০৯:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
এনসিটিবি

বাড়তি বই ছেপে বছরে গচ্ছা শতকোটি টাকা

ফাইল ছবি

প্রতি বছর চাহিদার চাইতে বাড়তি বই ছাপতো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে গচ্ছা যেতো কয়েক’শ কোটি টাকা। সেসব বাড়তি বই আবার চলে যেতো ভাঙারির দোকানে। সেখান থেকে নিয়ে বিনামূল্যের এসব বই আবার বিক্রি হতো দোকানেও। প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে বই ছাপায় এনসিটিবি। বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি বইয়ের চাহিদা পাঠাতেন শিক্ষা অফিসাররা। এতে কয়েকশ কোটি টাকা জলে যেতো সরকারের। এবার এই প্রবণতা রোধে এনসিটিবি তিনটি পর্যায়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করেছে। প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণের পর বইয়ের ভুল চাহিদায় লাগাম টানতে যাচ্ছে এনসিটিবি। এতে বছরে সাশ্রয় হবে অš-ত ২০০ কোটি টাকা। কমে আসবে বই কালোবাজারির ঘটনাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যারা অতিরিক্ত বইয়ের তথ্য দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য আসতে শুরু করে। এই উদ্যোগের ফলে আগামীতে সুষ্ঠু বই বিতরণ সম্ভব হবে বলেও দাবি এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতের কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে এবার আগের মতো অতিরিক্ত বই ছাপিয়ে বিপুল অর্থ অপচয়ের সুযোগ আর থাকছে না। জানা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৪ কোটি বই কম ছাপানো হচ্ছে, যার ফলে অন্তত ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে বই ছাপায় এনসিটিবি। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়। এই প্রবণতা রোধে এবার এনসিটিবি তিনটি পর্যায়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করেছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ টিম গত জানুয়ারি মাস থেকে দেশের প্রতিটি জেলার তথ্য যাচাই শুরু করে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়, অতিরিক্ত চাহিদা পাঠালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থী নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা মিলিয়ে দেখা হয়। তৃতীয় ধাপে এনসিটিবির নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩২টি ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করে এনসিটিবি সরেজমিন তথ্য যাচাই করে। এসব টিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতা ও সরবরাহকৃত বইয়ের হিসাব মিলিয়ে গড়পড়তা ২৫-৩০ শতাংশ বেশি চাহিদার তথ্য পান।
জানা গেছে, এর মধ্যে বিশেষ নজরে ছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা। জানুয়ারিতে পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে যেসব বইয়ের প্রয়োজন দেখানো হয়েছিল, তা যাচাই করে দেখা যায় ৭৮ হাজার ৮৫০টি বইয়ের প্রয়োজন নেই, যা পূর্বের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগে শুধু অর্থ সাশ্রয়ী নয়, দীর্ঘদিনের একটি অনিয়মের সংস্কৃতি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক জুম বৈঠক করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। এনসিটিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জন্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে ২ কোটি ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ কোটি ৫২ লাখ বই এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ২১ কোটি ৫৮ লাখ বই ছাপানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার ছাপানো হচ্ছে ৩০ কোটি ১০ লাখ বই, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ১২ লাখ। অর্থাৎ এবার প্রায় ১০ কোটি বই কম ছাপানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর রিয়াদ চৌধুরী বলেন, গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক জুম বৈঠক করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। যারা অতিরিক্ত বইয়ের তথ্য দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য আসতে শুরু করে। আশা করি এই উদ্যোগ আগামীতে সুষ্ঠু বই বিতরণ সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিটিবি

বাড়তি বই ছেপে বছরে গচ্ছা শতকোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৪:৪০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

প্রতি বছর চাহিদার চাইতে বাড়তি বই ছাপতো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এতে গচ্ছা যেতো কয়েক’শ কোটি টাকা। সেসব বাড়তি বই আবার চলে যেতো ভাঙারির দোকানে। সেখান থেকে নিয়ে বিনামূল্যের এসব বই আবার বিক্রি হতো দোকানেও। প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে বই ছাপায় এনসিটিবি। বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি বইয়ের চাহিদা পাঠাতেন শিক্ষা অফিসাররা। এতে কয়েকশ কোটি টাকা জলে যেতো সরকারের। এবার এই প্রবণতা রোধে এনসিটিবি তিনটি পর্যায়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করেছে। প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণের পর বইয়ের ভুল চাহিদায় লাগাম টানতে যাচ্ছে এনসিটিবি। এতে বছরে সাশ্রয় হবে অš-ত ২০০ কোটি টাকা। কমে আসবে বই কালোবাজারির ঘটনাও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যারা অতিরিক্ত বইয়ের তথ্য দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য আসতে শুরু করে। এই উদ্যোগের ফলে আগামীতে সুষ্ঠু বই বিতরণ সম্ভব হবে বলেও দাবি এনসিটিবি সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুতের কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে এবার আগের মতো অতিরিক্ত বই ছাপিয়ে বিপুল অর্থ অপচয়ের সুযোগ আর থাকছে না। জানা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৪ কোটি বই কম ছাপানো হচ্ছে, যার ফলে অন্তত ২০০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতি বছর মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা অফিসারদের পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে বই ছাপায় এনসিটিবি। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল যে, বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় ১৫-২০ শতাংশ বেশি বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়। এই প্রবণতা রোধে এবার এনসিটিবি তিনটি পর্যায়ে তথ্য যাচাই করে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করেছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে এনসিটিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর রবিউল কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ টিম গত জানুয়ারি মাস থেকে দেশের প্রতিটি জেলার তথ্য যাচাই শুরু করে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলা হয়, অতিরিক্ত চাহিদা পাঠালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থী নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা মিলিয়ে দেখা হয়। তৃতীয় ধাপে এনসিটিবির নিজস্ব অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৩২টি ভ্রাম্যমাণ টিম গঠন করে এনসিটিবি সরেজমিন তথ্য যাচাই করে। এসব টিম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজিরা খাতা ও সরবরাহকৃত বইয়ের হিসাব মিলিয়ে গড়পড়তা ২৫-৩০ শতাংশ বেশি চাহিদার তথ্য পান।
জানা গেছে, এর মধ্যে বিশেষ নজরে ছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা। জানুয়ারিতে পাঠানো চাহিদার ভিত্তিতে যেসব বইয়ের প্রয়োজন দেখানো হয়েছিল, তা যাচাই করে দেখা যায় ৭৮ হাজার ৮৫০টি বইয়ের প্রয়োজন নেই, যা পূর্বের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগে শুধু অর্থ সাশ্রয়ী নয়, দীর্ঘদিনের একটি অনিয়মের সংস্কৃতি ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক জুম বৈঠক করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। এনসিটিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের জন্য প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে ২ কোটি ৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ৮ কোটি ৫২ লাখ বই এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ২১ কোটি ৫৮ লাখ বই ছাপানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এবার ছাপানো হচ্ছে ৩০ কোটি ১০ লাখ বই, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৪০ কোটি ১২ লাখ। অর্থাৎ এবার প্রায় ১০ কোটি বই কম ছাপানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর রিয়াদ চৌধুরী বলেন, গত সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর বইয়ের সঠিক চাহিদা নির্ধারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক জুম বৈঠক করে সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। যারা অতিরিক্ত বইয়ের তথ্য দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার পর থেকেই মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য আসতে শুরু করে। আশা করি এই উদ্যোগ আগামীতে সুষ্ঠু বই বিতরণ সম্ভব হবে।