০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প : ব্যয় বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি

নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৫ নম্বর সড়ক। এই সড়কের দুই নম্বর প্লটে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়। পাঁচতলা ভবনটির নিচতলা পুরোপুরি পরিত্যক্ত প্রায় আট বছর। বৃষ্টি ও জোয়ারে পানি জমায় বাধ্য হয়ে শিক্ষা প্রকৌশলের অফিস সরিয়ে নেয়া হয় নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত জেলা শিক্ষা অফিসের নিচতলা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টিতে এখনও হাঁটুপানি জমে যায় ভবনের নিচতলায়। ভোগান্তিতে পড়েন এই অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবাগ্রহীতারা। জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, এখানে আমাদের সম্মেলন কক্ষ ও পরিদর্শকদের রুম ছিল। নগরীর অন্যপ্রান্তে বাকলিয়া এই এলাকার ইসহাক সওদাগরের পুল, ময়দার মিল ও বাদিয়ার টেক। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও বর্ষার আগেই বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকা। গত মে-জুন মাসেও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ইসহাক পুল সংলগ্ন মুদি দোকানদার মো. রনি জানান, ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন চাক্তাই খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও খাল সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। তবুও এই এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা যায়নি। সম্প্রতি জোয়ারের পানি দোকানে ঢুকে ফ্রিজসহ মালামাল নষ্ট হয়েছে। জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আমরা নগরীর ৩৬টি খাল নিয়ে কাজ করছি। এর বাইরে আরও ২১টি খাল রয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসন করার জন্য সবগুলো খালের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে অনেক খালে আমরা কাজ করতে পারিনি। আগামী বছরের মধ্যে আশা করছি ৩৬টি খালের কাজ শেষ হবে। এতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমবে।তিনি জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ২৫টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকলিয়া, বির্জা, চাক্তাই, চাক্তাই ডাইভারশন, মির্জা- এই পাঁচটি খালে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রামপুর, জামালখাল, মির্জা এক্সটেনশন খালে ৫০ শতাংশের কম কাজ হয়েছে; যা আগামী বছর শেষ হবে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে হিজড়া খালের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এই খালের কাজ মাত্র ১০ ভাগ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার মধ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ নিজে এবং অন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে।তিন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৪ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে চার প্রকল্পের মধ্যে ব্যয় বেড়েছে তিনটি প্রকল্পের। সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প।এই তিনটি প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় ছিল আট হাজার ২১৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দফায় দফায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় বেড়েছে চার হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়েনি। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। যা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এটি জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ১৯টি খালের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং ৫টি খালের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৩ শতাংশ।কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প: দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ বাস্তবায়ন করছে ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প। প্রকল্পের শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৩১০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪৬৯ কোটি টাকা। ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ।প্রকল্পের নয় কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনও বাকি এক কিলোমিটারের কাজ। প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। খালের মুখে ১২টি জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি রেগুলেটর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। যেগুলো গত বর্ষায় চালু ছিল। বাকি ২টি রেগুলেটরের কাজ চলছে।বারইপাড়া খাল: ২০১৪ সালে একনেক সভায় বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পটির অনুমোদন পায়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে একাধিকবার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয় এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। দুই দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বারইপাড়া খালের প্রস্থ ৬৫ ফুট।প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাড়ে ২০ ফুট করে দুটি রাস্তা এবং ছয় ফুট প্রস্থের দুটি করে ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া খালের দুই পাড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার রিটেইনিং ওয়াল, নয়টি আরসিসি ব্রিজ, দুই লাখ ৮৪ হাজার ৮৮১ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন এবং সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ।নগরীর এক কিলোমিটার অংশ থেকে বারইপাড়া খালের চাক্তাই অংশ পর্যন্ত ৯০০ মিটার অংশের কাজ বাকি আছে। খালের দুই পাড়ে দুই কিলোমিটার অংশের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ৯টি ব্রিজের মধ্যে ছয়টির কাজ শেষ। বাকি তিনটি ব্রিজের কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজও শিগগিরই শেষ করা হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প: চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু মহামারি কোভিড-১৯’র কারণে মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের ভৌতকাজ বাস্তবায়নে দেরি হয়ে যায়।এখন সংশোধনীতে দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এখন ৫৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমিয়ে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প : ব্যয় বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি

আপডেট সময় : ০৬:১৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৫ নম্বর সড়ক। এই সড়কের দুই নম্বর প্লটে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়। পাঁচতলা ভবনটির নিচতলা পুরোপুরি পরিত্যক্ত প্রায় আট বছর। বৃষ্টি ও জোয়ারে পানি জমায় বাধ্য হয়ে শিক্ষা প্রকৌশলের অফিস সরিয়ে নেয়া হয় নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত জেলা শিক্ষা অফিসের নিচতলা পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। জোয়ার ও বৃষ্টিতে এখনও হাঁটুপানি জমে যায় ভবনের নিচতলায়। ভোগান্তিতে পড়েন এই অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবাগ্রহীতারা। জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, এখানে আমাদের সম্মেলন কক্ষ ও পরিদর্শকদের রুম ছিল। নগরীর অন্যপ্রান্তে বাকলিয়া এই এলাকার ইসহাক সওদাগরের পুল, ময়দার মিল ও বাদিয়ার টেক। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও বর্ষার আগেই বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকা। গত মে-জুন মাসেও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ইসহাক পুল সংলগ্ন মুদি দোকানদার মো. রনি জানান, ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন চাক্তাই খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ ও খাল সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে। তবুও এই এলাকা থেকে জলাবদ্ধতা যায়নি। সম্প্রতি জোয়ারের পানি দোকানে ঢুকে ফ্রিজসহ মালামাল নষ্ট হয়েছে। জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আমরা নগরীর ৩৬টি খাল নিয়ে কাজ করছি। এর বাইরে আরও ২১টি খাল রয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা সম্পূর্ণ নিরসন করার জন্য সবগুলো খালের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে অনেক খালে আমরা কাজ করতে পারিনি। আগামী বছরের মধ্যে আশা করছি ৩৬টি খালের কাজ শেষ হবে। এতে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কমবে।তিনি জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ২৫টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকলিয়া, বির্জা, চাক্তাই, চাক্তাই ডাইভারশন, মির্জা- এই পাঁচটি খালে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রামপুর, জামালখাল, মির্জা এক্সটেনশন খালে ৫০ শতাংশের কম কাজ হয়েছে; যা আগামী বছর শেষ হবে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে হিজড়া খালের কাজ করা সম্ভব হয়নি। এই খালের কাজ মাত্র ১০ ভাগ শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৫৫ শতাংশ। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যার মধ্যে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিডিএ নিজে এবং অন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে।তিন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ৪ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা জলাবদ্ধতা নিরসনে চার প্রকল্পের মধ্যে ব্যয় বেড়েছে তিনটি প্রকল্পের। সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্প।এই তিনটি প্রকল্পের শুরুতে ব্যয় ছিল আট হাজার ২১৫ কোটি টাকা। পরবর্তীতে দফায় দফায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। তিন প্রকল্পে মোট ব্যয় বেড়েছে চার হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। তবে এর মধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়েনি। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। যা বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এটি জলাবদ্ধতা নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ১৯টি খালের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং ৫টি খালের কাজ ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭৮ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৩ শতাংশ।কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প: দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ বাস্তবায়ন করছে ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প। প্রকল্পের শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয় দুই হাজার ৩১০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এ প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় দুই হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪৬৯ কোটি টাকা। ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’ নামে এই প্রকল্পের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ।প্রকল্পের নয় কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনও বাকি এক কিলোমিটারের কাজ। প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর তীরঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২৪ ফুট উঁচু ও ৮০ ফুট প্রশস্ত চার লেনের সড়ক কাম বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। খালের মুখে ১২টি জোয়ার-ভাটা প্রতিরোধক রেগুলেটর ও পাম্পহাউস স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি রেগুলেটর নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। যেগুলো গত বর্ষায় চালু ছিল। বাকি ২টি রেগুলেটরের কাজ চলছে।বারইপাড়া খাল: ২০১৪ সালে একনেক সভায় বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পটির অনুমোদন পায়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পরবর্তীকালে একাধিকবার প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে হয় এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে এক হাজার ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ৮০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ। দুই দশমিক ৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বারইপাড়া খালের প্রস্থ ৬৫ ফুট।প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাড়ে ২০ ফুট করে দুটি রাস্তা এবং ছয় ফুট প্রস্থের দুটি করে ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া খালের দুই পাড়ে সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার রিটেইনিং ওয়াল, নয়টি আরসিসি ব্রিজ, দুই লাখ ৮৪ হাজার ৮৮১ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন এবং সাড়ে পাঁচ হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ।নগরীর এক কিলোমিটার অংশ থেকে বারইপাড়া খালের চাক্তাই অংশ পর্যন্ত ৯০০ মিটার অংশের কাজ বাকি আছে। খালের দুই পাড়ে দুই কিলোমিটার অংশের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ৯টি ব্রিজের মধ্যে ছয়টির কাজ শেষ। বাকি তিনটি ব্রিজের কাজও চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের বাকি কাজও শিগগিরই শেষ করা হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প: চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত হয়েছিল। কিন্তু মহামারি কোভিড-১৯’র কারণে মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের ভৌতকাজ বাস্তবায়নে দেরি হয়ে যায়।এখন সংশোধনীতে দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় ছিল এক হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এখন ৫৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কমিয়ে সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৫৬৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এটি বাস্তবায়ন করছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।