জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ১৪ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের পর ৭ মাসের অন্তঃসত্বা হলে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত করানোর মামলার আসামী জাহিদুল ইসলাম গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার টাওয়ার মার্কেট এলাকাস্থ মো. খোকন (৪০) এর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে সরিষাবাড়ী উপজেলার নাথেরপাড়া আওনা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিবের তত্বাবধানে এসআই মো. আসাদুজ্জামান, মো. আতিকুর রহমান এবং মো. আব্দুল্লাহ আল আজাদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের ১২ আগষ্ট সরিষাবাড়ী থানায় ধর্ষিতার বাবা সোহেল রানা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, ১৪ বছরের নাবালিকাকে প্রতিবেশি মো. জাহিদুল (২৩) ভয়ভীতি দেখিয়ে তার নির্মানাধীন ভবনের ভিতর নিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে। ধর্ষনের বিষয়টি কাউকে জানালে খুন করার হুমকি দেয়। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে একাধিক বার জোরপূর্বক ধর্ষন করে। ধর্ষিতা কিশোরী ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। এক পর্যায়ে সে অন্তসত্বা হয়ে পড়ে। ৭ মাস পর ধর্ষিতা অন্তঃসত্বার বিষয়টি জাহিদুলকে জানালে গর্ভের সন্তানটি নষ্ট করার জন্য চাপ দিতে থাকে।সুকৌশলে ধর্ষক তার বোন সুবর্নাকে (১৭) দিয়ে গর্ভপাত করে ঔষধসহ তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওষুধ সেবনের পর গত ১১ এপ্রিল সকাল ৯টায় কিশোরী গর্ভপাত হলে মৃত. ছেলে সন্তান দেন।
গর্ভপাতের পর কিশোরী অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার বেশি অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিশোরী সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নাজমুস সাকিব বলেন, গ্রেপ্তারকৃত জাহিদুলকে সরিষাবাড়ি থানায় পাঠনো হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি বলেন, জামালপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে মামলাটি দ্রুত সময়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সকল কাজ শেষ করা হবে।




















