০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে রাস্তায় মারপিট করে পল্লী চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রকাশ্যে রাস্তায় মোটরসাইকেল থামিয়ে তরিকুল ইসলাম
(৩৫) নামে এক মসজিদে ইমাম ও পল্লী চিকিৎসককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে
জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়
তারা। পূর্ব শত্রুতার জেরে সুমন ও মিলনের নেতৃত্বে তরিকুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার
অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গত ২ মে শুক্রবার বিকালে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের হাতি
চামটার ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর ছোট ভাই হিরু মিয়া বাদী
হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। জানা যায়, পল্লী চিকিৎসক তরিকুল
ইসলাম ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর কুটিপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ভাতগ্রাম
বাজারে তার একটি ঔষধের দোকান রয়েছে। এছাড়া তিনি একটি মসজিদে ইমামতি করেন।
এলাকাবাসী বলেন, শুক্রবার বিকালে মোটরসাইকেলে করে ভাতগ্রাম বাজারের ঔষধের দোকানে
যাচ্ছিলেন তরিকুল ইসলাম। পথে হাতি চামটার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলের
গতিরোধ করে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ৭-৮ জন যুবক। এ সময় তারা মোটরসাইকেল থেকে
তরিকুল ইসলামকে নামিয়ে কিল-ঘুষিসহ বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে
একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল
চালিয়ে দুজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তরিকুলের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে
অপহরণ করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। দক্ষিণ কাজিবাড়ী সন্তোলা গ্রামের সুমন মিয়া ও চাঁদকরিম
গ্রামের মিলন মিয়ার নেতৃত্বে ৭-৮ জন মিলে প্রকাশ্যে রাস্তায় মারধরের পর তরিকুলকে তুলে নিয়ে
যায়। পরে মিলনের বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন তরিকুলকে উদ্ধার
করতে মিলনের বাড়িতে গেলে তাদের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পরপরই তরিকুল
ইসলামের ছোট ভাই হিরু মিয়া বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
হিরু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরিকুলের সাথে নানা বিষয়ে শত্রুতা করে আসছেন সুমন ও
মিলনসহ তাদের পক্ষের লোকজন। তরিকুলকে অপহরণের ঘটনাটি পরিকল্পিত। দ্রুত তরিকুলকে উদ্ধারসহ
জড়িতের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজউদ্দিন
খন্দকার বলেন, তরিকুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় সুমন ও মিলনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে
থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার ভাই হিরু মিয়া। অপহৃত তরিকুলকে উদ্ধারে তৎপরতা চালানো
হচ্ছে। ঘটনার একটি ভিডিও দেখে আসামি শনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে রাস্তায় মারপিট করে পল্লী চিকিৎসককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রকাশ্যে রাস্তায় মোটরসাইকেল থামিয়ে তরিকুল ইসলাম
(৩৫) নামে এক মসজিদে ইমাম ও পল্লী চিকিৎসককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটেছে। পরে তাকে
জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়
তারা। পূর্ব শত্রুতার জেরে সুমন ও মিলনের নেতৃত্বে তরিকুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়ার
অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গত ২ মে শুক্রবার বিকালে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের হাতি
চামটার ব্রিজ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর ছোট ভাই হিরু মিয়া বাদী
হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। জানা যায়, পল্লী চিকিৎসক তরিকুল
ইসলাম ভাতগ্রাম ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর কুটিপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় ভাতগ্রাম
বাজারে তার একটি ঔষধের দোকান রয়েছে। এছাড়া তিনি একটি মসজিদে ইমামতি করেন।
এলাকাবাসী বলেন, শুক্রবার বিকালে মোটরসাইকেলে করে ভাতগ্রাম বাজারের ঔষধের দোকানে
যাচ্ছিলেন তরিকুল ইসলাম। পথে হাতি চামটার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলের
গতিরোধ করে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ৭-৮ জন যুবক। এ সময় তারা মোটরসাইকেল থেকে
তরিকুল ইসলামকে নামিয়ে কিল-ঘুষিসহ বেধড়ক মারধর করে। পরে তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে
একটি ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যায়। এছাড়া দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল
চালিয়ে দুজন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তরিকুলের স্বজনদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে
অপহরণ করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। দক্ষিণ কাজিবাড়ী সন্তোলা গ্রামের সুমন মিয়া ও চাঁদকরিম
গ্রামের মিলন মিয়ার নেতৃত্বে ৭-৮ জন মিলে প্রকাশ্যে রাস্তায় মারধরের পর তরিকুলকে তুলে নিয়ে
যায়। পরে মিলনের বাড়িতে তাকে আটকে রাখা হয়। সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন তরিকুলকে উদ্ধার
করতে মিলনের বাড়িতে গেলে তাদের বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পরপরই তরিকুল
ইসলামের ছোট ভাই হিরু মিয়া বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
হিরু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তরিকুলের সাথে নানা বিষয়ে শত্রুতা করে আসছেন সুমন ও
মিলনসহ তাদের পক্ষের লোকজন। তরিকুলকে অপহরণের ঘটনাটি পরিকল্পিত। দ্রুত তরিকুলকে উদ্ধারসহ
জড়িতের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাজউদ্দিন
খন্দকার বলেন, তরিকুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় সুমন ও মিলনসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে
থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তার ভাই হিরু মিয়া। অপহৃত তরিকুলকে উদ্ধারে তৎপরতা চালানো
হচ্ছে। ঘটনার একটি ভিডিও দেখে আসামি শনাক্তসহ গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।