দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের জন্য বিকল্প জীবিকায়নের অংশ হিসেবে ছাগলসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে এই উদ্যোগে যেমন কিছু জেলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, তেমনি অনেকে অনিয়ম ও নিম্নমানের ছাগল বিতরণের অভিযোগ তুলেছেন।
শনিবার (২১ জুন) সকালে হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার ৭১ জন নিবন্ধিত দরিদ্র জেলের মাঝে ২টি করে ছাগল, খোঁয়াড় নির্মাণ সামগ্রী, পশু খাদ্য, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ করা হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত এ কার্যক্রমটি “প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (দ্বিতীয় পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও এ বি এম মশিউজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেটেরিনারি সার্জন ডা. প্রবীর কুমার দে এবং উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুনেচ্ছা।
প্রত্যেক উপকারভোগী জেলেকে আনুমানিক ২৯ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের উপকরণ সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে ছাগল বিতরণের সময় তাৎক্ষণিকভাবে পিপিআর টিকাদানও সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ছিল ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০ টাকা।
তবে বিতরণকৃত ছাগলের মান নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে। গড়দুয়ারা, গুমানমর্দ্দন, মধ্যম মাদার্শা, মদুনাঘাট ও উত্তর বুড়িশ্চরের অন্তত ২০ জন জেলে অভিযোগ করেন, অনেক ছাগলই রোগাক্রান্ত, আকারে ছোট এবং অপ্রতুল।
মাদার্শার এক জেলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৫ বছর ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনছি। এবার কিছু পেলেও ছাগলের মানে আমরা হতাশ।”
হালদা ডিম সংগ্রহকারী সমিতির সভাপতি মো. শফিউল আলম জানান, ছাগলের ওজন ও মান নিয়ে জেলেরা প্রশ্ন তুললে ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জনকে ৮ কেজির অধিক ওজনের সুস্থ ছাগল সরবরাহ করা হয়। বাকি ২০ জনকে পরদিন ছাগল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুনেচ্ছা বলেন, “গতকাল ৭১ জনকে ছাগল ও অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হয়েছে। যারা গতকাল ছাগল নেননি, তারা আজ কান্নাকাটি করলেও নতুন বরাদ্দ থেকে ১৮ জনকে দেওয়া হয়েছে। গতকলের ২জন আজকের নতুন ১৮ জন মোট ২০ জন আজ পেয়েছেন। গতকাল ও আজ মোট ছাগল দেওয়া হয়েছে ৭১ জনকে।উল্লেখ্য পর্যায়ক্রমে ৩২০ জন জেলেকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।”
তবে এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
হালদা নদীতে প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার।
























