০৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইউএনওর ‘গাফিলতিতে’ ১৫ মাস সম্মানিভাতা বন্ধ

নান্দাইলে ইউপি সদস্যদের বিক্ষোভ

টানা ১৫ মাস ধরে সম্মানিভাতা বন্ধ।একের পর এক দাবি, বারবার তাগাদা-কোনো ফল হয়নি। অবশেষে ন্যায্য পাওনার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তারের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই এত দীর্ঘ সময় ধরে ভাতা আটকে আছে।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরে বিক্ষোভ করেন ইউপি সদস্যরা।তাদের ভাষায়, “নির্বাহী কর্মকর্তার একরোখা আচরণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায়” তারা শুধু সম্মানিভাতা থেকেই নয়,বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও।
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোছা জোসনা আরা বলেন, “জনগণের সেবায় দিনরাত কাজ করি, করোনা, বন্যা বা যেকোনো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে থাকি। অথচ আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্যটুকু পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। ১৫ মাস ধরে ঘুরছি, অফিস করছি, তদবির করছি, কিন্তু সম্মানিভাতা পাইনি। এটা শুধু অবিচার নয়, আমাদের আত্মমর্যাদায় সরাসরি আঘাত।”
নান্দাইল ইউনিয়নের সদস্য মো. খোকন মিয়া বলেন, “ইউএনও সাহেব বারবার বলেন ফান্ডে টাকা নেই, অথচ গত ১৯ মে পর্যন্ত এনসিসি ব্যাংকের হিসাব বলছে ৩৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা আছে। এই অর্থ গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সম্মানিভাতা খাতে বরাদ্দ। ডিসি স্যারও আমাদের উপস্থিতিতে ইউএনওকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে। তবুও আমরা কিছু পাচ্ছি না—এটা নিছক গাফিলতি নয়, ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা বলেই মনে হচ্ছে।”
শেরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাসহুদ পারভেজ বলেন, “ঈদের আগে ইউএনও ম্যাডাম নিজে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, ঈদের পর সম্মানিভাতা দেবেন। আমরা ভেবেছিলাম অন্তত উৎসবের সময়টাতে কিছুটা স্বস্তি পাবো। কিন্তু ঈদ গেল, সম্মানিভাতা এলো না। শুধু তাই নয়, আমাদের ভিজিএফ, ভিজিডি, কৃষি প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও একরকম অবজ্ঞাভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যেন প্রতিশোধের মতো আচরণ করছে।”
এ বিষয়ে নান্দাইল ইউএনও সারমিনা সাত্তারের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। ইউএনওকে সম্মানিভাতা দ্রুত প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছি।”
বিক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই ভাতা কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। বারবার অনুরোধের পরও যখন প্রশাসন নির্লিপ্ত থাকে, তখন প্রতিবাদ ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে বকেয়া সম্মানিভাতা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় আমরা বাধ্য হব আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে, এবং তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএনওর ‘গাফিলতিতে’ ১৫ মাস সম্মানিভাতা বন্ধ

নান্দাইলে ইউপি সদস্যদের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:১৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

টানা ১৫ মাস ধরে সম্মানিভাতা বন্ধ।একের পর এক দাবি, বারবার তাগাদা-কোনো ফল হয়নি। অবশেষে ন্যায্য পাওনার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সারমিনা সাত্তারের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই এত দীর্ঘ সময় ধরে ভাতা আটকে আছে।
বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসনিক চত্বরে বিক্ষোভ করেন ইউপি সদস্যরা।তাদের ভাষায়, “নির্বাহী কর্মকর্তার একরোখা আচরণ এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায়” তারা শুধু সম্মানিভাতা থেকেই নয়,বঞ্চিত হচ্ছেন সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকেও।
মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোছা জোসনা আরা বলেন, “জনগণের সেবায় দিনরাত কাজ করি, করোনা, বন্যা বা যেকোনো দুর্যোগে আমরা জনগণের পাশে থাকি। অথচ আমাদেরকে আমাদের প্রাপ্যটুকু পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে না। ১৫ মাস ধরে ঘুরছি, অফিস করছি, তদবির করছি, কিন্তু সম্মানিভাতা পাইনি। এটা শুধু অবিচার নয়, আমাদের আত্মমর্যাদায় সরাসরি আঘাত।”
নান্দাইল ইউনিয়নের সদস্য মো. খোকন মিয়া বলেন, “ইউএনও সাহেব বারবার বলেন ফান্ডে টাকা নেই, অথচ গত ১৯ মে পর্যন্ত এনসিসি ব্যাংকের হিসাব বলছে ৩৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা আছে। এই অর্থ গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সম্মানিভাতা খাতে বরাদ্দ। ডিসি স্যারও আমাদের উপস্থিতিতে ইউএনওকে পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছেন বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে। তবুও আমরা কিছু পাচ্ছি না—এটা নিছক গাফিলতি নয়, ইচ্ছাকৃত অবজ্ঞা বলেই মনে হচ্ছে।”
শেরপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাসহুদ পারভেজ বলেন, “ঈদের আগে ইউএনও ম্যাডাম নিজে আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, ঈদের পর সম্মানিভাতা দেবেন। আমরা ভেবেছিলাম অন্তত উৎসবের সময়টাতে কিছুটা স্বস্তি পাবো। কিন্তু ঈদ গেল, সম্মানিভাতা এলো না। শুধু তাই নয়, আমাদের ভিজিএফ, ভিজিডি, কৃষি প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও একরকম অবজ্ঞাভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যেন প্রতিশোধের মতো আচরণ করছে।”
এ বিষয়ে নান্দাইল ইউএনও সারমিনা সাত্তারের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। ইউএনওকে সম্মানিভাতা দ্রুত প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছি।”
বিক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই ভাতা কোনো দয়া নয়, এটি আমাদের সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। বারবার অনুরোধের পরও যখন প্রশাসন নির্লিপ্ত থাকে, তখন প্রতিবাদ ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। আমরা দাবি করছি, অবিলম্বে বকেয়া সম্মানিভাতা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় আমরা বাধ্য হব আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে, এবং তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।”
এমআর/সবা