ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন পাটগ্রাম উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ওমর ফারুক (৪২)। বুধবার (২৫ জুন) রাতে ফেসবুক লাইভে তিনি বিষপান করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লাইভে আসার আগে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে ওমর ফারুক একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তার স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন,
“আমি বিএনপি করে নিজের জীবন শেষ করে ফেললাম… আমি আর বাঁচতে চাই না। বিদায়…”
স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন, যা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপিতে কিছু ‘সুযোগসন্ধানী’ ও ‘সুবিধাবাদী’ চাঁদাবাজের দখল চলে এসেছে, যারা দলের ক্ষতি ছাড়া কিছুই করছে না।
ওমর ফারুক আরও উল্লেখ করেন, দলের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মার খেয়েছেন, এমনকি সংসার চালাতেও হিমশিম খেয়েছেন।
স্ট্যাটাসে তিনি জানান, আগামীকাল তার মেয়ের এইচএসসি পরীক্ষা রয়েছে, কিন্তু এই ঘটনার পর মেয়েটি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে কি না তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ করেছেন, যেন ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওমর ফারুকের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
























