০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুর মহানগরীতে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নে ভুয়া সদস্যের ছড়াছড়ি

রংপুর বিভাগের সবচেয়ে পুরনো শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি রংপুর বিভাগীয় শহর
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং রাজ-৮১৮)। বর্তমানে এক ভয়াবহ অনিয়ম ও
স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের মুখে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির
মেয়াদ শেষে ৫ হাজারেরও বেশি পেশাবহির্ভূত ব্যক্তিকে ভুয়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এমনকি ভোটার তালিকা ও সাধারণ সভার প্রস্তুতির পেছনেও রয়েছে এই ভুয়া সদস্যদের ওপর ভিত্তি করে
গোপন পরিকল্পনা। অভিযোগ গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উপ-শ্রম পরিচালক, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর,
রংপুর বরাবর লিখিতভাবে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা সকলেই এই ইউনিয়নের নিয়মিত ও
প্রকৃত শ্রমিক সদস্য। অভিযোগের ভাষ্যমতে, বর্তমান কমিটি তিন বছরের মেয়াদে গঠনতন্ত্রের
একাধিক অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে ইউনিয়নে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। গঠনতন্ত্রের ১ ও ৪ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী ইউনিয়নের কর্তব্য ছিল সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ, পরিচয়পত্র নবায়ন ও সদস্যপদ
হালনাগাদ করা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিয়ম কার্যত উপেক্ষিত। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে অন্যান্য এলাকার পেশাবহির্ভূত
হাজার হাজার ব্যক্তিকে সদস্য করে পরিচয়পত্র প্রদান করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত শ্রমিকদের
ভোটাধিকার হরণ এবং অবৈধভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভুয়া
সদস্যদের ভিত্তিতেই তৈরি করা হচ্ছে ভোটার তালিকা। চলছে সাধারণ সভা ডাকার প্রস্তুতি। একটি
অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা শ্রম আইন ও গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
বলছেন, ইউনিয়নের প্রবীণ সদস্য শ্রমিকরা। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, গত ১০ মার্চ
২০২৫-এ তারা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং ৯ এপ্রিল একটি
তদন্তও পরিচালিত হয়। তবে অভিযোগকারীদের সাথে যোগাযোগ না করে, কোনো মতামত না নিয়ে
তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। ইউনিয়নের প্রবীণ সদস্যরা বিভিন্ন
গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে দাবি করে বলেছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ
তদন্ত কমিটি গঠন করে ভুয়া সদস্যদের নাম বাতিল করা আবশ্যক। প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য হালনাগাদ
ও সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা; ভুয়া সদস্য দিয়ে অবৈধ সাধারণ সভা আহ্বান বা
নির্বাচন করার প্রচেষ্টা স্থগিত রাখা। এবং গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রকৃত শ্রমিকদের
অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। একজন প্রবীণ শ্রমিক নেতা তাঁর মন্তব্যে বলেছেনÑএ ধরনের অনিয়ম
শুধু একটি সংগঠনকে দুর্বল করে না, এটি শ্রমিক সংগঠনের উপর শ্রমজীবী শ্রেণির আস্থা
বিনষ্ট করে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস হলে সেখানে দুর্নীতি, ক্ষমতার
অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। তার মতে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত
নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তরের
উচিত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃস্থাপন করা। এ বিষয়ে জানতে
রবিবার রংপুরের আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-শ্রম পরিচালক তুষার কান্তি রায় এর সাথে ফোনে কথা হলে
তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের
সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুশিক্ষা ছাড়া সুনাগরিক গড়ে ওঠে না : ড. আবদুল  মঈন খান

রংপুর মহানগরীতে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নে ভুয়া সদস্যের ছড়াছড়ি

আপডেট সময় : ০১:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

রংপুর বিভাগের সবচেয়ে পুরনো শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি রংপুর বিভাগীয় শহর
ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং রাজ-৮১৮)। বর্তমানে এক ভয়াবহ অনিয়ম ও
স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের মুখে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির
মেয়াদ শেষে ৫ হাজারেরও বেশি পেশাবহির্ভূত ব্যক্তিকে ভুয়া সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এমনকি ভোটার তালিকা ও সাধারণ সভার প্রস্তুতির পেছনেও রয়েছে এই ভুয়া সদস্যদের ওপর ভিত্তি করে
গোপন পরিকল্পনা। অভিযোগ গত ১৬ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে উপ-শ্রম পরিচালক, আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর,
রংপুর বরাবর লিখিতভাবে দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা সকলেই এই ইউনিয়নের নিয়মিত ও
প্রকৃত শ্রমিক সদস্য। অভিযোগের ভাষ্যমতে, বর্তমান কমিটি তিন বছরের মেয়াদে গঠনতন্ত্রের
একাধিক অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে ইউনিয়নে নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। গঠনতন্ত্রের ১ ও ৪ অনুচ্ছেদ
অনুযায়ী ইউনিয়নের কর্তব্য ছিল সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ, পরিচয়পত্র নবায়ন ও সদস্যপদ
হালনাগাদ করা। অভিযোগ অনুযায়ী, এই নিয়ম কার্যত উপেক্ষিত। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটসহ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে অন্যান্য এলাকার পেশাবহির্ভূত
হাজার হাজার ব্যক্তিকে সদস্য করে পরিচয়পত্র প্রদান করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল প্রকৃত শ্রমিকদের
ভোটাধিকার হরণ এবং অবৈধভাবে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভুয়া
সদস্যদের ভিত্তিতেই তৈরি করা হচ্ছে ভোটার তালিকা। চলছে সাধারণ সভা ডাকার প্রস্তুতি। একটি
অবৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা শ্রম আইন ও গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
বলছেন, ইউনিয়নের প্রবীণ সদস্য শ্রমিকরা। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন যে, গত ১০ মার্চ
২০২৫-এ তারা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শ্রম দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং ৯ এপ্রিল একটি
তদন্তও পরিচালিত হয়। তবে অভিযোগকারীদের সাথে যোগাযোগ না করে, কোনো মতামত না নিয়ে
তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন। ইউনিয়নের প্রবীণ সদস্যরা বিভিন্ন
গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে দাবি করে বলেছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ
তদন্ত কমিটি গঠন করে ভুয়া সদস্যদের নাম বাতিল করা আবশ্যক। প্রকৃত শ্রমিকদের তথ্য হালনাগাদ
ও সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা; ভুয়া সদস্য দিয়ে অবৈধ সাধারণ সভা আহ্বান বা
নির্বাচন করার প্রচেষ্টা স্থগিত রাখা। এবং গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রকৃত শ্রমিকদের
অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। একজন প্রবীণ শ্রমিক নেতা তাঁর মন্তব্যে বলেছেনÑএ ধরনের অনিয়ম
শুধু একটি সংগঠনকে দুর্বল করে না, এটি শ্রমিক সংগঠনের উপর শ্রমজীবী শ্রেণির আস্থা
বিনষ্ট করে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস হলে সেখানে দুর্নীতি, ক্ষমতার
অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে থাকে। তার মতে এই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত
নিশ্চিত করা না হলে প্রকৃত শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে। সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তরের
উচিত অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে ইউনিয়নের গণতান্ত্রিক চর্চা পুনঃস্থাপন করা। এ বিষয়ে জানতে
রবিবার রংপুরের আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-শ্রম পরিচালক তুষার কান্তি রায় এর সাথে ফোনে কথা হলে
তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমার দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের
সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।