০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রংপুরে ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ

হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে

স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে মিলবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে। চলতি বছরে রংপুরে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরেও ২০০ কোটির বেশি টাকার হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার তেকানি বাজার এলাকায় দেখা যায়, শেষ সময়ে ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে আম রক্ষা করতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে দুই দফায় ঝড় হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড়ের পূর্বাভাস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আম চাষিদের। আম চাষি বেলাল হোসেন বলেন, এবার মুকুল আসার পর থেকে তিন বার ঝড় হয়েছে। ফলে আমের ফলন গতবারের তুলনায় কম হয়েছে। আম বাজারজাত করার প্রায় এক মাস সময় বাকি। যদি বড় ধরনের ঝড় হয়, তবে বড় ক্ষতির মুখে পড়বো। হাড়িভাঙ্গা আম পাকলে এটি তিন-চার দিনের বেশি রাখা যায় না। সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। যদি আম সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়া থাকত, তা হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হতো। হাড়িভাঙ্গা আমের গোড়াপত্তনকারী নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে আমজাদ হোসেন পাইকার বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু, আমরা এখনো কোনো সুফল দেখিনি। হাড়িভাঙ্গা আম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী এই স্বীকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কেও অবগত নন। হাড়িভাঙ্গার মূল উৎপাদন এলাকা পদাগঞ্জে রাস্তার বেহাল অবস্থা। আবাসিক সুবিধার অভাব, ব্যাংকিং সেবা অনুপস্থিত এবং আম বাজারজাতের জন্য নেই স্থায়ী শেড। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। রংপুর কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা জানিয়েছেন, জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বাজারে মিলবে পরিপক্ক ও রপ্তানিযোগ্য হাড়িভাঙ্গা আম। এর আগে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আসলে তা অপরিপক্ক হবে। প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।
চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা। আম উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে রপ্তানিযোগ্য হাড়িভাঙ্গা আম পাড়া শুরু হবে। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মে মাসের শেষ সপ্তাহে পদাগঞ্জ হাটে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। রংপুর জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল বলেনে, জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া হাড়িভাঙ্গা আম বাজারজাত করতে এবার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তা মনিটর করা হবে। পরিবহনকালে ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধাও বিবেচনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে হাড়িভাঙ্গা আম বাজারজাত না করতে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এমআর/সব

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ

হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় রংপুরের বিখ্যাত হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে মিলবে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে। চলতি বছরে রংপুরে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে হাড়িভাঙ্গা আম চাষ করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছরেও ২০০ কোটির বেশি টাকার হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করার আশা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার তেকানি বাজার এলাকায় দেখা যায়, শেষ সময়ে ঝড়-বৃষ্টির হাত থেকে আম রক্ষা করতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে দুই দফায় ঝড় হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড়ের পূর্বাভাস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে আম চাষিদের। আম চাষি বেলাল হোসেন বলেন, এবার মুকুল আসার পর থেকে তিন বার ঝড় হয়েছে। ফলে আমের ফলন গতবারের তুলনায় কম হয়েছে। আম বাজারজাত করার প্রায় এক মাস সময় বাকি। যদি বড় ধরনের ঝড় হয়, তবে বড় ক্ষতির মুখে পড়বো। হাড়িভাঙ্গা আম পাকলে এটি তিন-চার দিনের বেশি রাখা যায় না। সংরক্ষণের কোনো কার্যকর পদ্ধতি নেই। যদি আম সংরক্ষণের সঠিক প্রক্রিয়া থাকত, তা হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হতো। হাড়িভাঙ্গা আমের গোড়াপত্তনকারী নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে আমজাদ হোসেন পাইকার বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমের লাইফলাইন নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু, আমরা এখনো কোনো সুফল দেখিনি। হাড়িভাঙ্গা আম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও স্থানীয়ভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী এই স্বীকৃতির গুরুত্ব সম্পর্কেও অবগত নন। হাড়িভাঙ্গার মূল উৎপাদন এলাকা পদাগঞ্জে রাস্তার বেহাল অবস্থা। আবাসিক সুবিধার অভাব, ব্যাংকিং সেবা অনুপস্থিত এবং আম বাজারজাতের জন্য নেই স্থায়ী শেড। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। রংপুর কৃষি বিভাগ ও আম চাষিরা জানিয়েছেন, জুনের তৃতীয় সপ্তাহে বাজারে মিলবে পরিপক্ক ও রপ্তানিযোগ্য হাড়িভাঙ্গা আম। এর আগে বাজারে হাড়িভাঙ্গা আসলে তা অপরিপক্ক হবে। প্রকৃত স্বাদ পেতে হলে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো।
চলতি বছর রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হচ্ছে হাড়িভাঙ্গা। আম উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে রপ্তানিযোগ্য হাড়িভাঙ্গা আম পাড়া শুরু হবে। তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মে মাসের শেষ সপ্তাহে পদাগঞ্জ হাটে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। রংপুর জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল বলেনে, জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়া হাড়িভাঙ্গা আম বাজারজাত করতে এবার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তা মনিটর করা হবে। পরিবহনকালে ব্যবসায়ীরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি পরিবহন সুবিধাও বিবেচনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে হাড়িভাঙ্গা আম বাজারজাত না করতে চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
এমআর/সব