১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশিকে পুশইন

কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা মোঃ আলতাফ (৩৯) দীর্ঘ বছর জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়ে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও কাজ জুটেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
আলতাফের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকেসহ আরও মোট ১৩ জনকে হাত ও চোখ বেঁধে সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে সীমান্তের কাছাকাছি এনে হাত ও চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে। নারী, শিশু ও পুরুষসহ এসব ব্যক্তিদের জেলার বিভিন্ন উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ঠেলে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
৪ বিজিবি ও ১০ বিজিবির তথ্যমতে, গত ২২ মে ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৪ বিজিবির আওতাধীন সীমান্ত এলাকা থেকে ২৪ জন এবং ১০ বিজিবির আওতাধীন এলাকা থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ১৩ জন শিশু ছিল।
এর এক সপ্তাহ পর ৩০ মে ভোরে ছাগলনাইয়া
এক মাসে ৬৩ জনকে ‘পুশইন’ ‘যদিও তারা আমাদের দেশের নাগরিক, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে যা মেনে চলা উচিত। তবে বিএসএফ সেই প্রটোকল অনুসরণ না করে রাতের অন্ধকার ও বৈরি আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তাদের ছেড়ে দিচ্ছে।
উপজেলার মটুয়া সীমান্ত দিয়ে আরও ১৩ জনকে পুশ ইন করা হয়। এদের মধ্যে ৬ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ রয়েছে। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) একই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করা ৩-
হয়। এদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়।
‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পুশইন করছে বিএসএফ’গত এক মাসে তিনবার ফেনীর বিভিন্ন
উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। এসব ঘটনার পর বিজিবি পক্ষ থেকে প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হলেও বিএসএফ তা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের এভাবে পুশইন করা শিষ্টাচারবহির্ভূত।
যদিও তারা আমাদের দেশের নাগরিক, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে যা মেনে চলা উচিত। তবে বিএসএফ সেই প্রটোকল অনুসরণ না করে রাতের অন্ধকার ও বৈরি আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা ইটভাটায় শ্রমিক, গৃহস্থালীর কাজসহ বিভিন্ন অস্থায়ী পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
পুশইন হওয়া মোমিনা বেগম বলেন, আমি কয়েক বছর আগে কাজের খোঁজে ভারতে গিয়েছিলাম। সেখানে গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত ছিলাম। হঠাৎ করে আমিসহ আরো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে আসে বিএসএফ। পরে আমাদের চোখ-মুখ বেঁধে সঙ্গে সীমান্তে এনে ফেলে রেখে যায়।
পুশইন হওয়া আমিনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে যাই। সেখানে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন আমাকে ধরে বিএসএফ সীমান্তে নিয়ে এসে রেখে যায়।
এদিকে সম্প্রতি পুশইনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী পৈথারা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, সীমান্তে যেভাবে একের পর এক পুশইন ঘটছে, তা শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, আমাদের এলাকার নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।
আমাদের বাড়িঘর সীমান্তের একেবারে কাছেই। ফলে এসব ঘটনা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা।
ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার আরেক বাসিন্দা নাজিম বলেন,
প্রতিনিয়ত সীমান্ত দিয়ে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো খবর শুনে আমরা গ্রামবাসীরা আতঙ্কে আছি। এই ধরনের পুশইন আমাদের এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য হুমকি। আমরা চাই, সরকার এই ব্যাপারটা গুরুত্ব সহকারে দেখুক এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকার পরও কীভাবে পুশইনের ঘটনা ঘটে এমন প্রশ্নের উত্তরে
বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা যখন শূন্য রেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন তাদের ফেরত পাঠানোর সুযোগ নেই। আমরা চাইলে তাদের নোম্যানসল্যান্ডে দিনের পর দিন আটকে রাখতে পারি, কিন্তু সেটা হবে আরও অমানবিক। কারণ, তারা আমাদের দেশেরই মানুষ। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের পরিচয় যাচাই করে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা বাংলাদেশী নাগরিক না হলে তাদেরকে পুশব্যাক করে দেওয়া যেত।
পুশইন হওয়া ৬৩ জন সম্পর্কে তিনি বলেন, সবারই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়েছে এবং সবার ঠিকানা পাওয়া গেছে। আমরা ঠিকানানুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা তাদের নিজ নিজ জেলা পাঠিয়েছি।
জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশিকে পুশইন

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা মোঃ আলতাফ (৩৯) দীর্ঘ বছর জীবিকার তাগিদে ভারতে গিয়ে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তার বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও কাজ জুটেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
আলতাফের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকেসহ আরও মোট ১৩ জনকে হাত ও চোখ বেঁধে সীমান্তের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে সীমান্তের কাছাকাছি এনে হাত ও চোখের বাঁধন খুলে দেওয়া হয় এবং বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত এক মাসে ফেনীর বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে। নারী, শিশু ও পুরুষসহ এসব ব্যক্তিদের জেলার বিভিন্ন উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ঠেলে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি।
৪ বিজিবি ও ১০ বিজিবির তথ্যমতে, গত ২২ মে ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করে বিএসএফ। এদের মধ্যে ৪ বিজিবির আওতাধীন সীমান্ত এলাকা থেকে ২৪ জন এবং ১০ বিজিবির আওতাধীন এলাকা থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৫ জন নারী এবং ১৩ জন শিশু ছিল।
এর এক সপ্তাহ পর ৩০ মে ভোরে ছাগলনাইয়া
এক মাসে ৬৩ জনকে ‘পুশইন’ ‘যদিও তারা আমাদের দেশের নাগরিক, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে যা মেনে চলা উচিত। তবে বিএসএফ সেই প্রটোকল অনুসরণ না করে রাতের অন্ধকার ও বৈরি আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তাদের ছেড়ে দিচ্ছে।
উপজেলার মটুয়া সীমান্ত দিয়ে আরও ১৩ জনকে পুশ ইন করা হয়। এদের মধ্যে ৬ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ৪ জন পুরুষ রয়েছে। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) একই উপজেলার সীমান্ত দিয়ে আরও ১১ জন বাংলাদেশিকে পুশইন করা ৩-
হয়। এদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৭ জন নারী ও ৩ জন শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি যশোর, নড়াইল ও সাতক্ষীরা জেলায়।
‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে পুশইন করছে বিএসএফ’গত এক মাসে তিনবার ফেনীর বিভিন্ন
উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ৬৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ ইন করেছে বিএসএফ। এসব ঘটনার পর বিজিবি পক্ষ থেকে প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হলেও বিএসএফ তা গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের এভাবে পুশইন করা শিষ্টাচারবহির্ভূত।
যদিও তারা আমাদের দেশের নাগরিক, তাদের ফেরত পাঠানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কূটনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে যা মেনে চলা উচিত। তবে বিএসএফ সেই প্রটোকল অনুসরণ না করে রাতের অন্ধকার ও বৈরি আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। এসব ঘটনার প্রতিরোধে সীমান্তে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা ইটভাটায় শ্রমিক, গৃহস্থালীর কাজসহ বিভিন্ন অস্থায়ী পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
পুশইন হওয়া মোমিনা বেগম বলেন, আমি কয়েক বছর আগে কাজের খোঁজে ভারতে গিয়েছিলাম। সেখানে গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত ছিলাম। হঠাৎ করে আমিসহ আরো কয়েকজনকে ধরে নিয়ে আসে বিএসএফ। পরে আমাদের চোখ-মুখ বেঁধে সঙ্গে সীমান্তে এনে ফেলে রেখে যায়।
পুশইন হওয়া আমিনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে যাই। সেখানে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন আমাকে ধরে বিএসএফ সীমান্তে নিয়ে এসে রেখে যায়।
এদিকে সম্প্রতি পুশইনের ঘটনা বাড়তে থাকায় জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী পৈথারা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আজিম বলেন, সীমান্তে যেভাবে একের পর এক পুশইন ঘটছে, তা শুধু মানবিক দিক থেকেই নয়, আমাদের এলাকার নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়।
আমাদের বাড়িঘর সীমান্তের একেবারে কাছেই। ফলে এসব ঘটনা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা।
ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার আরেক বাসিন্দা নাজিম বলেন,
প্রতিনিয়ত সীমান্ত দিয়ে যেভাবে লোকজনকে ঠেলে পাঠানো খবর শুনে আমরা গ্রামবাসীরা আতঙ্কে আছি। এই ধরনের পুশইন আমাদের এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য হুমকি। আমরা চাই, সরকার এই ব্যাপারটা গুরুত্ব সহকারে দেখুক এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকার পরও কীভাবে পুশইনের ঘটনা ঘটে এমন প্রশ্নের উত্তরে
বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। তারা যখন শূন্য রেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন তাদের ফেরত পাঠানোর সুযোগ নেই। আমরা চাইলে তাদের নোম্যানসল্যান্ডে দিনের পর দিন আটকে রাখতে পারি, কিন্তু সেটা হবে আরও অমানবিক। কারণ, তারা আমাদের দেশেরই মানুষ। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় করে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের পরিচয় যাচাই করে নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে তারা বাংলাদেশী নাগরিক না হলে তাদেরকে পুশব্যাক করে দেওয়া যেত।
পুশইন হওয়া ৬৩ জন সম্পর্কে তিনি বলেন, সবারই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়েছে এবং সবার ঠিকানা পাওয়া গেছে। আমরা ঠিকানানুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা তাদের নিজ নিজ জেলা পাঠিয়েছি।