০১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান জয়সাগর দিঘি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নিমগাছী এলাকায় ঐতিহ্যেবাহী প্রাচীনতম জয়সাগর দিঘি অবস্থিত।রায়গঞ্জ উপজেলায় ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় এই জয়সাগর দিঘি। রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী এলাকায় প্রবাদ আছে ‘যার মাথায় আছে তেল, সে খায় জয়সাগরের বেল। প্রাচীনকালে জয়সাগরের বেলের গুরুত্ব ও দামের বিষয় ইঙ্গিত করে এমন প্রবাদ প্রচলন হয়ে আসছে বলে ধারনা করা হয়।

নিমগাছী বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে এই দিঘিটি অবস্থিত।

প্রায় ৫৮ একর আয়তনের এই দিঘি পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান।

জয়সাগর দিঘি সম্পর্কে বেশ কিছু লোককথা প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায়, সেন বংশীয় রাজা অচ্যুত সেন ছিলেন গৌড়াধিপতি ফিরোজ শাহের করদ রাজা।ফিরোজ শাহের পুত্র বাহাদুর শাহ অচ্যুত সেন রাজার কন্যা ভদ্রাবতীকে অপহরন করে নিমগাছী এলাকায় নিয়ে আসেন এই ঘটনা থেকে উত্তেজিত রাজা অচ্যুত সেন বাহাদুর শাহকে আক্রমণ করেন এবং ১৫৩২-৩৪ খ্রিস্টাব্দে নিমগাছী প্রান্তরে এক মারাত্মক যুদ্ধে জয়লাভ করেন।বিজয়ী হয়ে তিনি ভদ্রাবতীকে উদ্ধার করেন এবং বিজয়ের স্মৃতিরুপে নিমগাছীর কাছে একটি বিশাল দিঘি খনন করেন, যার নাম হয় জয়সাগর।

আবার কেও বলেন, রাজার কোনো ছেলে সন্তান ছিলো না। একদিন এক সাধু রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি যদি আধামাইল দৈর্ঘ্যের একটি দিঘি খনন করেন, তাহলে তার বৃদ্ধ বয়সেও পুত্র সন্তান জন্মাবে। সাধুর উপদেশ মতো রাজা দিঘি খনন করেন। পরের বছর রাজার একটি পুত্র সন্তান হয়।পুত্রের নাম রাখেন জয় কুমার এবং তার নামানুসারে দিঘিটির নাম রাখেন জয়সাগর।

দিঘি খনন করার পরে ১২ বছর পার হওয়ার পরেও দিঘিতে পানি না আসায় রাজা হতাশ হয়ে পড়েন। এক রাতে রাজা সপ্নে দেখলেন, এক সাধু রাজাকে বলছে তোমার ছেলে জয়কুমার বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যদি একমুঠো মাটি তোলে তবেই দিঘিতে পানি উঠবে। অন্যথায় শতবর্ষ ধরে দিঘি খনন করলেও পানির দেখা মিলবে না।

এর পরে রাজা ছেলের বিয়ের আয়োজন করেন বিয়ে শেষে জয়কুমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যেই একমুঠো মাটি তুললেন অমনি পানি উঠে দিঘি
পূর্ন হয়ে যায়। যারফলে এই দিঘির পানিতে রাজার ছেলের মৃত্যুবরন করেন।

এরকম নানা রকম লোককাহিনী নিয়ে প্রাচীন এই দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

জয়সাগর দিঘিটি এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল।প্রতি বছর এখানে অনেক দর্শনার্থী আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে।

এই জয়সাগর দিঘিটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর জন্য জলাশয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হাতে নিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে।এই প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃশরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জয়সাগর রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যেবাহী দিঘি রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী এলাকায় মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালু রয়েছে এই প্রকল্পের আওতায় আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি যেহেতু এই জয়সাগরের অনেক পর্যটক আসে সেইটা মাথায় রেখে বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করছি এবং সামনেও করবো।

এই বিষয়ে নিমগাছী এলাকায় সমাজ ভিত্তিক মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,জয়সাগর দিঘি একটি প্রাচীনতম দিঘি এর পরিচিতি সারাদেশ ব্যাপী রয়েছে। এখানে পর্যটক বাড়ানোর চিন্তা মাথায় রেখে বিভিন্ন কাজ হাতে নিয়েছি। জয়সাগর দিঘিটি সংস্কার করে চারপাশে, পানির সুব্যবস্থা, স্যানিটারি ব্যবস্থা এবং বসার সুব্যবস্থা করার চিন্তা করেছি এতে করে আগত পর্যটকদের সুবিধা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলীমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,জয়সাগর দিঘিটি উন্নয়ন হলে এখানে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। এতে করে জয়সাগরের পরিচিতি অনেকটা বেড়ে যাবে এবং জয়সাগর তার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান জয়সাগর দিঘি

আপডেট সময় : ০১:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের নিমগাছী এলাকায় ঐতিহ্যেবাহী প্রাচীনতম জয়সাগর দিঘি অবস্থিত।রায়গঞ্জ উপজেলায় ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় এই জয়সাগর দিঘি। রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী এলাকায় প্রবাদ আছে ‘যার মাথায় আছে তেল, সে খায় জয়সাগরের বেল। প্রাচীনকালে জয়সাগরের বেলের গুরুত্ব ও দামের বিষয় ইঙ্গিত করে এমন প্রবাদ প্রচলন হয়ে আসছে বলে ধারনা করা হয়।

নিমগাছী বাজার থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে এই দিঘিটি অবস্থিত।

প্রায় ৫৮ একর আয়তনের এই দিঘি পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষনীয় স্থান।

জয়সাগর দিঘি সম্পর্কে বেশ কিছু লোককথা প্রচলিত রয়েছে। শোনা যায়, সেন বংশীয় রাজা অচ্যুত সেন ছিলেন গৌড়াধিপতি ফিরোজ শাহের করদ রাজা।ফিরোজ শাহের পুত্র বাহাদুর শাহ অচ্যুত সেন রাজার কন্যা ভদ্রাবতীকে অপহরন করে নিমগাছী এলাকায় নিয়ে আসেন এই ঘটনা থেকে উত্তেজিত রাজা অচ্যুত সেন বাহাদুর শাহকে আক্রমণ করেন এবং ১৫৩২-৩৪ খ্রিস্টাব্দে নিমগাছী প্রান্তরে এক মারাত্মক যুদ্ধে জয়লাভ করেন।বিজয়ী হয়ে তিনি ভদ্রাবতীকে উদ্ধার করেন এবং বিজয়ের স্মৃতিরুপে নিমগাছীর কাছে একটি বিশাল দিঘি খনন করেন, যার নাম হয় জয়সাগর।

আবার কেও বলেন, রাজার কোনো ছেলে সন্তান ছিলো না। একদিন এক সাধু রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, তিনি যদি আধামাইল দৈর্ঘ্যের একটি দিঘি খনন করেন, তাহলে তার বৃদ্ধ বয়সেও পুত্র সন্তান জন্মাবে। সাধুর উপদেশ মতো রাজা দিঘি খনন করেন। পরের বছর রাজার একটি পুত্র সন্তান হয়।পুত্রের নাম রাখেন জয় কুমার এবং তার নামানুসারে দিঘিটির নাম রাখেন জয়সাগর।

দিঘি খনন করার পরে ১২ বছর পার হওয়ার পরেও দিঘিতে পানি না আসায় রাজা হতাশ হয়ে পড়েন। এক রাতে রাজা সপ্নে দেখলেন, এক সাধু রাজাকে বলছে তোমার ছেলে জয়কুমার বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যদি একমুঠো মাটি তোলে তবেই দিঘিতে পানি উঠবে। অন্যথায় শতবর্ষ ধরে দিঘি খনন করলেও পানির দেখা মিলবে না।

এর পরে রাজা ছেলের বিয়ের আয়োজন করেন বিয়ে শেষে জয়কুমার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দিঘিতে নেমে যেই একমুঠো মাটি তুললেন অমনি পানি উঠে দিঘি
পূর্ন হয়ে যায়। যারফলে এই দিঘির পানিতে রাজার ছেলের মৃত্যুবরন করেন।

এরকম নানা রকম লোককাহিনী নিয়ে প্রাচীন এই দিঘি কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

জয়সাগর দিঘিটি এখন একটি জনপ্রিয় পর্যটনস্থল।প্রতি বছর এখানে অনেক দর্শনার্থী আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে।

এই জয়সাগর দিঘিটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ানোর জন্য জলাশয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হাতে নিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে।এই প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃশরিফুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, জয়সাগর রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যেবাহী দিঘি রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছী এলাকায় মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প চালু রয়েছে এই প্রকল্পের আওতায় আমরা বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নিয়েছি যেহেতু এই জয়সাগরের অনেক পর্যটক আসে সেইটা মাথায় রেখে বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়ন করছি এবং সামনেও করবো।

এই বিষয়ে নিমগাছী এলাকায় সমাজ ভিত্তিক মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলামের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,জয়সাগর দিঘি একটি প্রাচীনতম দিঘি এর পরিচিতি সারাদেশ ব্যাপী রয়েছে। এখানে পর্যটক বাড়ানোর চিন্তা মাথায় রেখে বিভিন্ন কাজ হাতে নিয়েছি। জয়সাগর দিঘিটি সংস্কার করে চারপাশে, পানির সুব্যবস্থা, স্যানিটারি ব্যবস্থা এবং বসার সুব্যবস্থা করার চিন্তা করেছি এতে করে আগত পর্যটকদের সুবিধা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলীমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,জয়সাগর দিঘিটি উন্নয়ন হলে এখানে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। এতে করে জয়সাগরের পরিচিতি অনেকটা বেড়ে যাবে এবং জয়সাগর তার আগের জৌলুস ফিরে পাবে।