০৮:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়গঞ্জে কোয়েল পাখির খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ব্যাবসায়ী ও পথচারীরা

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কোয়েল পাখির খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, কোয়েল পাখির খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে উপজেলার ঘুড়কা বাজারের চাউল পট্টি এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়া চাউল ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আওয়াল, পরেশ, মোহাব্বাত, নাসির, হালিমসহ অনেকেই জানান, আমাদের চাউল পট্টিতে বিবাদমান ওই জায়গায় ইতিপূর্বে চা স্টল ছিল। বর্তমানে মামলা চলার পর সেখানে চা স্টল বাদ দিয়ে আমিরুল ইসলাম কোয়েল পাখির খামার দিয়েছে।
পাখির খাদ্য ও বর্জ্যে অতি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি আমরা ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা। অতিরিক্ত দুর্গন্ধে দোকানে বেচাকেনা বন্ধের পথে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মুরব্বি ও বাজার সমিতির দায়িত্বশীলদের জানালে তাদের ওই খামার সরাতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলেও তা মানতে নারাজ প্রতিপক্ষরা।
পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জানান, কোয়েল পাখির খামার থেকে নির্গত দুর্গন্ধে ওই পথ দিয়ে আসা যাওয়া করা যায় না। জরুরী প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাজারে আসার ও ফেরার পথে নাকে হাত বা কাপড় দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়।
মূলত, কোয়েল পাখির বিষ্ঠা এবং এদের আবাসস্থলের পরিচ্ছন্নতার অভাবে এই দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। এই দুর্গন্ধ আমাদের জীবনযাত্রার সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ থেকে রেহাই চাই।
আরেক ভুক্তভোগী উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মিত্র তেঘুরী গ্রামের মো. ইয়াকুব আলী নয়ন জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের সময় গণি মেম্বারের ছেলে ঘুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই আমিরুল ইসলাম ও সেলিম প্রভাব খাটিয়ে আমার ক্রয়কৃত জমি বেদখল করে। আমাকে ওই সম্পত্তিতে স্থাপনা তৈরি করে তা ভাড়া দেওয়ার পর প্রতিমাসে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা দেন নাই। জায়গাটি নিয়ে তারা সিরাজগঞ্জ কোর্টে মামলা করে। যা চলমান আছে। মামলা চলা অবস্থায় আমিরুল ইসলাম জোর পূর্বক রাতের আধারে ওই দোকান ঘরটি আবারো বেদখল করে কোয়েল পাখির খামার করে। যার দুর্গন্ধে ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে আমিরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি দখলের বিষয়টি আমার ভাইয়েরা বলতে পারবে। জমির বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। এ নিয়ে কোর্টে মামলা করেছি। সেটা কোর্ট বুঝবে। তবে কোয়েল পাখির খামার আমি আমার ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখব। তবে ‘পরিবেশ বিপর্যয় রোধে খুব দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে কোয়েল পাখির খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ব্যাবসায়ী ও পথচারীরা

আপডেট সময় : ০৫:৪৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কোয়েল পাখির খামারের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, কোয়েল পাখির খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে উপজেলার ঘুড়কা বাজারের চাউল পট্টি এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়া চাউল ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল আওয়াল, পরেশ, মোহাব্বাত, নাসির, হালিমসহ অনেকেই জানান, আমাদের চাউল পট্টিতে বিবাদমান ওই জায়গায় ইতিপূর্বে চা স্টল ছিল। বর্তমানে মামলা চলার পর সেখানে চা স্টল বাদ দিয়ে আমিরুল ইসলাম কোয়েল পাখির খামার দিয়েছে।
পাখির খাদ্য ও বর্জ্যে অতি দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি আমরা ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা। অতিরিক্ত দুর্গন্ধে দোকানে বেচাকেনা বন্ধের পথে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় মুরব্বি ও বাজার সমিতির দায়িত্বশীলদের জানালে তাদের ওই খামার সরাতে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিলেও তা মানতে নারাজ প্রতিপক্ষরা।
পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জানান, কোয়েল পাখির খামার থেকে নির্গত দুর্গন্ধে ওই পথ দিয়ে আসা যাওয়া করা যায় না। জরুরী প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বাজারে আসার ও ফেরার পথে নাকে হাত বা কাপড় দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়।
মূলত, কোয়েল পাখির বিষ্ঠা এবং এদের আবাসস্থলের পরিচ্ছন্নতার অভাবে এই দুর্গন্ধ তৈরি হচ্ছে। এই দুর্গন্ধ আমাদের জীবনযাত্রার সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ থেকে রেহাই চাই।
আরেক ভুক্তভোগী উপজেলার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের মিত্র তেঘুরী গ্রামের মো. ইয়াকুব আলী নয়ন জানান, বিগত আওয়ামী সরকারের সময় গণি মেম্বারের ছেলে ঘুড়কা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও তার ভাই আমিরুল ইসলাম ও সেলিম প্রভাব খাটিয়ে আমার ক্রয়কৃত জমি বেদখল করে। আমাকে ওই সম্পত্তিতে স্থাপনা তৈরি করে তা ভাড়া দেওয়ার পর প্রতিমাসে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা দেন নাই। জায়গাটি নিয়ে তারা সিরাজগঞ্জ কোর্টে মামলা করে। যা চলমান আছে। মামলা চলা অবস্থায় আমিরুল ইসলাম জোর পূর্বক রাতের আধারে ওই দোকান ঘরটি আবারো বেদখল করে কোয়েল পাখির খামার করে। যার দুর্গন্ধে ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা অতিষ্ঠ হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে আমিরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমি দখলের বিষয়টি আমার ভাইয়েরা বলতে পারবে। জমির বিষয়ে আমি কোনো কথা বলব না। এ নিয়ে কোর্টে মামলা করেছি। সেটা কোর্ট বুঝবে। তবে কোয়েল পাখির খামার আমি আমার ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবো।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখব। তবে ‘পরিবেশ বিপর্যয় রোধে খুব দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এমআর/সবা