বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জহির রায়হান আহমেদ বলেছেন, জুলাই আগস্টের অভ্যুত্থানে একক সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এর তালিকাও প্রকাশ করেছি। শেখ হাসিনার সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে রাজপথে ছাত্রদল লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ১১ টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বরে ইবি শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নবীন সদস্য সংগ্রহে সদস্য ফর্ম বিতরণ ও গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি শীর্ষক আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জহির রায়হান বলেন, বাংলাদেশের পরাজিত শক্তিরা একত্রিত হয়ে এমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হচ্ছে যাতে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসিত করা যায়। ছাত্রদল গত ১৬ বছর রাজপথে লড়াই করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ছাত্রলীগের মতো খুনি, সন্ত্রাসী সংগঠনকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাজনীতি করা সংগঠনের নাম ছাত্রদল। একটি দল আছে যারা ছাত্রদলের নেতারা খুন হলে উল্লাসে মেতে ওঠে, বিভিন্ন ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। ৫ তারিখে শেখ হাসিনা পালিয়ে না গেলে আমরা অনেক মাস্টারমাইন্ডকেও আমরা দেখতে পেতাম না যারা এখন অনেক বড় বড় মাস্টারমাইন্ড বনে গেছেন।
কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, আমরা যখন এখানে আলোচনা করছি তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কর্মী শাহানুরের উপর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। কিছুদিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সাম্যকে হত্যা করা হয়েছে, পারভেজকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই বাংলাদেশের জন্য ১৭ বছর লড়াই সংগ্রাম করিনি। যারা সুপরিকল্পিত ভাবে এসব করছেন, হত্যার মতো জঘন্য কার্যক্রম চালাচ্ছেন তাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, ছাত্রদল ভেসে আসা কোন সংগঠন নয়, ছাত্রদল ফ্যাসিস্ট হাসিনার সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে টেক্কা দিয়ে রাজপথে টিকে থাকা সংগঠন।
নতুন ধারার রাজনীতির সম্পর্কে কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হল দখলদারিত্বের যে রাজনীতি করেছে, সেই ধারায় কিন্তু ছাত্রদল যায়নি। নতুন ধারার রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা বাইক শোডাউনে যাইনি, দখলদারিত্বেও যাইনি। আমরা আমাদের বোনদের প্রায়োরিটি দিচ্ছি যাতে তারাও আমাদের কাধে কাধ মিলিয়ে দেশ বিনির্মাণে কাজ করতে পারে৷ আগামীর ক্যাম্পাস হবে সন্ত্রাসমুক্ত ও শিক্ষার্থী বান্ধব ক্যাম্পাস, এ ব্যাপারে ছাত্রদল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এদিন কর্মসূচীর শুরুতেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্থাপিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এরপরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে সদস্য নবায়ন ও আলোচনা সভা শুরু হয়।
শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহম্মেদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইবির জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, সাদা দলের আহবায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. জাকির হোসাইন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. গফুর গাজী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোমিনুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ, যুগ্ম আহবায়ক আবু দাউদ, আনারুল ইসলাম, আহসান হাবিব, ওমর শরীফ, রোকন উদ্দিন, সদস্য সাব্বির হোসেন, রাফিজ আহমেদ, নুর উদ্দিন ও অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এমআর/সব
শিরোনাম
জুলাইয়ে একক সংগঠন হিসেবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সংগঠন ছাত্রদল : কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জহির
-
ওয়াসিফ আল আবরার, ইবি প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৪:৪৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
- ।
- 56
জনপ্রিয় সংবাদ






















