চির আনপ্রেডিক্টাবল রাজনীতির মাঠে নতুন উপাদান যুক্ত হচ্ছে কি? বিএনপির রাজনীতির দিকে চোখ রেখে এ প্রশ্নের উত্থাপন। একটু খোলাসা করেই প্রসঙ্গে আসা যাক।
লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ৫ মে দেশে ফিরছেন বেগম খালেদা জিয়া। সঙ্গে এবার তার দুই পুত্রবধূ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। তারেক রহমান ২০০০ সাল উত্তর সময় থেকে দল পরিচালক হিসেবে গ্রাহ্য। কিন্তু এবার জোবাইদা ও শর্মিলা রহমানকে ঘিরে গুঞ্জন ডালপালা মিলছে। অনেকে মনে করছেন, জিয়া পরিবারের এই দুই নারী বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এর মধ্যে ১৭ বছর পর দেশে আসা ডা. জোবাইদাকে ঘিরে গুঞ্জনের মাত্রা ব্যাপক। তার নিরাপত্তা প্রোটোকলের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা এমন ভবিষ্যৎও দেখছেন যে, রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার লিগ্যাসি ধরে রাখতে পারেন তার এই দুই পুত্রবধূ। সেক্ষেত্রে নেপথ্যে থাকবেন তারেক রহমান। দল ও ভবিষ্যতের সরকার পরিচালনায় অভিনবত্ব যোগ করে পুরনো ইস্যুর বিতর্ক এড়াতে বিএনপির হাই কমান্ড এই স্ট্র্যাটিজি মেনে নিতে দ্বিমত করবে না।
খোদ খালেদা জিয়াও রাজনীতির মাঠে একদা ছিলেন নবাগত। ৩০ মে ১৯৮১ সালে ৩৬ বয়সে বিধবা হন তিনি। ঘাতকদের বুলেটে শহীদ হওয়া জিয়ার বংশধারাবাহী তারেক ও কোকোর তখন শৈশব। দলের প্রয়োজনে একদা গৃহবধূ ‘পুতুল’ ডাকনামের খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। ধানের শীষের নিশান নিয়ে বিচরণ করতে থাকেন ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের মানচিত্র জুড়ে। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অনমনীয়তার জন্য আপোসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। ৪ দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির একছত্র নেত্রী হিসেবে তার আসন কেউ টলাতে পারেনি।
জোবাইদা রহমান রাজনীতিতে এলে সেটি হবে এক নারী থেকে আরেক নারীর হাতে দলীয় ক্ষমতার পালাবদল। সেই খালেদার মতো জোবাইদা নিজেও সমকালীন রাজনীতিতে হবেন নবাগত।
পেশায় চিকিৎসক জুবাইদা রহমানের জন্ম সিলেটে। তারা বাবা প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী। এই মাহবুব আলী ছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। এরশাদ সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী পারিবারিক সম্পর্কে জোবাইদা রহমানের চাচা। ১৯৯৪ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৯৫ সালে তিনি বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। এ দম্পতির একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান লন্ডনে ব্যারিস্টারি পাশ করেছেন।
২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমান বিবেচিত হতে থাকেন বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে। সব বিএনপির ছকেই চলছিল সে সময়টায়। কিন্তু পরিস্থিতি আমূল বদলে দেয় এক-এগারো। মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকার ব্যাপক ধরপাকড় চালায় রাজনীতিবিদদের ওপর। খালেদা জিয়ার পর আটক করা হয় তার দুই পুত্র তারেক ও কোকোকে। এরপর থেকে বিএনপির রাজনীতিতে নেমে আসে ঘোর অমানিশা।
২০০৮ সালের ১৭ জুলাই মুক্তি পেয়ে আরাফাত রহমান কোকো চিকিৎসা নিতে বিদেশে যান। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়াতে মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার জীবনাবসান হয়। আরাফাত রহমানের মৃত্যুর পর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে লন্ডনেই থেকেছেন তার শর্মিলা রহমান সিঁথি। গত জানুয়ারিতে তিনি দেশে এসে কিছু দিন শ্বাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে অবস্থান করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি পুরনো ফ্যাসিস্টদের তাড়িয়ে দিয়ে নতুনত্বে পূর্ণ। এ নবীনের আবাহন
পর্বে বিএনপির রাজনীতিতে জোবাইদা ও শর্মিলা নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হলে বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না।

























