০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গতি নেই উন্নয়ন প্রকল্পে: মাঝপথে থেমে আছে বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্প

ফাইল ছবি

গতি নেই বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। নেওয়া হচ্ছে না তেমন নতুন কোনো প্রকল্পও। এতে স্থবিরতা বিরাজ করছে উন্নয়ন কাজে। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্প মাঝপথেই থেমে আছে। আবার কোনোটির অর্থছাড় না হওয়ায় টেন্ডারের পরও কাজ শুরু হয়নি। আবার কোনো কোনো প্রকল্পের ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গতি হারিয়েছে উন্নয়ন কাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নতুন কোনো প্রকল্পও নিচ্ছেন না। আবার অর্থছাড়ে কড়াকড়ির কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়া ও ঠিকমতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে না। তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নকাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব পালিয়ে গেছেন। তাদের অনুসরণ করে অনেক ঠিকাদারও আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে কাজ। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের কড়াকড়ির ফলে অনেক প্রকল্পে অর্থায়নও বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রকল্প রাজনৈতিক কারণেও বাতিল করা হয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ থমকে গেছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ২ আগস্ট সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ‘মিঠামইন রেস্ট হাউস নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। খরচ ধরা হয়েছিল সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা। এ প্রকল্প ২০২১-এর জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনে শেষ করার কথা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এই প্রকল্পে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন এ প্রকল্পটির গত মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটির কাজ ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। আগামী জুনে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। সারা দেশে চলমান শত শত প্রকল্পের এই হচ্ছে দশা। একেবারে স্থবির হয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রকল্পেরও একই হাল।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৭-এর জুলাই থেকে কয়েকবার সংশোধন করে ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। তার পরও ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে কয়েকবার সংশোধন করে জুনে শেষ হওয়ার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু ৫৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পটির গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। দেশব্যাপী ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’টি তৃতীয়বার সংশোধন করে আগামী জুনে শেষ হওয়ার তালিকায় রাখা হয়। পরামর্শকদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির অগ্রগতি গত মার্চ পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকার ঋণের এই প্রকল্পটি আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, শুধু তা-ই নয়, গলার কাঁটা ‘রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি সেক্টর প্রকল্পটিও জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৫০ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) কমিটি গঠন হলেও আগের মতো সভা হয় না। গত ১০ মাসে এ পর্যন্ত ১০টি একনেক সভা হয়েছে। এসব সভায় অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে না। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) কাটছাঁট করা হয়েছে। এনইসি সভায় ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। মূল এডিপি থেকে কমানো হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসহ অন্য বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়েও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা থেকে বরাদ্দ ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। কমানো হয়েছে ১৯ শতাংশ। সড়ক পরিবহন বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২১ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়েছে। ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৯টির বরাদ্দ ২৯ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে আটটির বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উন্নয়নকাজের জন্য এক পয়সাও খরচ করতে পারেনি। প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই অবস্থা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগও ২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে মাত্র ৫২ কোটি টাকা খরচ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়ে খরচ করেছে ১৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বা এডিপি বাস্তবায়ন করেছে ৪৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এভাবে ৫৭টির মধ্যে ৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ সময়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার কোটি টাকা বা ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটা গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা কম, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদার বলেন, কিছুদিন ধরে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি কমে গেছে। টেন্ডার খুবই কম হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নকাজে ধাক্কা লেগেছে। অনেক কিছু পাল্টে গেছে। কারণ আগে রাজনৈতিকভাবে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে এসব যাচাই-বাছাই করে কিছু বাদ দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্র সংসদে ভোটের ফল জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

গতি নেই উন্নয়ন প্রকল্পে: মাঝপথে থেমে আছে বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্প

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ মে ২০২৫

গতি নেই বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। নেওয়া হচ্ছে না তেমন নতুন কোনো প্রকল্পও। এতে স্থবিরতা বিরাজ করছে উন্নয়ন কাজে। এমনকি কোনো কোনো প্রকল্প মাঝপথেই থেমে আছে। আবার কোনোটির অর্থছাড় না হওয়ায় টেন্ডারের পরও কাজ শুরু হয়নি। আবার কোনো কোনো প্রকল্পের ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গতি হারিয়েছে উন্নয়ন কাজ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার নতুন কোনো প্রকল্পও নিচ্ছেন না। আবার অর্থছাড়ে কড়াকড়ির কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে স্থবিরতা নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়া ও ঠিকমতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে উন্নয়নকাজ এগোচ্ছে না। তারা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নকাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অনেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব পালিয়ে গেছেন। তাদের অনুসরণ করে অনেক ঠিকাদারও আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে কাজ। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের কড়াকড়ির ফলে অনেক প্রকল্পে অর্থায়নও বন্ধ হয়ে গেছে। কোনো কোনো প্রকল্প রাজনৈতিক কারণেও বাতিল করা হয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ থমকে গেছে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ২ আগস্ট সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ‘মিঠামইন রেস্ট হাউস নির্মাণ’ প্রকল্পের অনুমোদন দেন। খরচ ধরা হয়েছিল সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা। এ প্রকল্প ২০২১-এর জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুনে শেষ করার কথা। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের ফলে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে এই প্রকল্পে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন এ প্রকল্পটির গত মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটির কাজ ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। আগামী জুনে এই প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। সারা দেশে চলমান শত শত প্রকল্পের এই হচ্ছে দশা। একেবারে স্থবির হয়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রকল্পেরও একই হাল।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৭-এর জুলাই থেকে কয়েকবার সংশোধন করে ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। তার পরও ১ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। সিরাজগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়ে কয়েকবার সংশোধন করে জুনে শেষ হওয়ার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু ৫৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার প্রকল্পটির গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ। দেশব্যাপী ‘বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’টি তৃতীয়বার সংশোধন করে আগামী জুনে শেষ হওয়ার তালিকায় রাখা হয়। পরামর্শকদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির অগ্রগতি গত মার্চ পর্যন্ত মাত্র ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের ৩ হাজার ৭৮ কোটি টাকার ঋণের এই প্রকল্পটি আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে, শুধু তা-ই নয়, গলার কাঁটা ‘রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি সেক্টর প্রকল্পটিও জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে না। গত মার্চ পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৫০ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) কমিটি গঠন হলেও আগের মতো সভা হয় না। গত ১০ মাসে এ পর্যন্ত ১০টি একনেক সভা হয়েছে। এসব সভায় অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে না। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) কাটছাঁট করা হয়েছে। এনইসি সভায় ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দেওয়া হয়। মূল এডিপি থেকে কমানো হয়েছে ৫২ হাজার কোটি টাকা। জীবনের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসহ অন্য বিভাগ এবং মন্ত্রণালয়েও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। উন্নয়ন বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ১১ হাজার ১৫১ কোটি টাকা থেকে বরাদ্দ ৫ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। কমানো হয়েছে ১৯ শতাংশ। সড়ক পরিবহন বিভাগের বরাদ্দ প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২১ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়েছে। ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৯টির বরাদ্দ ২৯ শতাংশ কমানো হয়েছে। তবে আটটির বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের গত ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উন্নয়নকাজের জন্য এক পয়সাও খরচ করতে পারেনি। প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে এই অবস্থা। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগও ২ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়ে মাত্র ৫২ কোটি টাকা খরচ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৬ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়ে খরচ করেছে ১৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বা এডিপি বাস্তবায়ন করেছে ৪৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। এভাবে ৫৭টির মধ্যে ৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এ সময়ে খরচ হয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার কোটি টাকা বা ৩৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। এটা গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা কম, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদার বলেন, কিছুদিন ধরে উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি কমে গেছে। টেন্ডার খুবই কম হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার পরিবর্তনের ফলে উন্নয়নকাজে ধাক্কা লেগেছে। অনেক কিছু পাল্টে গেছে। কারণ আগে রাজনৈতিকভাবে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এসে এসব যাচাই-বাছাই করে কিছু বাদ দিয়েছে।