০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী নিলয়ের হাত ধরে দেশে যাত্রা শুরু করল পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘বোল্ড ক্লাব’

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নিলয় ধর নীল। ক্যাম্পাসজীবনের শুরু থেকেই যিনি পরিচিত ছিলেন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য—এবার সেই নিলয়ই গড়েছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্ল্যাটফর্ম—‘বোল্ড ক্লাব’। দেশের বিভিন্ন কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মউন্নয়ন, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে এই ক্লাবটি।
২০২৫ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করা ‘বোল্ড ক্লাব’ একেবারেই নতুন ধারণার একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশে প্রথম পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শুরু থেকেই অনলাইনে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে প্রথম ব্যাচেই দেশের ১৯টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজ-  বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন। সদস্যরা নিজেদের নেতৃত্ব গঠন, আত্মবিশ্বাস তৈরি এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। ক্লাবটির মূল উদ্দেশ্য—ক্যাম্পাস থেকেই নিজেকে বোল্ড পার্সোনাল ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা এবং নিজের সামর্থ্যকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ্যে আনা।
পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংভিত্তিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে নিলয় বলেন,
আমি এমন একটি কমিউনিটি তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে যে, ক্লাসে আসা আর ভালো ফল করলেই সব শেষ নয়। নিজেকে প্রমাণ করতে হলে নিজের প্রতিভা, চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগকে সামনে আনতে হবে। আমি চাই—প্রত্যেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকেই বোল্ড পার্সোনাল ব্র্যান্ড হয়ে উঠুক এবং তার নিজস্ব গল্প নিজেই লিখুক।
বোল্ড ক্লাবে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন, পার্সোনাল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে ওঠার কৌশল, আত্মবিশ্বাস গঠনের প্রশিক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেজেন্টেশন দক্ষতা, ক্লাব ও আয়োজন পরিচালনার কৌশল এবং কর্পোরেট কানেকশন তৈরির সুযোগ। বাংলাদেশে এর আগে এমন কোনো ক্লাব হয়নি, যা শুধুমাত্র পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করে। শুরু থেকেই ক্লাবটি সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ক্লাব ঘিরে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি অনলাইন সেশন ও মেন্টরশিপভিত্তিক নেটওয়ার্কিং কর্মশালা—যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ক্লাবের অন্যতম সদস্য ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (সুমন) বলেন, বোল্ড ক্লাবে যুক্ত হওয়ার পর আমি নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছি। এখন ডিপার্টমেন্টে নানা কাজে নেতৃত্ব দিতে পারি। নিজেকে আলাদা করে গড়ার জন্য এই ক্লাব আমাকে নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছে।
আরেক সদস্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অন্তু জানান, আমি আগে কখনো ভাবিনি, অনলাইনেই এত কিছু শেখা সম্ভব। বোল্ড ক্লাবে যুক্ত হয়ে বুঝেছি, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আগে নিজের শক্তিগুলো চিনতে হবে। এখন আমি শিখছি কিভাবে নিজের ভিতরের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসে একজন পার্সোনাল বোল্ড হয়ে উঠা যায় এবং ফেসবুক ও লিংকডইন প্রোফাইলকে আরও প্রফেশনালভাবে উপস্থাপন করা যায়।
নিলয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান একটি সেমিনারে ‘বোল্ড ক্লাব’-এর সূচনাকে সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং নিলয়কে শুভেচ্ছা জানান।
বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. সবুর খান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং গড়ে ওঠে তার স্কুল-কলেজ জীবনের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। সে কী হতে চায়, কোথায় যেতে চায়, আর সেটা সে কতটা পরিষ্কারভাবে অন্যদের বোঝাতে পারে—এই দক্ষতা না থাকলে কর্মজীবনে নানা সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ছাত্রজীবনেই আত্মপরিচয়, লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। সে জায়গায় ‘বোল্ড ক্লাব’ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আফতাব হোসেন বলেন, নিলয়ের মধ্যে আমি সবসময় নেতৃত্বের শক্তি দেখেছি। তার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে নিজেদের প্রকাশ করার ক্ষেত্রে।
সবশেষে বলা যায়, ‘বোল্ড ক্লাব’ কেবল একটি ক্লাব নয়—এটি একটি লাইফ জার্নি। যা মূলত নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন গড়ার এক সাহসী প্ল্যাটফর্ম। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা ও সাফল্য দিয়ে অন্যদের পথ দেখাতে পারে, নিলয় ধর নীল তারই বাস্তব উদাহরণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন নি:সন্দেহে এমন উদ্যোগ ন ক্যাম্পাস থেকে গড়ে তুলবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।
জনপ্রিয় সংবাদ

ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী নিলয়ের হাত ধরে দেশে যাত্রা শুরু করল পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘বোল্ড ক্লাব’

আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী নিলয় ধর নীল। ক্যাম্পাসজীবনের শুরু থেকেই যিনি পরিচিত ছিলেন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য—এবার সেই নিলয়ই গড়েছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্ল্যাটফর্ম—‘বোল্ড ক্লাব’। দেশের বিভিন্ন কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মউন্নয়ন, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ও নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছে এই ক্লাবটি।
২০২৫ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করা ‘বোল্ড ক্লাব’ একেবারেই নতুন ধারণার একটি প্ল্যাটফর্ম, যা বাংলাদেশে প্রথম পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ক্লাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শুরু থেকেই অনলাইনে পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মে প্রথম ব্যাচেই দেশের ১৯টি সরকারি ও বেসরকারি কলেজ-  বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হয়েছেন। সদস্যরা নিজেদের নেতৃত্ব গঠন, আত্মবিশ্বাস তৈরি এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। ক্লাবটির মূল উদ্দেশ্য—ক্যাম্পাস থেকেই নিজেকে বোল্ড পার্সোনাল ব্র্যান্ড হিসেবে তৈরি করা এবং নিজের সামর্থ্যকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ্যে আনা।
পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংভিত্তিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে নিলয় বলেন,
আমি এমন একটি কমিউনিটি তৈরি করতে চেয়েছি যেখানে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারবে যে, ক্লাসে আসা আর ভালো ফল করলেই সব শেষ নয়। নিজেকে প্রমাণ করতে হলে নিজের প্রতিভা, চিন্তাভাবনা ও উদ্যোগকে সামনে আনতে হবে। আমি চাই—প্রত্যেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকেই বোল্ড পার্সোনাল ব্র্যান্ড হয়ে উঠুক এবং তার নিজস্ব গল্প নিজেই লিখুক।
বোল্ড ক্লাবে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন, পার্সোনাল ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে ওঠার কৌশল, আত্মবিশ্বাস গঠনের প্রশিক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেজেন্টেশন দক্ষতা, ক্লাব ও আয়োজন পরিচালনার কৌশল এবং কর্পোরেট কানেকশন তৈরির সুযোগ। বাংলাদেশে এর আগে এমন কোনো ক্লাব হয়নি, যা শুধুমাত্র পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করে। শুরু থেকেই ক্লাবটি সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ক্লাব ঘিরে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েকটি অনলাইন সেশন ও মেন্টরশিপভিত্তিক নেটওয়ার্কিং কর্মশালা—যেখানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
ক্লাবের অন্যতম সদস্য ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান (সুমন) বলেন, বোল্ড ক্লাবে যুক্ত হওয়ার পর আমি নিজের ভেতরের আত্মবিশ্বাস খুঁজে পেয়েছি। এখন ডিপার্টমেন্টে নানা কাজে নেতৃত্ব দিতে পারি। নিজেকে আলাদা করে গড়ার জন্য এই ক্লাব আমাকে নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছে।
আরেক সদস্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অন্তু জানান, আমি আগে কখনো ভাবিনি, অনলাইনেই এত কিছু শেখা সম্ভব। বোল্ড ক্লাবে যুক্ত হয়ে বুঝেছি, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে আগে নিজের শক্তিগুলো চিনতে হবে। এখন আমি শিখছি কিভাবে নিজের ভিতরের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসে একজন পার্সোনাল বোল্ড হয়ে উঠা যায় এবং ফেসবুক ও লিংকডইন প্রোফাইলকে আরও প্রফেশনালভাবে উপস্থাপন করা যায়।
নিলয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. সবুর খান একটি সেমিনারে ‘বোল্ড ক্লাব’-এর সূচনাকে সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং নিলয়কে শুভেচ্ছা জানান।
বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. সবুর খান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং গড়ে ওঠে তার স্কুল-কলেজ জীবনের ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। সে কী হতে চায়, কোথায় যেতে চায়, আর সেটা সে কতটা পরিষ্কারভাবে অন্যদের বোঝাতে পারে—এই দক্ষতা না থাকলে কর্মজীবনে নানা সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ছাত্রজীবনেই আত্মপরিচয়, লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত। সে জায়গায় ‘বোল্ড ক্লাব’ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা, মিডিয়া ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আফতাব হোসেন বলেন, নিলয়ের মধ্যে আমি সবসময় নেতৃত্বের শক্তি দেখেছি। তার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে নিজেদের প্রকাশ করার ক্ষেত্রে।
সবশেষে বলা যায়, ‘বোল্ড ক্লাব’ কেবল একটি ক্লাব নয়—এটি একটি লাইফ জার্নি। যা মূলত নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও স্বপ্ন গড়ার এক সাহসী প্ল্যাটফর্ম। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা ও সাফল্য দিয়ে অন্যদের পথ দেখাতে পারে, নিলয় ধর নীল তারই বাস্তব উদাহরণ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মনে করছেন নি:সন্দেহে এমন উদ্যোগ ন ক্যাম্পাস থেকে গড়ে তুলবে দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব।