০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূঞাপুরে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল লাট সাহেব

হাইব্রিড জাতের ভুট্টা বীজ লাটসাহেব এবার ভূঞাপুর কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের কারন হয়েছে বলে জানা যায়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের যমুনা নদী বিধৌত দুর্গম চরাঞ্চলের ফলদাপাড়া গ্রামে ভুট্টা চাষীদের এবার মাথায় হাত। হাইব্রিড জাতের উন্নত বীজের মাধ্যমে বেশী ফলন পাওয়ার আশায় স্থানীয় ডিলারের কথা মত তারা লাটসাহেব ও লক্ষি জাতের বীজ বপন করে। ধারণা করা হয়েছিল বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মন ফলন হবে। মারাই শেষে দেখা যাচ্ছে বিঘা প্রতি ১৭ থেকে ২০ মন হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ফলদাপাড়া গ্রামে অধিকাংশ কৃষক এই জাতের ভুট্টা চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চাষী হারুন মিয়া জানান, স্থানীয় সবুজ বীজ ভান্ডার থেকে হাইব্রিড জাতের রকেট বীজ আনতে চাইলে সে আমাদের এই বীজ দিয়ে বলেন এটি ভালো মানের উন্নত বীজ। ফলন ভালো না হলে সমুদয় ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবো। সার পরিচর্যা ঠিকই করলাম, গাছের চেহারাও সুন্দর হইছে শুধু জাত নির্বাচনের কারনে বিরাট লোকসান গুনতে হবে। এখন দেখছি ভুট্টার মোচা আকারে ছোট ও অগ্রভাগে খালি। গাছ থেকে মোচা ছাড়াতে অসুবিধা হয়। অধিকাংশ মোচাই পরিপুর্ন হয়নি। ১৪ বিঘা ভুট্টা চাষ করেছি ফলন ভালো না হওয়ায় অর্ধেক ফসল পাবো। ঋনের টাকাই শোধ করতে পারো না। বউ বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হবে। আলতাব হোসেন বলেন, আমি ৮ বিঘা আবাদ করেছি, ৩২০ মন ভুট্টা হওয়ার কথা এখন দেখছি অর্ধেক ফসল। আমাদের চরে এই একটাই ফসল, একেতো দাম কমে গেছে অপরদিকে ফলন অর্ধেক।

বীজ সরবরাহকারী সবুজ বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধীকারি আব্দুস ছালাম বলেন, তাদের জমিতে বোরন সারের অভাবে মোচা পোক্ত হয় নাই, এবং ফলন কম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, ভূঞাপুর উপজেলায় এবছর ৩ হাজার ৪৫ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার সমান। গাবসারা ইউনিয়নের ফলদা পাড়ার বেশ কিছু কৃষক আমাদের পরামর্শ ছাড়াই নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন আশানুরূপ না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের পরামর্শ মোতাবেক সার বীজ জমিতে প্রয়োগ করলে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূঞাপুরে কৃষকের স্বপ্ন ভেঙ্গে দিল লাট সাহেব

আপডেট সময় : ০১:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

হাইব্রিড জাতের ভুট্টা বীজ লাটসাহেব এবার ভূঞাপুর কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গের কারন হয়েছে বলে জানা যায়।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের যমুনা নদী বিধৌত দুর্গম চরাঞ্চলের ফলদাপাড়া গ্রামে ভুট্টা চাষীদের এবার মাথায় হাত। হাইব্রিড জাতের উন্নত বীজের মাধ্যমে বেশী ফলন পাওয়ার আশায় স্থানীয় ডিলারের কথা মত তারা লাটসাহেব ও লক্ষি জাতের বীজ বপন করে। ধারণা করা হয়েছিল বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ মন ফলন হবে। মারাই শেষে দেখা যাচ্ছে বিঘা প্রতি ১৭ থেকে ২০ মন হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ফলদাপাড়া গ্রামে অধিকাংশ কৃষক এই জাতের ভুট্টা চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চাষী হারুন মিয়া জানান, স্থানীয় সবুজ বীজ ভান্ডার থেকে হাইব্রিড জাতের রকেট বীজ আনতে চাইলে সে আমাদের এই বীজ দিয়ে বলেন এটি ভালো মানের উন্নত বীজ। ফলন ভালো না হলে সমুদয় ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবো। সার পরিচর্যা ঠিকই করলাম, গাছের চেহারাও সুন্দর হইছে শুধু জাত নির্বাচনের কারনে বিরাট লোকসান গুনতে হবে। এখন দেখছি ভুট্টার মোচা আকারে ছোট ও অগ্রভাগে খালি। গাছ থেকে মোচা ছাড়াতে অসুবিধা হয়। অধিকাংশ মোচাই পরিপুর্ন হয়নি। ১৪ বিঘা ভুট্টা চাষ করেছি ফলন ভালো না হওয়ায় অর্ধেক ফসল পাবো। ঋনের টাকাই শোধ করতে পারো না। বউ বাচ্চা নিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হবে। আলতাব হোসেন বলেন, আমি ৮ বিঘা আবাদ করেছি, ৩২০ মন ভুট্টা হওয়ার কথা এখন দেখছি অর্ধেক ফসল। আমাদের চরে এই একটাই ফসল, একেতো দাম কমে গেছে অপরদিকে ফলন অর্ধেক।

বীজ সরবরাহকারী সবুজ বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধীকারি আব্দুস ছালাম বলেন, তাদের জমিতে বোরন সারের অভাবে মোচা পোক্ত হয় নাই, এবং ফলন কম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান জানান, ভূঞাপুর উপজেলায় এবছর ৩ হাজার ৪৫ একর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার সমান। গাবসারা ইউনিয়নের ফলদা পাড়ার বেশ কিছু কৃষক আমাদের পরামর্শ ছাড়াই নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন আশানুরূপ না হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের পরামর্শ মোতাবেক সার বীজ জমিতে প্রয়োগ করলে এই ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।