজের বাসায় নিতেন। পরবর্তীতে এসব চাউল অন্যত্র বিক্রি করে দেন। সম্প্রতি পবিত্র ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পর ৪২ বস্তা চাউল অটো রিকশা বোঝাই করে নিজের বাসায় নিয়ে যান।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে মনির বেপারী বলেন, এসব কাজের সাথে আমি জড়িত নই, আমি আমার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
খাল দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢালচর বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা নাসিম খুশবু বলেন, আমরা খালে বাধ দেওয়ার খবর পেয়ে গত ১৪ তারিখ বয়ার চরের খালের চারটি বাঁধ কেটে দিয়েছি। কারা দখল করে খালে বাঁধ দিয়েছে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।