০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরের গাবুড়া বাজারে প্রতিদিন আড়াই কোটির টাকার টমেটো বিক্রি

দিনাজপুরে সবচেয়ে টমেটোর বড় বাজার গাবুড়া বাজার। গর্ভেশ্বরী নদীর তীরে
দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কের পাশে সদর উপজেলার নিয়মিত বসে এ বাজার। প্রতিদিন এখানে প্রায়
আড়াই কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা
যায়, নদী তীর থেকে মাস্তান বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়কের উভয় পাশে এমনকি
মানুষের বাড়ির আঙিনাতেও অস্থায়ী আড়ৎ বানানো হয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী,
ফরিদপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার
আসে টমেটো ক্রয় করতে। ভোরের আলো ফুটবার আগে থেকে টমেটো চাষিরা বড় বড় খাঁচায় করে
টমেটো বিক্রি করার জন্য উপস্থিত হয় বাজারে। টমেটো জাতভেদে পাইকার ও কৃষদের মধ্যে চলে দর
কষাকষি। বিপুল প্লাস, প্রভেনসিভ, রোমা ভিএফ, মিন্টু সুপার, আনসাল, রানী এবং শক্তি প্লাস
নানা জাতের টমেটো। কোনটি গোলাকার কোনটি লম্বাকৃতির। দামে মিললে নেওয়া হচ্ছে
সংশ্লিষ্ট পাইকারের আড়ত ঘরে। সেখানে ক্যারেট ভরানো হচ্ছে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে
ক্যারেটগুলো তুলছেন শ্রমিকরা। দৈনিক শতাধিক ট্রাকে গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার
টমেটো কেনাবেচা হয় দিনাজপুরের গাবুড়া বাজারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে
জানা যায়, দিনাজপুরে গত অর্থ বছরে টমেটো চাষ হয়েছিল ৯২৫ হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে
১হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয় দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলায়।
চিরিরবন্দর উপজেলার কাউগা এলাকার কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর ফলন কম ছিল। দাম
পাইছি ভালো। এবার ফলন ভালো হয়েছে দাম কম। শুরুতেই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ পাচ্ছি। দুই
বিঘা মাটি বিপুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করেছি। দুই বিঘা জমিতে লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
টমেটোর কেজি ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। এটা যদি ২০ টাকা থাকত তাহলে বেশ লাভবান হওয়া
যেত। ঢাকা থেকে টমেটো ক্রয় করতে আসা পাইকার সজিব আহমেদ বলেন, দৈনিক ৫-৭টি ট্রাক
লোড হচ্ছে। এখানকার টমেটোর সুনাম রয়েছে। ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মণ ক্রয় করা হচ্ছে।
চাষিরাও দাম কম পাচ্ছে আমরাও লাভবান হতে পারছি না। আগের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। লাভ
কম হচ্ছে আবার কোনটাতে হচ্ছেই না।প্রতিদিন গাবুড়া বাজার থেকে প্রায় শতাধিক ট্রাকে
টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। একটি
ট্রাকে প্রায় ২ দুই লক্ষ ৫০ হাজার টমেটো যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকা
টমেটো বিক্রি হয় গাবুড়া হাটে। টমেটো ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দিনাজপুর
গাবুড়া বাজারে টমেটো দেশের সব মার্কেট চলে যায়। এখন একটু বাজারটা কম কারণ টমেটোর
প্রচুর আমদানি হচ্ছে। এক দুই সপ্তাহ পর টমেটোর আমদানি কমতে শুরু করলে বাজারও বাড়তে শুরু
করবে। যখন ইন্ডিয়ান টমেটো আমদানি করে তখন কৃষক ও ব্যবসায়ির লস হয়। ইন্ডিয়ান টমেটো
দেশে না আনলে দেশের কৃষক ভালো লাভবান হবে। আমরা ব্যবসায়ীরাও লাভবান হব। গাবুড়া টমেটো
বাজারের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার
টমেটো বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে বাজারের আশপাশের বাড়ি
ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। হাট ইজারা বাবদ প্রতি মণ টমেটোর জন্য ১৫ টাকা নেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরের গাবুড়া বাজারে প্রতিদিন আড়াই কোটির টাকার টমেটো বিক্রি

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

দিনাজপুরে সবচেয়ে টমেটোর বড় বাজার গাবুড়া বাজার। গর্ভেশ্বরী নদীর তীরে
দিনাজপুর-চিরিরবন্দর সড়কের পাশে সদর উপজেলার নিয়মিত বসে এ বাজার। প্রতিদিন এখানে প্রায়
আড়াই কোটি টাকার টমেটো বেচাকেনা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা
যায়, নদী তীর থেকে মাস্তান বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সড়কের উভয় পাশে এমনকি
মানুষের বাড়ির আঙিনাতেও অস্থায়ী আড়ৎ বানানো হয়েছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, রাজবাড়ী,
ফরিদপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার
আসে টমেটো ক্রয় করতে। ভোরের আলো ফুটবার আগে থেকে টমেটো চাষিরা বড় বড় খাঁচায় করে
টমেটো বিক্রি করার জন্য উপস্থিত হয় বাজারে। টমেটো জাতভেদে পাইকার ও কৃষদের মধ্যে চলে দর
কষাকষি। বিপুল প্লাস, প্রভেনসিভ, রোমা ভিএফ, মিন্টু সুপার, আনসাল, রানী এবং শক্তি প্লাস
নানা জাতের টমেটো। কোনটি গোলাকার কোনটি লম্বাকৃতির। দামে মিললে নেওয়া হচ্ছে
সংশ্লিষ্ট পাইকারের আড়ত ঘরে। সেখানে ক্যারেট ভরানো হচ্ছে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে
ক্যারেটগুলো তুলছেন শ্রমিকরা। দৈনিক শতাধিক ট্রাকে গড়ে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার
টমেটো কেনাবেচা হয় দিনাজপুরের গাবুড়া বাজারে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে
জানা যায়, দিনাজপুরে গত অর্থ বছরে টমেটো চাষ হয়েছিল ৯২৫ হেক্টর জমিতে। এবার চাষ হয়েছে
১হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। সবচেয়ে বেশি টমেটো চাষ হয় দিনাজপুর সদর ও চিরিরবন্দর উপজেলায়।
চিরিরবন্দর উপজেলার কাউগা এলাকার কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, গত বছর ফলন কম ছিল। দাম
পাইছি ভালো। এবার ফলন ভালো হয়েছে দাম কম। শুরুতেই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা মণ পাচ্ছি। দুই
বিঘা মাটি বিপুল প্লাস জাতের টমেটো চাষ করেছি। দুই বিঘা জমিতে লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
টমেটোর কেজি ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা। এটা যদি ২০ টাকা থাকত তাহলে বেশ লাভবান হওয়া
যেত। ঢাকা থেকে টমেটো ক্রয় করতে আসা পাইকার সজিব আহমেদ বলেন, দৈনিক ৫-৭টি ট্রাক
লোড হচ্ছে। এখানকার টমেটোর সুনাম রয়েছে। ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা মণ ক্রয় করা হচ্ছে।
চাষিরাও দাম কম পাচ্ছে আমরাও লাভবান হতে পারছি না। আগের তুলনায় খরচ অনেক বেড়ে গেছে। লাভ
কম হচ্ছে আবার কোনটাতে হচ্ছেই না।প্রতিদিন গাবুড়া বাজার থেকে প্রায় শতাধিক ট্রাকে
টমেটো ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। একটি
ট্রাকে প্রায় ২ দুই লক্ষ ৫০ হাজার টমেটো যায়। এতে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকা
টমেটো বিক্রি হয় গাবুড়া হাটে। টমেটো ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, দিনাজপুর
গাবুড়া বাজারে টমেটো দেশের সব মার্কেট চলে যায়। এখন একটু বাজারটা কম কারণ টমেটোর
প্রচুর আমদানি হচ্ছে। এক দুই সপ্তাহ পর টমেটোর আমদানি কমতে শুরু করলে বাজারও বাড়তে শুরু
করবে। যখন ইন্ডিয়ান টমেটো আমদানি করে তখন কৃষক ও ব্যবসায়ির লস হয়। ইন্ডিয়ান টমেটো
দেশে না আনলে দেশের কৃষক ভালো লাভবান হবে। আমরা ব্যবসায়ীরাও লাভবান হব। গাবুড়া টমেটো
বাজারের ইজারাদার আরিফুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার
টমেটো বেচাকেনা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা এসে বাজারের আশপাশের বাড়ি
ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। হাট ইজারা বাবদ প্রতি মণ টমেটোর জন্য ১৫ টাকা নেওয়া হয়।