০৬:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে দুর্গোৎসব ৪৬৮টি মণ্ডপে: চলছে প্রতিমা তৈরি, সর্তক পুলিশ

আগামী ১৪ অক্টোবর মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হবে দেবী-বন্দনা। এদিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে, মাতৃপক্ষের সূচনা হবে। মূূলত মহালয়া এলেই সবাই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যান, এখন থেকে দুর্গাপূজার ক্ষণ গোনা শুরু। মহালয়ার পরদিন থেকেই মাতৃবন্দনা শুরু করবেন সনাতন ধর্মাম্বলীরা।
তাইতো এখন ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা কারিগরদের। ফুরসৎ নেই দম ফেলার! এরই মধ্যেই নগরীর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। সময়ের ব্যবধানে শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণ রূপ পাচ্ছে দেবীদুর্গার দৃষ্টিনন্দন সব প্রতিমা। প্রতিবারের ন্যয় এবারও রাজশাহী শহরে উৎসবমূখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বাংলা পঞ্জিকা মতে, ১৪ অক্টোবর শনিবার পালিত হবে মহালয়া। পরে আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে মহাষষ্ঠী। ২১ অক্টোবর শনিবার পালিত হবে মহাসপ্তমী। ২২ অক্টোবর রোববার পালিত হবে মহাঅষ্টমী। আর মহানবমী পালিত হবে ২৩ অক্টোবর সোমবার। পরেরদিন ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
এদিকে দুর্গোৎসবের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ হতে এখনো ২০ দিন বাকী থাকলেও ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নান প্রস্তুতি। ফলে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকার মন্দির-মণ্ডপে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এতে দারুণ ব্যস্ত শহরের প্রতিমা কারিগররা। কাদা-মাটি, খড়-কাঠ দিয়ে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
নগরীর আলুপট্টি এলাকার প্রতিমা কারিগর কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, এখন থেকে প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে থেকে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রায় ২০ থেকে ২৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন তিনি। প্রতিমায় মাটির বিভিন্ন কাজ এখন শেষের পথে। এখন চলছে মাটির সর্বশেষ পর্যায়ের কাজ। আর কয়দিন পরে প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙ-তুলির আঁচড়। পরে স্ব-স্ব মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পোঁছে দেয়া হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৩৮৯টি ও মহানগরীতে ৭৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব মণ্ডপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে। এজন্য দেয়া হয়েছে প্রায় ২৬টি নির্দেশনা। সবাইকে এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

অপরদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, শহরে এখন চারটি স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এসব স্থানে যখন থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে; তখন থেকেই নগর পুলিশ তাদের খোঁজ-খবর রাখছে এবং নিয়মিত মনিটরিং করছে। এটি আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলো দুর্গাপূজা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় করেছে। যখন দুর্গোৎসব শুরু হবে, তখন আমাদের রেগুলার যে দায়িত্ব থাকে, সেটি চলমান থাকবে।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি আনসারসহ র‌্যাব সদস্যরাও থাকবেন। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেখানে-যেখানে প্রয়োজন বা নিরাপত্তার যে বিষয় থাকবে- তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে। এভাবেই মূলত সমন্বিতভাবে উৎসবমুখর পরিবেশেই রাজশাহী মহানগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।
রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শরৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রাজশাহী শহরে এ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। এখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জানা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিবার যে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়, সেটি এবারও অব্যাহত থাকবে।

কোটা আন্দোলন: ঢাকা কলেজের সামনে অজ্ঞাত যুবক নিহত

রাজশাহীতে দুর্গোৎসব ৪৬৮টি মণ্ডপে: চলছে প্রতিমা তৈরি, সর্তক পুলিশ

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ অক্টোবর ২০২৩

আগামী ১৪ অক্টোবর মহালয়ার পর প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হবে দেবী-বন্দনা। এদিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে, মাতৃপক্ষের সূচনা হবে। মূূলত মহালয়া এলেই সবাই পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে যান, এখন থেকে দুর্গাপূজার ক্ষণ গোনা শুরু। মহালয়ার পরদিন থেকেই মাতৃবন্দনা শুরু করবেন সনাতন ধর্মাম্বলীরা।
তাইতো এখন ব্যস্ততা বেড়েছে প্রতিমা কারিগরদের। ফুরসৎ নেই দম ফেলার! এরই মধ্যেই নগরীর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমালয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা। সময়ের ব্যবধানে শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণ রূপ পাচ্ছে দেবীদুর্গার দৃষ্টিনন্দন সব প্রতিমা। প্রতিবারের ন্যয় এবারও রাজশাহী শহরে উৎসবমূখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বাংলা পঞ্জিকা মতে, ১৪ অক্টোবর শনিবার পালিত হবে মহালয়া। পরে আগামী ২০ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে মহাষষ্ঠী। ২১ অক্টোবর শনিবার পালিত হবে মহাসপ্তমী। ২২ অক্টোবর রোববার পালিত হবে মহাঅষ্টমী। আর মহানবমী পালিত হবে ২৩ অক্টোবর সোমবার। পরেরদিন ২৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
এদিকে দুর্গোৎসবের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ হতে এখনো ২০ দিন বাকী থাকলেও ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নান প্রস্তুতি। ফলে রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন এলাকার মন্দির-মণ্ডপে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এতে দারুণ ব্যস্ত শহরের প্রতিমা কারিগররা। কাদা-মাটি, খড়-কাঠ দিয়ে পুরোদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
নগরীর আলুপট্টি এলাকার প্রতিমা কারিগর কার্তিক চন্দ্র পাল বলেন, এখন থেকে প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে থেকে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রায় ২০ থেকে ২৫টি প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছেন তিনি। প্রতিমায় মাটির বিভিন্ন কাজ এখন শেষের পথে। এখন চলছে মাটির সর্বশেষ পর্যায়ের কাজ। আর কয়দিন পরে প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙ-তুলির আঁচড়। পরে স্ব-স্ব মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পোঁছে দেয়া হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবার জেলায় ৩৮৯টি ও মহানগরীতে ৭৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব মণ্ডপের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে। এজন্য দেয়া হয়েছে প্রায় ২৬টি নির্দেশনা। সবাইকে এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

অপরদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এখন থেকেই কাজ শুরু করেছে উল্লেখ করে রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, শহরে এখন চারটি স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। এসব স্থানে যখন থেকে প্রতিমা তৈরীর কাজ শুরু হয়েছে; তখন থেকেই নগর পুলিশ তাদের খোঁজ-খবর রাখছে এবং নিয়মিত মনিটরিং করছে। এটি আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যেই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ থানাগুলো দুর্গাপূজা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিনিময় করেছে। যখন দুর্গোৎসব শুরু হবে, তখন আমাদের রেগুলার যে দায়িত্ব থাকে, সেটি চলমান থাকবে।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি আনসারসহ র‌্যাব সদস্যরাও থাকবেন। কয়েক দিনের মধ্যে আমরা স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবো। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যেখানে-যেখানে প্রয়োজন বা নিরাপত্তার যে বিষয় থাকবে- তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে। এভাবেই মূলত সমন্বিতভাবে উৎসবমুখর পরিবেশেই রাজশাহী মহানগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করি।
রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শরৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রাজশাহী শহরে এ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি চলছে। এখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জানা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিবার যে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়, সেটি এবারও অব্যাহত থাকবে।