০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমন উপলক্ষে উৎসব মুখর বাথুয়া গ্রাম

বহুল প্রতীক্ষিত সেই দিনটি এসে গেল। আজ বুধবার নিজ গ্রামের বাড়িতে আসছেন
নোবেল বিজয়ী, অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে তাঁর
এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে ঈদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ। ড. ইউনূস
সর্বশেষ ২০১৭ সালে গ্রামে এসেছিলেন বলে জানান তাঁর বাল্যবন্ধু মোহাম্মদ শফি।
তিনি বলেন, “স্মৃতির পাতায় গেঁথে থাকা সেই দিনের পর আবার দেখা হবে, ভাবতেই
শিহরিত হচ্ছি। বয়স বেড়েছে, কিন্তু বন্ধুত্বের টান আজও অটুট।” আজ সকালে বাথুয়া
গ্রামের হাজী নজুমিয়া সওদাগরের বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকা কঠোর
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, এসএসএফ,
ডিজিএফআই, এনএসআইসহ একাধিক বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক অবস্থান করছে।
বাড়ির আশপাশের রাস্তা, মাঠ এবং কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে।
কবরস্থানে অস্থায়ী আলোকসজ্জা ও জেয়ারতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা
তাঁর দাদা-দাদির কবর জেয়ারতের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কুশল
বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। বাথুয়া গ্রামজুড়ে চলছে সাজসাজ রব।
নবনির্মিত ‘হাজী মোহাম্মদ দুলামিয়া সওদাগর সড়ক’সহ বিভিন্ন
সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে। ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো টিনের ঘর, নির্মিত
হয়েছে আধুনিক ঘর। মাঠে বসানো হয়েছে অতিথিদের জন্য প্যান্ডেল। ছোট-বড় সবাই
মেতে উঠেছে স্বাগত আয়োজন নিয়ে। স্কুলশিশুরা শিখছে স্বাগত সংগীত, তরুণেরা
টাঙিয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাথুয়া গ্রামে পৌঁছাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন
তাঁর চাচাতো ভাই আকবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন। এ সময় কবর জেয়ারতের
পাশাপাশি মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশেও তিনি অংশ নিতে পারেন। হাটহাজারী উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, “ড. ইউনূসের সফর
নির্বিঘ্নে রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে গতকালেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম ও
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে।” উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ২৮ জুন বাথুয়া
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আট ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি
তৃতীয়। যদিও দীর্ঘদিন পরিবারসহ নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় বসবাস করছেন, গ্রামের
প্রতি তাঁর টান আজও অবিচল। তিনি নীরবে-নিভৃতে গ্রামের গরিব শিক্ষার্থীদের
পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। গ্রামবাসীর চোখে এটি শুধুই একটি
সফর নয়, বরং গর্বের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। “নিজ চোখে আমাদের গ্রামের সন্তানকে দেখতে
পাব এটাই আমাদের বড় পাওয়া,” বলেন গ্রামের লোকজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমন উপলক্ষে উৎসব মুখর বাথুয়া গ্রাম

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

বহুল প্রতীক্ষিত সেই দিনটি এসে গেল। আজ বুধবার নিজ গ্রামের বাড়িতে আসছেন
নোবেল বিজয়ী, অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ
ইউনূস। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের বাথুয়া গ্রামে তাঁর
এই আগমনকে কেন্দ্র করে বিরাজ করছে ঈদের মতো উৎসবমুখর পরিবেশ। ড. ইউনূস
সর্বশেষ ২০১৭ সালে গ্রামে এসেছিলেন বলে জানান তাঁর বাল্যবন্ধু মোহাম্মদ শফি।
তিনি বলেন, “স্মৃতির পাতায় গেঁথে থাকা সেই দিনের পর আবার দেখা হবে, ভাবতেই
শিহরিত হচ্ছি। বয়স বেড়েছে, কিন্তু বন্ধুত্বের টান আজও অটুট।” আজ সকালে বাথুয়া
গ্রামের হাজী নজুমিয়া সওদাগরের বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, পুরো এলাকা কঠোর
নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, এসএসএফ,
ডিজিএফআই, এনএসআইসহ একাধিক বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক অবস্থান করছে।
বাড়ির আশপাশের রাস্তা, মাঠ এবং কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে।
কবরস্থানে অস্থায়ী আলোকসজ্জা ও জেয়ারতের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা
তাঁর দাদা-দাদির কবর জেয়ারতের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর সাথে কুশল
বিনিময় করবেন বলে জানা গেছে। বাথুয়া গ্রামজুড়ে চলছে সাজসাজ রব।
নবনির্মিত ‘হাজী মোহাম্মদ দুলামিয়া সওদাগর সড়ক’সহ বিভিন্ন
সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ পর্যায়ে। ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো টিনের ঘর, নির্মিত
হয়েছে আধুনিক ঘর। মাঠে বসানো হয়েছে অতিথিদের জন্য প্যান্ডেল। ছোট-বড় সবাই
মেতে উঠেছে স্বাগত আয়োজন নিয়ে। স্কুলশিশুরা শিখছে স্বাগত সংগীত, তরুণেরা
টাঙিয়েছে ব্যানার ও ফেস্টুন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে
অংশগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার দিকে বাথুয়া গ্রামে পৌঁছাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন
তাঁর চাচাতো ভাই আকবর ও সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন। এ সময় কবর জেয়ারতের
পাশাপাশি মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশেও তিনি অংশ নিতে পারেন। হাটহাজারী উপজেলা
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ বি এম মশিউজ্জামান বলেন, “ড. ইউনূসের সফর
নির্বিঘ্নে রাখতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে গতকালেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা, মেডিকেল টিম ও
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে।” উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ২৮ জুন বাথুয়া
গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আট ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি
তৃতীয়। যদিও দীর্ঘদিন পরিবারসহ নগরীর পাঁচলাইশ এলাকায় বসবাস করছেন, গ্রামের
প্রতি তাঁর টান আজও অবিচল। তিনি নীরবে-নিভৃতে গ্রামের গরিব শিক্ষার্থীদের
পাশে দাঁড়িয়ে আসছেন বলেও জানা গেছে। গ্রামবাসীর চোখে এটি শুধুই একটি
সফর নয়, বরং গর্বের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। “নিজ চোখে আমাদের গ্রামের সন্তানকে দেখতে
পাব এটাই আমাদের বড় পাওয়া,” বলেন গ্রামের লোকজন।