বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) চট্টগ্রাম নগর শাখার এক নারী নেত্রীসহ তিনজনকে বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কারের পর ‘সমসাময়িক বিষয়ে জুলাইয়ের নারী যোদ্ধাদের নিয়ে’ সংবাদ সম্মেলন ডাকে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন সাংবাদিকরা। তবে আধঘণ্টা পেরোনোর পরেও উপস্থিতি নেই বৈছাআ নেতৃবৃন্দের। বিরক্ত হয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে ক্ষুদেবার্তা দিয়ে জানানো হয়—‘সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে না’।
এদিকে, এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যাওয়া সংবাদকর্মীরা৷ তারা বলছেন, সংবাদ সম্মেলন না হলে সেটা আগেই বলা উচিত। এভাবে বসিয়ে রেখে আমরা যোগাযোগের পর বাতিলের কথা জানানো দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দেয়।এর আগে, রবিবার (১৯ মে) রাত ১১টার দিকে বৈছাআ নগর কমিটির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছিলেন, আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে জুলাইয়ের নারীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী আজ সকাল ১১টার মধ্যেই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন কাভার করতে যান বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন, পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংবাদকর্মীরা৷ সেখানে প্রায় আধঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও বৈছাআ’র কোনো নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈছাআ নেতৃবৃন্দের যোগাযোগ রক্ষার্থে খোলা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সংবাদকর্মী বেলা ১১টা ২৩ মিনিটের দিকে জানতে চান, সংবাদ সম্মেলন হবে কি-না, সাংবাদিকরা সবাই বসে আছেন।পাঁচ মিনিট পর প্রত্যুত্তরে বৈছাআ’র নগর কমিটির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন লিখেন, ‘প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, প্রথমে দুঃখ প্রকাশ করছি আজ ১১টায় নারীদের যে সংবাদ সম্মেলনটি হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব এবং বহিষ্কার ৩ জনকে ঢাকা যেতে বলেছে, তার জন্য আজকের সংবাদ সম্মেলনটি হচ্ছে না।’’সেটি আগেই জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল’ ক্ষোভ জানালে তিনি আবারও লিখেন, ‘ঢাকা থেকে জানাতে দেরি করে ফেলেছে।’উপস্থিত একাধিক সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন আগেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সময় বেঁধে দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেয়া হয়। আজ বৈছাআ সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেরাই আসেনি। আবার তারা যে সংবাদ সম্মেলন করবেন না, সেটিও সাংবাদিকরা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেসের আগে জানাননি। এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আমাদের মোটেই কাম্য নয়।প্রসঙ্গত, গত ১৭ মে (শুক্রবার) সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে নগর শাখার মুখপাত্র ফাতেমা আক্তার লিজাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক আরিফ মঈনউদ্দিন ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মাদকসেবন ও অশালীন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।লিজার পাশাপাশি একই দিন পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব আবুল বাছির নাঈম ও সংগঠক শাহরিয়ার সিকদারকেও বহিষ্কার করা হয়। চাঁদাবাজি ও পুলিশের হাতে আটকের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।এদিকে বহিষ্কারের স্বীকার লিজা বহিষ্কার আদেশকে ‘চরিত্র হননের চেষ্টা’ উল্লেখ করে গতকাল (১৮ মে) আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন এবং সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনকে। আইনি নোটিশে ৭ দিনের মধ্যে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার আদেশ প্রচারের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় ফাতেমা আক্তার লিজা আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এমআর/সব
শিরোনাম
চট্টগ্রামে সংবাদ সম্মেলন ডেকেও আসলেন না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
-
চট্টগ্রাম ব্যুরো - আপডেট সময় : ০৯:২১:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
- ।
- 65
জনপ্রিয় সংবাদ






















