০৭:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
 প্রশাসন নীরব

রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মুর্তিমান আতংক সোহেল ও আসমা

রায়পুর সাব-রেজেস্ট্রি অফিসের এক মুর্তিমান আতংক হলো অফিসটির ঝাড়ুদার কাম নৈশ প্রহরী মো. সোহেল ও অফিস সহকারী আছমা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তারা কার্যালয়ের ‘খাস লোক’ এবং সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুসের একান্ত আস্থাভাজন হওয়ায় দলিলের দাতা-গ্রহিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলিল লেখকসহ প্রায়ই সবাই একপ্রকার জিম্মী।
সোহেল ও আসমার ইশারায় চলে রায়পুর সাবরেজেস্ট্রি অফিস। সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুস ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। ঘুষ না দিলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহক ও দলিল লেখকদের। এ ছাড়া চাহিদামতো সেবাগ্রহীতারা ঘুষ দিলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অসম্ভব বলে কিছুই থাকে না। ঝাড়ুদার কাম নৈশ প্রহরী মো. সোহেল ও অফিস সহকারী আছমা বেগমের ‘সংকেত পেলে’ সাবরেজিস্ট্রার চোখ বুজে সংশ্লিষ্ট স্থানে সই করেন।
সোহেল ও আছমাকে ম্যানেজ করতে পারলেই ‘সাহেব ম্যানেজ’ হয়ে যান। তাঁদের মাধ্যমেই এ কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন হয়। অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে সোহেলের গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছিল। এরপর অভিযানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন আসমা ও সোহেল আরো বেপরোয়া। তারা রয়েছে বহাল তবিয়তেই। স্থানীয় রাজনৈতিক কতিপয় ব্যাক্তি ও ক্যাডারদের ছত্রছায়ায় দিব্ব্যি এ সব অপকর্ম করে বেড়ালেও সকলের প্রশ্ন কারা তাদের শেল্টারে কাজ করছে। খুঁটির জোর কোথায়? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যাবস্থা না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের ধারনা এ বুজি অন্তবর্তী সরকারের সেনা ও প্রশাসনের ভুমিকা। দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনে কেনইবা সংশ্লিষ্টদের নীরবতা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই মো. ইউনুস রায়পুর কার্যালয়ে যোগদান করেন। স্থানীয়রা জানায়, মো. ইউনুসের যোগদানের পর থেকে ‘সাহেবের ইশারা’ বুঝে কাজ করা শুরু করেন সোহেল ও আছমা। সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহের সোম, মঙ্গল ও বুধবার তিন-চার ঘণ্টা অফিস করেন। অফিসে আসতে বিলম্ব হলে ঝাড়ুদার সোহেলকে দিয়ে দলিল সংক্রান্ত সকল কাজ করান।
মো. ইউনুস বেশির ভাগ সময় এজলাসে না এসে ব্যক্তিগত কক্ষে বসে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। রায়পুরে বছরে প্রায় ছয় হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, আমমোক্তার দলিল থেকে সাফকবলা হলে দলিল মূল্যের ৩ শতাংশ টাকা সাবরেজিস্ট্রারকে দিতে হয়। এ ছাড়া কেরোয়া মৌজা সরকারি ভিপি তালিকাভুক্ত থাকায় জমির খাজনা ছাড়া ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করাতে হয়। সাবরেজিস্ট্রার ইউনুস রায়পুরের কর্মস্থলে যোগদানের পর দাতার অনুপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি, ওয়ারিশ বাদ দিয়ে বণ্টননামা রেজিস্ট্রি, এজলাসে না এসে ব্যক্তিগত কক্ষে বসে দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।
দেওয়া হচ্ছে কর ফাঁকি। দলিল টেম্পারিং, আমমোক্তার দলিল, বায়না রেজিস্ট্রির ঘটনাও ঘটছে। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ ছাড়াও প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকায় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করেও ফল পাননি। হয়রানির শিকার গ্রাহকরা দুদকের হটলাইনে অভিযোগ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চাঁদপুর সমন্বিত কার্যালয় থেকে দুবার অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল দুদকের ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজগর হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়ে সাবরেজিস্ট্রারকে সতর্ক করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় টাকাসহ ঝাড়ুদার সোহেলকে আটক করা হয়। ঝাড়ুদার সোহেল কয়েক বছর ধরে অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কারণে-অকারণে সেবাগ্রহীতার কাছে দর-কষাকষি করে ঘুষ আদায় করেন এমন ভিডিও চিত্র দেখে দুদক অভিযানে গিয়েছিল। পরে জেলা রেজিস্ট্রার সোহেলকে জেলার কমলনগরে বদলি করেন। তিনি সেখানে যোগদান না করে রায়পুরে বহাল থাকায় সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। সোহেল বলেন, ‘আমি বদলি হওয়ার পর পাঁচ মাস কমলনগরে ছিলাম। তদন্তের পর আবার রায়পুরে এসেছি। আমার বিরুদ্ধে দুদক, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অফিস সহকারী আছমা বেগম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি দাতার অনুপস্থিতিতে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। ওই দিন উপজেলার চর মোহনা ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের দাতা বিল্লাল হোসেন সুমন রায়পুর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যাননি। স্থানীয় হায়দরগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সড়কের ওপর জোর করে বিল্লালের কাছ থেকে প্রথমে বায়না চুক্তির স্ট্রাম্পে সই নেওয়া হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা তাঁকে জিম্মি করে রেখে দলিল তৈরি করে সাবরেজিস্ট্রার ওই ২০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে গ্রহীতা আফরোজা ও নকলনবিশ আদিল হোসেন সবুজসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ওই দলিল জব্দের আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গ্রহীতার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে এ কাজ করা হয়। সাবরেজিস্ট্রার আমার শেষ সম্বল থাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। আমি রেজিস্ট্রির সময় সেখানে ছিলাম কি না, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।’ জানা গেছে, এভাবেই এই সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হয়।
রায়পুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘টাকা ছাড়া সাবরেজিস্ট্রার কোনো কাজ করেন না। ঘুষের বিনিময়ে জালজালিয়াতির বিষয়গুলো আমি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তুলে ধরেছি।’
সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুস বলেন, ‘অফিসের বাইরে কেউ লেনদেন বা খরচাপাতি নিলে সেটার জন্য আমি দায়ী নই। কোনো কাজে আমি এক কাপ চাও খাই না। আছমাকে সরকারি ফি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তা পরদিন কোষাগারে জমা দেন। ঝাড়ুদার সোহেল আগের মতো অফিসে আসেন না। আমিও তাঁকে সতর্ক করেছি। এ ছাড়া তথ্য গোপন ও জালিয়াতির কারণে দলিল লেখক তুহিনসহ দুজন নকলনবিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খান বলেন, ‘ওই কার্যালয়ের একজন স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

 প্রশাসন নীরব

রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মুর্তিমান আতংক সোহেল ও আসমা

আপডেট সময় : ০৬:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

রায়পুর সাব-রেজেস্ট্রি অফিসের এক মুর্তিমান আতংক হলো অফিসটির ঝাড়ুদার কাম নৈশ প্রহরী মো. সোহেল ও অফিস সহকারী আছমা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, তারা কার্যালয়ের ‘খাস লোক’ এবং সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুসের একান্ত আস্থাভাজন হওয়ায় দলিলের দাতা-গ্রহিতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলিল লেখকসহ প্রায়ই সবাই একপ্রকার জিম্মী।
সোহেল ও আসমার ইশারায় চলে রায়পুর সাবরেজেস্ট্রি অফিস। সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুস ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। ঘুষ না দিলে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহক ও দলিল লেখকদের। এ ছাড়া চাহিদামতো সেবাগ্রহীতারা ঘুষ দিলে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অসম্ভব বলে কিছুই থাকে না। ঝাড়ুদার কাম নৈশ প্রহরী মো. সোহেল ও অফিস সহকারী আছমা বেগমের ‘সংকেত পেলে’ সাবরেজিস্ট্রার চোখ বুজে সংশ্লিষ্ট স্থানে সই করেন।
সোহেল ও আছমাকে ম্যানেজ করতে পারলেই ‘সাহেব ম্যানেজ’ হয়ে যান। তাঁদের মাধ্যমেই এ কার্যালয়ে ঘুষ লেনদেন হয়। অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে সোহেলের গুনে গুনে ঘুষের টাকা নেওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছিল। এরপর অভিযানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন আসমা ও সোহেল আরো বেপরোয়া। তারা রয়েছে বহাল তবিয়তেই। স্থানীয় রাজনৈতিক কতিপয় ব্যাক্তি ও ক্যাডারদের ছত্রছায়ায় দিব্ব্যি এ সব অপকর্ম করে বেড়ালেও সকলের প্রশ্ন কারা তাদের শেল্টারে কাজ করছে। খুঁটির জোর কোথায়? অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোন ব্যাবস্থা না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের ধারনা এ বুজি অন্তবর্তী সরকারের সেনা ও প্রশাসনের ভুমিকা। দুর্নীতির আঁখড়ায় পরিণত রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনে কেনইবা সংশ্লিষ্টদের নীরবতা।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই মো. ইউনুস রায়পুর কার্যালয়ে যোগদান করেন। স্থানীয়রা জানায়, মো. ইউনুসের যোগদানের পর থেকে ‘সাহেবের ইশারা’ বুঝে কাজ করা শুরু করেন সোহেল ও আছমা। সাবরেজিস্ট্রার সপ্তাহের সোম, মঙ্গল ও বুধবার তিন-চার ঘণ্টা অফিস করেন। অফিসে আসতে বিলম্ব হলে ঝাড়ুদার সোহেলকে দিয়ে দলিল সংক্রান্ত সকল কাজ করান।
মো. ইউনুস বেশির ভাগ সময় এজলাসে না এসে ব্যক্তিগত কক্ষে বসে দলিল রেজিস্ট্রি করেন। রায়পুরে বছরে প্রায় ছয় হাজার দলিল রেজিস্ট্রি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, আমমোক্তার দলিল থেকে সাফকবলা হলে দলিল মূল্যের ৩ শতাংশ টাকা সাবরেজিস্ট্রারকে দিতে হয়। এ ছাড়া কেরোয়া মৌজা সরকারি ভিপি তালিকাভুক্ত থাকায় জমির খাজনা ছাড়া ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করাতে হয়। সাবরেজিস্ট্রার ইউনুস রায়পুরের কর্মস্থলে যোগদানের পর দাতার অনুপস্থিতিতে রেজিস্ট্রি, ওয়ারিশ বাদ দিয়ে বণ্টননামা রেজিস্ট্রি, এজলাসে না এসে ব্যক্তিগত কক্ষে বসে দলিল রেজিস্ট্রি করা হচ্ছে।
দেওয়া হচ্ছে কর ফাঁকি। দলিল টেম্পারিং, আমমোক্তার দলিল, বায়না রেজিস্ট্রির ঘটনাও ঘটছে। ভুক্তভোগীরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ ছাড়াও প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকায় মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন করেও ফল পাননি। হয়রানির শিকার গ্রাহকরা দুদকের হটলাইনে অভিযোগ করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক চাঁদপুর সমন্বিত কার্যালয় থেকে দুবার অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল দুদকের ওই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজগর হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পেয়ে সাবরেজিস্ট্রারকে সতর্ক করা হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক আতাউর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় টাকাসহ ঝাড়ুদার সোহেলকে আটক করা হয়। ঝাড়ুদার সোহেল কয়েক বছর ধরে অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কারণে-অকারণে সেবাগ্রহীতার কাছে দর-কষাকষি করে ঘুষ আদায় করেন এমন ভিডিও চিত্র দেখে দুদক অভিযানে গিয়েছিল। পরে জেলা রেজিস্ট্রার সোহেলকে জেলার কমলনগরে বদলি করেন। তিনি সেখানে যোগদান না করে রায়পুরে বহাল থাকায় সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। সোহেল বলেন, ‘আমি বদলি হওয়ার পর পাঁচ মাস কমলনগরে ছিলাম। তদন্তের পর আবার রায়পুরে এসেছি। আমার বিরুদ্ধে দুদক, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অফিস সহকারী আছমা বেগম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ জানুয়ারি দাতার অনুপস্থিতিতে একটি দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। ওই দিন উপজেলার চর মোহনা ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের দাতা বিল্লাল হোসেন সুমন রায়পুর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যাননি। স্থানীয় হায়দরগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে সড়কের ওপর জোর করে বিল্লালের কাছ থেকে প্রথমে বায়না চুক্তির স্ট্রাম্পে সই নেওয়া হয়। পরে কয়েক ঘণ্টা তাঁকে জিম্মি করে রেখে দলিল তৈরি করে সাবরেজিস্ট্রার ওই ২০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে গ্রহীতা আফরোজা ও নকলনবিশ আদিল হোসেন সবুজসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ওই দলিল জব্দের আদেশ দেন।
ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘গ্রহীতার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে এ কাজ করা হয়। সাবরেজিস্ট্রার আমার শেষ সম্বল থাকার জমি প্রতারণার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছেন। আমি রেজিস্ট্রির সময় সেখানে ছিলাম কি না, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে।’ জানা গেছে, এভাবেই এই সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি করা হয়।
রায়পুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জেড এম নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘টাকা ছাড়া সাবরেজিস্ট্রার কোনো কাজ করেন না। ঘুষের বিনিময়ে জালজালিয়াতির বিষয়গুলো আমি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তুলে ধরেছি।’
সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউনুস বলেন, ‘অফিসের বাইরে কেউ লেনদেন বা খরচাপাতি নিলে সেটার জন্য আমি দায়ী নই। কোনো কাজে আমি এক কাপ চাও খাই না। আছমাকে সরকারি ফি নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি তা পরদিন কোষাগারে জমা দেন। ঝাড়ুদার সোহেল আগের মতো অফিসে আসেন না। আমিও তাঁকে সতর্ক করেছি। এ ছাড়া তথ্য গোপন ও জালিয়াতির কারণে দলিল লেখক তুহিনসহ দুজন নকলনবিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান খান বলেন, ‘ওই কার্যালয়ের একজন স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এমআর/সবা