০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রদল নেতার কোপে শ্রমিক নেতা হাসপাতালে ভর্তি

Oplus_131072

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গে কথিত নেতার হামলার শিকার হয়েছেন শ্রমিক নেতা। চাঁদা না দেওয়া ছাত্রদল নেতার কোপে মারাত্মক জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আহতের পারিবার। গত সোমবার (২৬ মে) সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ছাত্রদলের কথিত নেতা জসীমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত শ্রমিক নেতা জসীম খানের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কপালে জসিম খানের চিৎকারে আশেপাশের স্থানীয়রা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় জসীম খানকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জসিম খান দাসকান্দি গ্রামের কুদ্দুস খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের জায়গা ভাড়া নিয়ে বালু ব্যবসা ও নীলাচল পরিবহনের পরিচালক হিসেবে জড়িত আছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
জসিম খান জানান, উথুলী (নিহন্দ) এলাকার ছাত্রদল কর্মী শ্রাবণ আহমেদ জসিম ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করার জের হিসেবে ছাত্রদলের ওই কথিত নেতা ৩০-৪০ জনের মুখোশধারী একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সোমবার সন্ধ্যার দিকে জসীম খানকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।
শিবালয় থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন জানান, নিহন্দ এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসীম,পলাশসহ ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে বহিষ্কৃত ছাত্র নেতা দাউদের সাথে আরো কয়েকজন বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা পাটুরিয়া ঘাটে ৫ই আগস্ট এর পর একটি চাতাল ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা করে আসছিল। যদিও শিবালয়ে ছাত্রদলের কার্যকর কোন কমিটি এখন নেই। তথাপি, সেই ছেলেটি ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে বালু ব্যবসা করে আসছিল। গত ৫ আগস্টের আগে এই ছেলেকে দলের কোন মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় দেখা যায়নি।
জানা গেছে, এই জসীম তার অংশীদারদের নিয়ে পাটুরিয়া টার্মিনালের উত্তর পাশে কড়াই গাছের দক্ষিণ দিকে বাবুল মণ্ডলের জায়গা ভাড়া নিয়ে বালু স্তূপ করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ওই জায়গার সমুদয় বালুসহ স্তূপীকৃত মূল জায়গার বালুও বিক্রি করে বিশাল আকৃতির গর্ত খুঁড়েছেন তারা। ব্যবসায়িক বনিবনা না হওয়ায় বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা দাউদ এবং পলাশ জসীমের কাছ থেকে ব্যবসা বাদ দিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে শ্রাবণ আহমেদ জসীমের সাথে ব্যবসায়িক কারণে যুক্ত হয় দাসকান্দি এলাকার সুজনের সাথে।
ছাত্রদলের পরিচয় দানকারী জসীম যেখানে বালুর স্তূপ বানিয়েছিলেন তার পাশের ভিন্ন একটি জমি থেকে নীলাচল পরিবহনের জসীম খান বালু মাটি কাটা শুরু করেন। যে জায়গাটির মালিক আলাল চেয়ারম্যানের মা। জসীম খান আলাল চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। এই জায়গা থেকে মাটি কাটার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের জসীম ও সুজন দাবি করেন , এই মাটি তাদের। তাই জসীম খানের নিকট মাটি কাটা বাবদ ৩ লাখ টাকা দাবি জানান। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন নিহন্দ এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসীম।
বিষয়টি শ্রমিক নেতা জসীম খান শিবালয় থানা যুবদলের আহ্বায়ককে অবহিত করেন বলে জানান এই নেতা। থানা যুবদল নেতা মো. হোসেন আরও জানান, থানায় অভিযোগের পর ওসি নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিতে নীলাচলের জসীমকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন। এরই প্রেক্ষিতে, গতকাল সোমবার বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে নিহন্দ এলাকার জসীম তার দলবল নিয়ে  নীলাচলের পরিচালক জসীম খানকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এ সময় আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের রকিও হামলা থামাতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এটি অবশ্যই একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ও দলীয়ভাবে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন এই নেতা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য শ্রাবণ আহমেদ জসীমের মোবাইল ফোনে একাধিক কল দেয়া হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। একারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ছোট জসীম ও বড় জসিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার একদিন আগে শ্রাবন আহমেদ জসিম থানায় এসে জসিম খানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও করেন। এই হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রদল নেতার কোপে শ্রমিক নেতা হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় : ০১:৪০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ছাত্রদলের নাম ভাঙ্গে কথিত নেতার হামলার শিকার হয়েছেন শ্রমিক নেতা। চাঁদা না দেওয়া ছাত্রদল নেতার কোপে মারাত্মক জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আহতের পারিবার। গত সোমবার (২৬ মে) সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ছাত্রদলের কথিত নেতা জসীমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত শ্রমিক নেতা জসীম খানের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কপালে জসিম খানের চিৎকারে আশেপাশের স্থানীয়রা এসে গুরুতর আহত অবস্থায় জসীম খানকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জসিম খান দাসকান্দি গ্রামের কুদ্দুস খানের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের জায়গা ভাড়া নিয়ে বালু ব্যবসা ও নীলাচল পরিবহনের পরিচালক হিসেবে জড়িত আছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
জসিম খান জানান, উথুলী (নিহন্দ) এলাকার ছাত্রদল কর্মী শ্রাবণ আহমেদ জসিম ৫ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ না করার জের হিসেবে ছাত্রদলের ওই কথিত নেতা ৩০-৪০ জনের মুখোশধারী একটি সন্ত্রাসী বাহিনী সোমবার সন্ধ্যার দিকে জসীম খানকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।
শিবালয় থানা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হোসেন জানান, নিহন্দ এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসীম,পলাশসহ ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে বহিষ্কৃত ছাত্র নেতা দাউদের সাথে আরো কয়েকজন বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা পাটুরিয়া ঘাটে ৫ই আগস্ট এর পর একটি চাতাল ভাড়া নিয়ে বালুর ব্যবসা করে আসছিল। যদিও শিবালয়ে ছাত্রদলের কার্যকর কোন কমিটি এখন নেই। তথাপি, সেই ছেলেটি ছাত্রদলের পরিচয় দিয়ে দাপটের সঙ্গে বালু ব্যবসা করে আসছিল। গত ৫ আগস্টের আগে এই ছেলেকে দলের কোন মিছিল মিটিংয়ে সক্রিয় দেখা যায়নি।
জানা গেছে, এই জসীম তার অংশীদারদের নিয়ে পাটুরিয়া টার্মিনালের উত্তর পাশে কড়াই গাছের দক্ষিণ দিকে বাবুল মণ্ডলের জায়গা ভাড়া নিয়ে বালু স্তূপ করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ওই জায়গার সমুদয় বালুসহ স্তূপীকৃত মূল জায়গার বালুও বিক্রি করে বিশাল আকৃতির গর্ত খুঁড়েছেন তারা। ব্যবসায়িক বনিবনা না হওয়ায় বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা দাউদ এবং পলাশ জসীমের কাছ থেকে ব্যবসা বাদ দিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে শ্রাবণ আহমেদ জসীমের সাথে ব্যবসায়িক কারণে যুক্ত হয় দাসকান্দি এলাকার সুজনের সাথে।
ছাত্রদলের পরিচয় দানকারী জসীম যেখানে বালুর স্তূপ বানিয়েছিলেন তার পাশের ভিন্ন একটি জমি থেকে নীলাচল পরিবহনের জসীম খান বালু মাটি কাটা শুরু করেন। যে জায়গাটির মালিক আলাল চেয়ারম্যানের মা। জসীম খান আলাল চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয়। এই জায়গা থেকে মাটি কাটার প্রেক্ষিতে ছাত্রদলের জসীম ও সুজন দাবি করেন , এই মাটি তাদের। তাই জসীম খানের নিকট মাটি কাটা বাবদ ৩ লাখ টাকা দাবি জানান। এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন নিহন্দ এলাকার শ্রাবণ আহমেদ জসীম।
বিষয়টি শ্রমিক নেতা জসীম খান শিবালয় থানা যুবদলের আহ্বায়ককে অবহিত করেন বলে জানান এই নেতা। থানা যুবদল নেতা মো. হোসেন আরও জানান, থানায় অভিযোগের পর ওসি নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিতে নীলাচলের জসীমকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেন। এরই প্রেক্ষিতে, গতকাল সোমবার বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে নিহন্দ এলাকার জসীম তার দলবল নিয়ে  নীলাচলের পরিচালক জসীম খানকে কুপিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এ সময় আরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের রকিও হামলা থামাতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এটি অবশ্যই একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। তদন্ত সাপেক্ষ আইনগত ও দলীয়ভাবে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন এই নেতা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য শ্রাবণ আহমেদ জসীমের মোবাইল ফোনে একাধিক কল দেয়া হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। একারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ছোট জসীম ও বড় জসিমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ঘটনার একদিন আগে শ্রাবন আহমেদ জসিম থানায় এসে জসিম খানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও করেন। এই হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।