১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সুপার ব্যালন ডি’অর ২০২৯

ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার কি মেসির হাতেই উঠছে?

  • রুমেল খান
  • আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • 234

লিওনেল মেসি

চার দশক পর আবারও বিশ্ব ফুটবল অপেক্ষা করছে এক বিরল সম্মাননার, যার নাম “সুপার ব্যালন ডি’অর”। সর্বশেষ ও একমাত্রবার ১৯৮৯ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করতে যাচ্ছে ফ্রান্স ফুটবল।

এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ফুটবল বিশ্বে যার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন লিওনেল মেসি। ডি স্টেফানোর মতো আরেক এই আর্জেন্টাইন ক্যারিয়ারের তৃতীয় দশকে পদার্পণ করেও যিনি এখনও গোল করছেন, শিরোপা জিতছেন এবং অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনিই কি তবে পেতে চলেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি?

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট বেশ আলোচিত হয়েছে। সেটি হচ্ছে মেসিকে শীর্ষে রেখে একটি জরিপের ফল। সেখানে বলা হয়েছে সুপার ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে মেসির সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। সেক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো (১৬%)। এর পরের স্থানগুলো ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (২%), ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (১%) এবং ব্রাজিলের রোনালদিনহো (১%)।

ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের উদ্যোগে ১৯৫৬ সাল থেকে দেয়া হয়ে আসছে ব্যালন ডি’অর। তবে এর থেকে আরও বিশেষ এক পুরস্কার হিসেবে ১৯৮৯ সালে চালু হয় “সুপার ব্যালন ডি’অর”। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়েও মাত্র একজন খেলোয়াড় পেয়েছেন এই সম্মাননা। তিনি ডি স্টেফানো।সুপার ব্যালন ডি’অর দেখতে অনেকটা সাধারণ ব্যালন ডি’অরের মতো হলেও এর নিচে সোনালী রঙের ছোট ছোট ফুটবলের সমাবেশ এটিকে আলাদা করেছে। রীতিমতো শিল্পকর্মের মতো এই ট্রফিটি প্রথম ও একমাত্র দেয়া হয় ১৯৮৯ সালে।

ডি স্টেফানো ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে ক্লাবটির টানা পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। রিয়ালের হয়ে করেন ৩০৮টি গোল। তিনি ব্যালন ডি’অর জেতেন ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে। এসব সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৮৯ সালে তাকে দেয়া হয় সুপার ব্যালন ডি’অর। স্টেফানোর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ এবং ফরাসি কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। তাদের পেছনে ফেলে ডি স্টেফানো পান সম্মানজনক এই স্বীকৃতি।

দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল এই ট্রফি। পরে ২০২১ সালে লন্ডনে একটি নিলামে এটি বিক্রি হয় ১,৮৭,৫০০ পাউন্ডে।

ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান দেয় ৪০ বছর পর আবার ফিরছে সুপার ব্যালন ডি’অর। তারা দর্শকদের জিজ্ঞাসা করেছে, ‘যদি এটি আবার দেয়া হয়, তাহলে কে পাবেন মেসি না ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো? নতুন করে পুরস্কারটি দেয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। শুধুমাত্র তারাই মনোনীত হতে পারবেন, যারা একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এবং গত ৩০ বছরে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ফলে প্রথমেই বাদ পড়েছেন নেইমার, এমবাপে, হালান্ডরা। আর এই বিবেচনায় সবার আগে নাম আসছে মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানোর। মেসি জিতেছেন রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি’অর। আর রোনাল্ডো জিতেছেন ৫ বার।

দুইজনই আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র। তাই এবার সুপার ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে উপযুক্ত দাবিদার কে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনা।

১৯৯৫ সালে ইউরোপের বাইরের ফুটবলারদের সম্মান জানাতে ফ্রান্স ফুটবল আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেয় “গোল্ডেন ব্যালন ডি’অর”। ঠিক তেমনি, এবার হয়তো আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকাদের একজনের হাতে উঠতে যাচ্ছে “সুপার ব্যালন ডি’অর”।

এই পুরস্কার দেওয়া হয় খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও প্রভাব, নেতৃত্ব ও ফুটবল সংস্কৃতিতে অবদানের ভিত্তিতে। মেসির পক্ষে যা যা রয়েছে তা হলো : ৮ বার ব্যালন ডি’অর জয়, সাড়ে ৭০০’র বেশি ক্লাব গোল এবং ১০০’র বেশি আন্তর্জাতিক গোল, ৪ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০ বার লা লিগা, ৪টি আন্তর্জাতিক শিরোপাসহ মোট ৪৬টি শিরোপা (যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপও), সবচেয়ে বেশি এ্যাসিস্ট, ম্যাচসেরা, সফল ড্রিবলিং ও আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক। আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘদিন পর ট্রফি খরা ঘোচানোর এই মহানায়ক ২০ বছরের বেশি সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাওয়া অন্যতম খেলোয়াড়। তার বিরুদ্ধে বিতর্ক বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রায় শূন্য। প্রতিটি ক্লাব ও কোচের কাছে শ্রদ্ধেয়, সতীর্থদের কাছে অনুপ্রেরণা তিনি।

বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও মিডিয়া হাউসগুলোও মেসিকেই এগিয়ে রাখছে। ইসএসপিএন, এল ইকুইপে, মার্কা, দ্য এ্যাথলেটিক, বিবিসি, ফোর ফোর টু … সব বড় গণমাধ্যমেরই বিশ্লেষণে উঠে আসছে মেসির ‘অন্য গ্রহের ফুটবলার’। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা বলেন, “সুপার ব্যালন ডি’অর যদি আবার দেওয়া হয়, তাহলে সেটা মেসির পাওয়াই উচিত। কারণ সে শুধু খেলেনি, খেলাটাকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে।”

২০২৯ সালের দিকে এগিয়ে চলা ফুটবল বিশ্ব যেন প্রস্তুত হচ্ছে মেসির যুগকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। এই পুরস্কার জয় তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, আর বিশ্ব ফুটবলের প্রতি তার অমূল্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হবে। এখন শুধু অপেক্ষা—মেসির হাতে কি উঠবে সেই সোনালি ট্রফি, যা কেবল একজনের ভাগ্যেই লেখা থাকে যুগে একবার?

আরকে/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

সুপার ব্যালন ডি’অর ২০২৯

ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার কি মেসির হাতেই উঠছে?

আপডেট সময় : ০২:৫৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

চার দশক পর আবারও বিশ্ব ফুটবল অপেক্ষা করছে এক বিরল সম্মাননার, যার নাম “সুপার ব্যালন ডি’অর”। সর্বশেষ ও একমাত্রবার ১৯৮৯ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি আর্জেন্টাইন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার প্রদান করতে যাচ্ছে ফ্রান্স ফুটবল।

এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে ফুটবল বিশ্বে যার নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন লিওনেল মেসি। ডি স্টেফানোর মতো আরেক এই আর্জেন্টাইন ক্যারিয়ারের তৃতীয় দশকে পদার্পণ করেও যিনি এখনও গোল করছেন, শিরোপা জিতছেন এবং অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনিই কি তবে পেতে চলেছেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি?

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি পোস্ট বেশ আলোচিত হয়েছে। সেটি হচ্ছে মেসিকে শীর্ষে রেখে একটি জরিপের ফল। সেখানে বলা হয়েছে সুপার ব্যালন ডি’অর জেতার ক্ষেত্রে মেসির সম্ভাবনা ৮০ শতাংশ। সেক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো (১৬%)। এর পরের স্থানগুলো ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (২%), ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান (১%) এবং ব্রাজিলের রোনালদিনহো (১%)।

ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনের উদ্যোগে ১৯৫৬ সাল থেকে দেয়া হয়ে আসছে ব্যালন ডি’অর। তবে এর থেকে আরও বিশেষ এক পুরস্কার হিসেবে ১৯৮৯ সালে চালু হয় “সুপার ব্যালন ডি’অর”। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সময়েও মাত্র একজন খেলোয়াড় পেয়েছেন এই সম্মাননা। তিনি ডি স্টেফানো।সুপার ব্যালন ডি’অর দেখতে অনেকটা সাধারণ ব্যালন ডি’অরের মতো হলেও এর নিচে সোনালী রঙের ছোট ছোট ফুটবলের সমাবেশ এটিকে আলাদা করেছে। রীতিমতো শিল্পকর্মের মতো এই ট্রফিটি প্রথম ও একমাত্র দেয়া হয় ১৯৮৯ সালে।

ডি স্টেফানো ১৯৫৬ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে ক্লাবটির টানা পাঁচটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। রিয়ালের হয়ে করেন ৩০৮টি গোল। তিনি ব্যালন ডি’অর জেতেন ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে। এসব সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৮৯ সালে তাকে দেয়া হয় সুপার ব্যালন ডি’অর। স্টেফানোর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডাচ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ এবং ফরাসি কিংবদন্তি মিশেল প্লাতিনি। তাদের পেছনে ফেলে ডি স্টেফানো পান সম্মানজনক এই স্বীকৃতি।

দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ছিল এই ট্রফি। পরে ২০২১ সালে লন্ডনে একটি নিলামে এটি বিক্রি হয় ১,৮৭,৫০০ পাউন্ডে।

ফ্রান্স ফুটবল কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান দেয় ৪০ বছর পর আবার ফিরছে সুপার ব্যালন ডি’অর। তারা দর্শকদের জিজ্ঞাসা করেছে, ‘যদি এটি আবার দেয়া হয়, তাহলে কে পাবেন মেসি না ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো? নতুন করে পুরস্কারটি দেয়ার ক্ষেত্রে একটি শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। শুধুমাত্র তারাই মনোনীত হতে পারবেন, যারা একাধিকবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন এবং গত ৩০ বছরে অসাধারণ অবদান রেখেছেন। ফলে প্রথমেই বাদ পড়েছেন নেইমার, এমবাপে, হালান্ডরা। আর এই বিবেচনায় সবার আগে নাম আসছে মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানোর। মেসি জিতেছেন রেকর্ড ৮ বার ব্যালন ডি’অর। আর রোনাল্ডো জিতেছেন ৫ বার।

দুইজনই আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র। তাই এবার সুপার ব্যালন ডি’অরের সবচেয়ে উপযুক্ত দাবিদার কে তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও উত্তেজনা।

১৯৯৫ সালে ইউরোপের বাইরের ফুটবলারদের সম্মান জানাতে ফ্রান্স ফুটবল আরেক আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেয় “গোল্ডেন ব্যালন ডি’অর”। ঠিক তেমনি, এবার হয়তো আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকাদের একজনের হাতে উঠতে যাচ্ছে “সুপার ব্যালন ডি’অর”।

এই পুরস্কার দেওয়া হয় খেলোয়াড়ের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও প্রভাব, নেতৃত্ব ও ফুটবল সংস্কৃতিতে অবদানের ভিত্তিতে। মেসির পক্ষে যা যা রয়েছে তা হলো : ৮ বার ব্যালন ডি’অর জয়, সাড়ে ৭০০’র বেশি ক্লাব গোল এবং ১০০’র বেশি আন্তর্জাতিক গোল, ৪ বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০ বার লা লিগা, ৪টি আন্তর্জাতিক শিরোপাসহ মোট ৪৬টি শিরোপা (যার মধ্যে রয়েছে বিশ্বকাপও), সবচেয়ে বেশি এ্যাসিস্ট, ম্যাচসেরা, সফল ড্রিবলিং ও আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক। আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘদিন পর ট্রফি খরা ঘোচানোর এই মহানায়ক ২০ বছরের বেশি সময় ধরে শীর্ষ পর্যায়ে খেলে যাওয়া অন্যতম খেলোয়াড়। তার বিরুদ্ধে বিতর্ক বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রায় শূন্য। প্রতিটি ক্লাব ও কোচের কাছে শ্রদ্ধেয়, সতীর্থদের কাছে অনুপ্রেরণা তিনি।

বিশ্বজুড়ে ফুটবল বিশ্লেষক, সাবেক খেলোয়াড় ও মিডিয়া হাউসগুলোও মেসিকেই এগিয়ে রাখছে। ইসএসপিএন, এল ইকুইপে, মার্কা, দ্য এ্যাথলেটিক, বিবিসি, ফোর ফোর টু … সব বড় গণমাধ্যমেরই বিশ্লেষণে উঠে আসছে মেসির ‘অন্য গ্রহের ফুটবলার’। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা বলেন, “সুপার ব্যালন ডি’অর যদি আবার দেওয়া হয়, তাহলে সেটা মেসির পাওয়াই উচিত। কারণ সে শুধু খেলেনি, খেলাটাকে নতুন সংজ্ঞা দিয়েছে।”

২০২৯ সালের দিকে এগিয়ে চলা ফুটবল বিশ্ব যেন প্রস্তুত হচ্ছে মেসির যুগকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। এই পুরস্কার জয় তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা, আর বিশ্ব ফুটবলের প্রতি তার অমূল্য অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হবে। এখন শুধু অপেক্ষা—মেসির হাতে কি উঠবে সেই সোনালি ট্রফি, যা কেবল একজনের ভাগ্যেই লেখা থাকে যুগে একবার?

আরকে/সবা