০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জঙ্গি সাজিয়ে ৪৩ বছরের সাজা; পরিবারের আর্তনাদ

oplus_0

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্ণা গ্রামের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান বাবু (২৬) আজও বিশ্বাস করতে পারেন না, কীভাবে তিনি হঠাৎ করে জঙ্গি হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে ৪৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। তার পরিবার এবং এলাকার লোকজন একে ‘পুরোপুরি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ বলে দাবি করছেন।
নাহিদ হাসান ২০১৪ সালে লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে হাতীবান্ধা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরি করতেন তিনি। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। বাবা আমিনুর রহমান কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
নাহিদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ তথ্য পরিবার স্বীকার করলেও তারা জোর দিয়ে বলেন, “তিনি কখনও কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।”
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র এবং ‘জঙ্গি নির্মূল’ নাটকের অংশ হিসেবে নাহিদকে ২০১৬ সালের শেষের দিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটি ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্ট’ মামলায় জড়িয়ে ৪৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়।
নাহিদ দীর্ঘ ৮ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এ সময় পরিবার ও স্বজনরা বারবার আইনি লড়াই করলেও কার্যকর ফল আসেনি। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের জুন মাসে আপিল বিভাগের আদেশে ৬ মাসের জামিন পান তিনি।
নাহিদকে ঘিরে পুরো এলাকায় এক ধরনের শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, “নাহিদ একজন এতিম ছেলে বাবা আছে মা নাই। ফার্মেসিতে কাজ করে পড়াশুনার খরচ চালাতো, সে কিভাবে জঙ্গী হয়, ওর জম্মের কথা আমি বলতে পারি। আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যাভাবে জঙ্গী বানিয়েছে, আমরা এটার বিচার চাই।
নাহিদের ফুফু বলেন, “বিনা অপরাধে আট বছর জেল খাটলো অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়েছে তবু ন্যায় বিচার পাইনি আমরা ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত আমরা এখন ন্যায় বিচার চাই।”
জামিনে মুক্তি পাওয়া নাহিদ কান্নাজড়িত গলায় বলেন, “আমি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিলাম না। আমাকে জোর করে ফাঁসানো হয়েছে। আমি চাই, সত্য বেরিয়ে আসুক। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
তবে এলাকাবাসী ও পরিবার প্রশ্ন তুলেছেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও, সেই সরকারের সময় সাজানো জঙ্গি নাটকের মামলায় নাহিদের মতো নিরীহরা কেন এখনো স্থায়ী মুক্তি পাচ্ছেন না? কারা দায়ী এই ষড়যন্ত্রের জন্য?”
নাহিদের পরিবার ও স্থানীয়রা সরকারের কাছে নাহিদের মামলাটি পূর্ণ তদন্ত ও পুনঃবিচার চাচ্ছেন। তারা চান, একজন নির্দোষ তরুণ যেন রাজনীতির বলি না হন এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহার থেকে রক্ষা পান।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

জঙ্গি সাজিয়ে ৪৩ বছরের সাজা; পরিবারের আর্তনাদ

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্ণা গ্রামের ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান বাবু (২৬) আজও বিশ্বাস করতে পারেন না, কীভাবে তিনি হঠাৎ করে জঙ্গি হিসেবে অভিযুক্ত হয়ে ৪৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। তার পরিবার এবং এলাকার লোকজন একে ‘পুরোপুরি সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা’ বলে দাবি করছেন।
নাহিদ হাসান ২০১৪ সালে লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৬ সালে হাতীবান্ধা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরি করতেন তিনি। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল ছিল না। বাবা আমিনুর রহমান কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন।
নাহিদ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—এ তথ্য পরিবার স্বীকার করলেও তারা জোর দিয়ে বলেন, “তিনি কখনও কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।”
পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্র এবং ‘জঙ্গি নির্মূল’ নাটকের অংশ হিসেবে নাহিদকে ২০১৬ সালের শেষের দিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটি ‘জঙ্গি সংশ্লিষ্ট’ মামলায় জড়িয়ে ৪৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়।
নাহিদ দীর্ঘ ৮ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। এ সময় পরিবার ও স্বজনরা বারবার আইনি লড়াই করলেও কার্যকর ফল আসেনি। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চলতি বছরের জুন মাসে আপিল বিভাগের আদেশে ৬ মাসের জামিন পান তিনি।
নাহিদকে ঘিরে পুরো এলাকায় এক ধরনের শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, “নাহিদ একজন এতিম ছেলে বাবা আছে মা নাই। ফার্মেসিতে কাজ করে পড়াশুনার খরচ চালাতো, সে কিভাবে জঙ্গী হয়, ওর জম্মের কথা আমি বলতে পারি। আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যাভাবে জঙ্গী বানিয়েছে, আমরা এটার বিচার চাই।
নাহিদের ফুফু বলেন, “বিনা অপরাধে আট বছর জেল খাটলো অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়েছে তবু ন্যায় বিচার পাইনি আমরা ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত আমরা এখন ন্যায় বিচার চাই।”
জামিনে মুক্তি পাওয়া নাহিদ কান্নাজড়িত গলায় বলেন, “আমি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য ছিলাম না। আমাকে জোর করে ফাঁসানো হয়েছে। আমি চাই, সত্য বেরিয়ে আসুক। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
তবে এলাকাবাসী ও পরিবার প্রশ্ন তুলেছেন, “ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলেও, সেই সরকারের সময় সাজানো জঙ্গি নাটকের মামলায় নাহিদের মতো নিরীহরা কেন এখনো স্থায়ী মুক্তি পাচ্ছেন না? কারা দায়ী এই ষড়যন্ত্রের জন্য?”
নাহিদের পরিবার ও স্থানীয়রা সরকারের কাছে নাহিদের মামলাটি পূর্ণ তদন্ত ও পুনঃবিচার চাচ্ছেন। তারা চান, একজন নির্দোষ তরুণ যেন রাজনীতির বলি না হন এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপব্যবহার থেকে রক্ষা পান।
এমআর/সবা