০১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সয়াবিন খুচরায় সরবরাহ সংকট

সয়াবিন তেলের সংকট কাটছে না কিছুতেই। দাম বাড়ানো নিয়ে কয়েক দফায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক
হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই আগেই তেলের মজুদ করেছেন ক্রেতারা। ফলে
একলাফে ১৪ টাকা দাম বাড়ায় তেল বিক্রিতে ভাটা পড়েছে সবখানে। মজুদ পর্যাপ্ত থাকার পরও
চাহিদা কম থাকায় নগরের খুচরা দোকানে সরবরাহ কমেছে। এর মধ্যে দাম কমানোর কার্যকরী
কোনো উদ্যোগ না নিলে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন
সংশ্লিষ্টরা।চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, পাইকারিতে
মণ প্রতি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়, আর পাম তেলের দাম রয়েছে ৫ হাজার
৮৫০ টাকা। এছাড়া বেশি সংখ্যক বোতলজাত সয়াবিন তেল নিলে লিটার প্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০
টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে সরকারিভাবে তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৯ টাকা নির্ধারণ
করলেও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা পর্যায়ে এই তেলগুলো বিক্রি হচ্ছে
লিটার প্রতি ১৯০ টাকা, আর পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্চে ৯২২ থেকে ৯৩০ টাকায়।  তেলের
আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় মজুদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড
ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের বন্দর, কাস্টম ও ভ্যাট বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম বলেন,
‘৩১ মার্চ পর্যন্ত সরকার ডিউটি শতভাগ প্রত্যাহার করেছিল রমজানের বাজার ঠিক রাখার জন্য।
৩১ মার্চের পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাস্টমসের সফটওয়ারে ডিউটি আগের নিয়মে চালু হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম নিম্নমুখী। তাই ডিউটি বেড়ে যাওয়ার কারণে যে
পরিমাণ দাম বাড়ার কথা, সেটা বাড়েনি।’দাম আরও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি
বলেন, সরকার আবার এআইটি (এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) ৫ শতাংশ প্রত্যাহার করেছে। তাই
বাজার পড়তির দিকে। সরবরাহও ঠিক আছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মজুদও বেশি আছে। আশা
করছি, ঈদুল আজহা পর্যন্ত সয়াবিন তেলের কোনো সংকট হবে না।’অন্যদিকে উত্তর কাট্টলী,
পাহাড়তলী, খুলশী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার স্থানীয় দোকানে তেলের সরবরাহ কমে গেছে।
ক্রেতাও কম। কিন্তু কোম্পানির কাছে তেলের অর্ডার দিয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন
দোকানদাররা। এ নিয়ে ওয়ারলেস এলাকার স্থানীয় বাবলা বলেন, ‘আমরা এতো কিছু বুঝি না। যে
আমাদের কম দামে বাজার করার সুযোগ করে দিবে, আমরা তার পক্ষে। রমজানে জিনিসপত্রের দাম
কম থাকায় মানুষ ইউনূস সরকারকে চাইছে। এখন আবার যদি দাম বাড়া শুরু করে মানুষ মত
পাল্টাবে। তাই সরকার কিভাবে দাম কমাবে, কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ
করবে, সেটা সরকারের বিষয়।’উত্তর কাট্টলীর দোকানি উজ্জ্বল দে বলেন, ‘সয়াবিন তেল বিক্রি
এখন হচ্ছে না বললেই চলে। মানুষ তেলের দাম বাড়ার আগেই কিনে নিয়েছে। আমরা দাম বাড়াই নাই।
দোকানে দেখেন, তেল আছে নাকি। পরশু দিন অর্ডার কেটে নিয়ে গেছে। এখনও তেল আসে নাই।
ক্রেতারা এসে ফেরত যাচ্ছে। আর বড় দোকানগুলো তেল স্টক করে রেখেছে। কেনা দামের চেয়ে বেশি
দামে বিক্রিও করছে।’খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.
আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমদানি নির্ভর হওয়ায় সয়াবিন তেলের দামটা সম্পূর্ণ মিলের উপর
নির্ভর করে। বাংলাদেশে এখন চারটা মিল আছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের বাজার নিয়ে এ বিষয়ে
জানতে পারবেন টিকে গ্রুপ থেকে। বাজারে আসলে তেলের দাম নিয়ে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ীর পরিমাণ বাড়লে বাজার ব্যবস্থা আরও ভালো হতো। সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে বলতে
গেলে ইলিয়াস ব্রাদার্স, দাদা গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ দেউলিয়া হয়ে গেছে। আর নতুন করে রিফাইনারি
মিল করাটা সময় স্বাপেক্ষ।’দাম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে
পৃথিবীতে কোথাও কোনো খোলা তেল বিক্রি হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে উৎসাহিত করা হয়।
বিষয়টি অস্বাস্থ্যকর হলেও তা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। খোলা তেল বন্ধ করে দিয়ে

বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ বোতলজাত ও পলিপ্যাক তেল বিক্রি করতে পারে। এতে দাম ও
মেয়াদ উল্লেখ থাকায় কোনো ব্যবসায়ী চাইলেও মজুদ করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করতে পারবে
না।’খুচরা বাজারে সয়বিন তেলের সংকট থাকার কারণ জানতে চাইলে টিকে গ্রুপের বিপণন
কর্মকর্তা নিউটন মল্লিক বলেন, ‘তেলের কোনো সংকট নাই। তবে গত দুইদিন আগে তেলের দাম
পরিবর্তন হয়েছে। তাই চেঞ্জ হয়ে আসতে সময় লাগছে। গত বুধবার ডিও কাটা হয়েছে। আশা
করছি, শনিবার থেকে তেলের সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সয়াবিন খুচরায় সরবরাহ সংকট

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

সয়াবিন তেলের সংকট কাটছে না কিছুতেই। দাম বাড়ানো নিয়ে কয়েক দফায় সরকারের সঙ্গে বৈঠক
হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বিষয়টি আঁচ করতে পেরেই আগেই তেলের মজুদ করেছেন ক্রেতারা। ফলে
একলাফে ১৪ টাকা দাম বাড়ায় তেল বিক্রিতে ভাটা পড়েছে সবখানে। মজুদ পর্যাপ্ত থাকার পরও
চাহিদা কম থাকায় নগরের খুচরা দোকানে সরবরাহ কমেছে। এর মধ্যে দাম কমানোর কার্যকরী
কোনো উদ্যোগ না নিলে ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন
সংশ্লিষ্টরা।চট্টগ্রাম নগরের খাতুনগঞ্জ-চাক্তাইয়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, পাইকারিতে
মণ প্রতি সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়, আর পাম তেলের দাম রয়েছে ৫ হাজার
৮৫০ টাকা। এছাড়া বেশি সংখ্যক বোতলজাত সয়াবিন তেল নিলে লিটার প্রতি ১৭৫ থেকে ১৮০
টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে সরকারিভাবে তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়িয়ে ১৬৯ টাকা নির্ধারণ
করলেও কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। খুচরা পর্যায়ে এই তেলগুলো বিক্রি হচ্ছে
লিটার প্রতি ১৯০ টাকা, আর পাঁচ লিটার বিক্রি হচ্চে ৯২২ থেকে ৯৩০ টাকায়।  তেলের
আন্তর্জাতিক বাজার ও দেশীয় মজুদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড
ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের বন্দর, কাস্টম ও ভ্যাট বিষয়ক সম্পাদক রাইসুল ইসলাম বলেন,
‘৩১ মার্চ পর্যন্ত সরকার ডিউটি শতভাগ প্রত্যাহার করেছিল রমজানের বাজার ঠিক রাখার জন্য।
৩১ মার্চের পর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাস্টমসের সফটওয়ারে ডিউটি আগের নিয়মে চালু হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম নিম্নমুখী। তাই ডিউটি বেড়ে যাওয়ার কারণে যে
পরিমাণ দাম বাড়ার কথা, সেটা বাড়েনি।’দাম আরও কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি
বলেন, সরকার আবার এআইটি (এডভান্স ইনকাম ট্যাক্স) ৫ শতাংশ প্রত্যাহার করেছে। তাই
বাজার পড়তির দিকে। সরবরাহও ঠিক আছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মজুদও বেশি আছে। আশা
করছি, ঈদুল আজহা পর্যন্ত সয়াবিন তেলের কোনো সংকট হবে না।’অন্যদিকে উত্তর কাট্টলী,
পাহাড়তলী, খুলশী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এলাকার স্থানীয় দোকানে তেলের সরবরাহ কমে গেছে।
ক্রেতাও কম। কিন্তু কোম্পানির কাছে তেলের অর্ডার দিয়েও তেল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন
দোকানদাররা। এ নিয়ে ওয়ারলেস এলাকার স্থানীয় বাবলা বলেন, ‘আমরা এতো কিছু বুঝি না। যে
আমাদের কম দামে বাজার করার সুযোগ করে দিবে, আমরা তার পক্ষে। রমজানে জিনিসপত্রের দাম
কম থাকায় মানুষ ইউনূস সরকারকে চাইছে। এখন আবার যদি দাম বাড়া শুরু করে মানুষ মত
পাল্টাবে। তাই সরকার কিভাবে দাম কমাবে, কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ
করবে, সেটা সরকারের বিষয়।’উত্তর কাট্টলীর দোকানি উজ্জ্বল দে বলেন, ‘সয়াবিন তেল বিক্রি
এখন হচ্ছে না বললেই চলে। মানুষ তেলের দাম বাড়ার আগেই কিনে নিয়েছে। আমরা দাম বাড়াই নাই।
দোকানে দেখেন, তেল আছে নাকি। পরশু দিন অর্ডার কেটে নিয়ে গেছে। এখনও তেল আসে নাই।
ক্রেতারা এসে ফেরত যাচ্ছে। আর বড় দোকানগুলো তেল স্টক করে রেখেছে। কেনা দামের চেয়ে বেশি
দামে বিক্রিও করছে।’খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো.
আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমদানি নির্ভর হওয়ায় সয়াবিন তেলের দামটা সম্পূর্ণ মিলের উপর
নির্ভর করে। বাংলাদেশে এখন চারটা মিল আছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামের বাজার নিয়ে এ বিষয়ে
জানতে পারবেন টিকে গ্রুপ থেকে। বাজারে আসলে তেলের দাম নিয়ে কারসাজির কোনো সুযোগ নেই।
ব্যবসায়ীর পরিমাণ বাড়লে বাজার ব্যবস্থা আরও ভালো হতো। সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে বলতে
গেলে ইলিয়াস ব্রাদার্স, দাদা গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ দেউলিয়া হয়ে গেছে। আর নতুন করে রিফাইনারি
মিল করাটা সময় স্বাপেক্ষ।’দাম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে
পৃথিবীতে কোথাও কোনো খোলা তেল বিক্রি হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে উৎসাহিত করা হয়।
বিষয়টি অস্বাস্থ্যকর হলেও তা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না। খোলা তেল বন্ধ করে দিয়ে

বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ বোতলজাত ও পলিপ্যাক তেল বিক্রি করতে পারে। এতে দাম ও
মেয়াদ উল্লেখ থাকায় কোনো ব্যবসায়ী চাইলেও মজুদ করে বাজারে সংকট সৃষ্টি করতে পারবে
না।’খুচরা বাজারে সয়বিন তেলের সংকট থাকার কারণ জানতে চাইলে টিকে গ্রুপের বিপণন
কর্মকর্তা নিউটন মল্লিক বলেন, ‘তেলের কোনো সংকট নাই। তবে গত দুইদিন আগে তেলের দাম
পরিবর্তন হয়েছে। তাই চেঞ্জ হয়ে আসতে সময় লাগছে। গত বুধবার ডিও কাটা হয়েছে। আশা
করছি, শনিবার থেকে তেলের সরবরাহ ঠিক হয়ে যাবে।