০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবও কারচুপি করেছিলেন: আদালতে হাবিবুল আউয়াল

রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিতর্কিত নির্বাচনের অভিযোগে গ্রেফতার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবও ১৯৭২ সালের নির্বাচনে কারচুপি করেছিলেন।’
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেরে বাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় হাজিরা দিতে এসে আউয়াল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে কেউ দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনতে পারবে না। আমি স্বীকার করি, দেশে ‘ডামি নির্বাচন’ হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবই মূল কারণ।’
বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘আপনার অধীনে অফিসাররা অনিয়ম করেছে, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?’
জবাবে আউয়াল বলেন, ‘আমি মনে করি না আমি কাউকে প্রভাবিত করেছি। সিইসি হিসেবে আমি ফিল্ড অফিসারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অনেকাংশে সীমিত। আমরা শুধু লজিস্টিক সাপোর্ট দিই। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেই।’
বিচারক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আপনার কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। যদি সব অনিয়ম জানতেন, তাহলে আপনি পদত্যাগ করলেন না কেন?’
আউয়াল জবাবে বলেন, ‘আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না। আমি গভীরভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সব গুলোই বিতর্কিত ছিল।’
বিচারক বলেন, ‘রিজাইন করলে জাতিকে একটা বার্তা দেওয়া যেত।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আমার দ্বারা সম্ভব ছিল না।’
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া আগামী এক হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এখন এসব বলার সুযোগ নেই। আপনি তখন কী করেছিলেন?’
জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘তাহলে একটা রিভলভার দিয়ে মেরে ফেলুন। সবাইকে দোষ দেওয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি।’
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিবিতে শুরু হলো প্রাণিস্বাস্থ্য ও মৎস্য খাতের প্রদর্শনী

ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবও কারচুপি করেছিলেন: আদালতে হাবিবুল আউয়াল

আপডেট সময় : ০১:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিতর্কিত নির্বাচনের অভিযোগে গ্রেফতার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে শেখ মুজিবও ১৯৭২ সালের নির্বাচনে কারচুপি করেছিলেন।’
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেরে বাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় হাজিরা দিতে এসে আউয়াল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
বিচারকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে কেউ দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনতে পারবে না। আমি স্বীকার করি, দেশে ‘ডামি নির্বাচন’ হয়েছে। কিন্তু এর পেছনে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাবই মূল কারণ।’
বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্ন করেন, ‘আপনার অধীনে অফিসাররা অনিয়ম করেছে, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন?’
জবাবে আউয়াল বলেন, ‘আমি মনে করি না আমি কাউকে প্রভাবিত করেছি। সিইসি হিসেবে আমি ফিল্ড অফিসারদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অনেকাংশে সীমিত। আমরা শুধু লজিস্টিক সাপোর্ট দিই। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেই।’
বিচারক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আপনার কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। যদি সব অনিয়ম জানতেন, তাহলে আপনি পদত্যাগ করলেন না কেন?’
আউয়াল জবাবে বলেন, ‘আমার পক্ষে সেটা সম্ভব ছিল না। আমি গভীরভাবে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সব গুলোই বিতর্কিত ছিল।’
বিচারক বলেন, ‘রিজাইন করলে জাতিকে একটা বার্তা দেওয়া যেত।’ জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা আমার দ্বারা সম্ভব ছিল না।’
আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মৌলিক রাজনৈতিক সংস্কার ছাড়া আগামী এক হাজার বছরেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এখন এসব বলার সুযোগ নেই। আপনি তখন কী করেছিলেন?’
জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘তাহলে একটা রিভলভার দিয়ে মেরে ফেলুন। সবাইকে দোষ দেওয়ার জন্য আমি এখানে আসিনি।’
এমআর/সবা