০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামালপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস এখনও জিম্মি ফ্যাসিস্টদের হাতে

পতিত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা দলিল লেখকদের নেতা নামধারী মধ্যস্বত্বভোগী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জিম্মিদশায় আক্রান্ত জামালপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস।

সরেজমিনে জানা যায়, নেই নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার, নেই দলিল রেজিষ্ট্রির সুষ্ঠু, সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশ। অফিসের কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে পিয়ন সবাই এই চক্রের কাছে জিম্মি। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। এরা এই অফিসকে বিগত সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রণ করতো কৃষক লীগের নেতা, যুবলীগের নেতা, পৌর মেয়রের লোকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী পরিচয়ে। তখন তাদের দাপটে কোন পদক্ষেপ না নেওয়া গেলেও ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর সবাই আশা করেছিল এই চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। অথচ প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে গ্রেপ্তার এড়িয়ে এই দুর্বৃত্তরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। শুধু তাই নয় দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখকরা জানান, যেখানে জামালপুরের আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের অপকর্মের হোতারা  গ্রেপ্তার এড়াতে আর জেল-জুলুমের ভয়ে দেশছাড়া কিংবা আত্মগোপনে রয়েছে। সেখানে এই অফিসের নিয়ন্ত্রক চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সক্রিয় দোসররা প্রকাশ্যে এখানে অপরাধ-দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলে একেকজন মুকুটহীন সম্রাটের ভূমিকায় বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে কিসের জোরে এটাই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কি তারা প্রশাসনের নাগালের বাইরে নাকি যে কোন উপায়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এমন প্রশ্ন তৈরী হয়েছে আমাদের মনে।

তবে কারণ যাই হোক, সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম মাধ্যম ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই অফিসকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের জিম্মিদশার কবল থেকে মুক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগী মহল। কারণ এদের নিজস্ব কোন দলিল না থাকলেও এরা এবং এদের প্রতিনিধিরা সারাদিন সাব-রেজিষ্ট্রারের এজলাস ঘিরে দাাঁড়িয়ে থেকে সাব-রেজিষ্ট্রারকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এদের ভিড় ঠেলে সাব-রেজিষ্ট্রার পর্যন্ত পৌঁছানো সাধারণ দলিল লেখকদের জন্য অসম্ভব হয়ে যায়। মনে হয় এরা যেন দলিল লেখক নয় বরং একেকজন সন্ত্রাসী। আর এই সন্ত্রাসী চক্রের হিংস্র থাবার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারো। এরা এই অফিসটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ফেলেছে। চিহ্নিত এই চক্রের কবল থেকে সাব-রেজিষ্ট্রার কিংবা জেলা রেজিষ্ট্রার কেউই নিরাপদ নয়। তারা চাইলেও এখানে দালালমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছেন না। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত করছে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি। এদের কারণে সাধারণ দলিল লেখকগণ এই অফিসে নিতান্তই কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। এতে করে দলিল লেখকদের কাছে আসা জমির দাতা ও গ্রহীতাগণও সম্পূর্ণ হতাশ।

এদিকে আরও জানা যায়, জামালপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার নিযুক্ত হলে এই জিম্মিদশা থেকে বের হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ। বর্তমানে জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মহসীন উদ্দীন আহমেদ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মো. আবুল কালাম সপ্তাহে দুইদিন করে এই অফিসে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন। উনারা এই অফিসটিকে শত চেষ্টা করেও নিয়মের ভিতরে নিয়ে আসতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. আসাদুল ইসলাম জানান, জামালপুর সদরের জন্য নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার নিযুক্তকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আর আমি সিন্ডিকেটের বিষয়ে শুনেছি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস এখনও জিম্মি ফ্যাসিস্টদের হাতে

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

পতিত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা দলিল লেখকদের নেতা নামধারী মধ্যস্বত্বভোগী সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে জিম্মিদশায় আক্রান্ত জামালপুর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস।

সরেজমিনে জানা যায়, নেই নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার, নেই দলিল রেজিষ্ট্রির সুষ্ঠু, সুন্দর স্বাভাবিক পরিবেশ। অফিসের কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে পিয়ন সবাই এই চক্রের কাছে জিম্মি। এই চক্রের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৫ থেকে ৭ জন। এরা এই অফিসকে বিগত সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রণ করতো কৃষক লীগের নেতা, যুবলীগের নেতা, পৌর মেয়রের লোকসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী পরিচয়ে। তখন তাদের দাপটে কোন পদক্ষেপ না নেওয়া গেলেও ৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর সবাই আশা করেছিল এই চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। অথচ প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে গ্রেপ্তার এড়িয়ে এই দুর্বৃত্তরা এখনও বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। শুধু তাই নয় দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব বাগিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলিল লেখকরা জানান, যেখানে জামালপুরের আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের অপকর্মের হোতারা  গ্রেপ্তার এড়াতে আর জেল-জুলুমের ভয়ে দেশছাড়া কিংবা আত্মগোপনে রয়েছে। সেখানে এই অফিসের নিয়ন্ত্রক চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সক্রিয় দোসররা প্রকাশ্যে এখানে অপরাধ-দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তুলে একেকজন মুকুটহীন সম্রাটের ভূমিকায় বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে কিসের জোরে এটাই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কি তারা প্রশাসনের নাগালের বাইরে নাকি যে কোন উপায়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। এমন প্রশ্ন তৈরী হয়েছে আমাদের মনে।

তবে কারণ যাই হোক, সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম মাধ্যম ও জনগুরুত্বপূর্ণ এই অফিসকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের জিম্মিদশার কবল থেকে মুক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন ভুক্তভোগী মহল। কারণ এদের নিজস্ব কোন দলিল না থাকলেও এরা এবং এদের প্রতিনিধিরা সারাদিন সাব-রেজিষ্ট্রারের এজলাস ঘিরে দাাঁড়িয়ে থেকে সাব-রেজিষ্ট্রারকে মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। এদের ভিড় ঠেলে সাব-রেজিষ্ট্রার পর্যন্ত পৌঁছানো সাধারণ দলিল লেখকদের জন্য অসম্ভব হয়ে যায়। মনে হয় এরা যেন দলিল লেখক নয় বরং একেকজন সন্ত্রাসী। আর এই সন্ত্রাসী চক্রের হিংস্র থাবার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস নেই কারো। এরা এই অফিসটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে ফেলেছে। চিহ্নিত এই চক্রের কবল থেকে সাব-রেজিষ্ট্রার কিংবা জেলা রেজিষ্ট্রার কেউই নিরাপদ নয়। তারা চাইলেও এখানে দালালমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, ত্রাসমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছেন না। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত করছে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি। এদের কারণে সাধারণ দলিল লেখকগণ এই অফিসে নিতান্তই কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। এতে করে দলিল লেখকদের কাছে আসা জমির দাতা ও গ্রহীতাগণও সম্পূর্ণ হতাশ।

এদিকে আরও জানা যায়, জামালপুর সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার নিযুক্ত হলে এই জিম্মিদশা থেকে বের হওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে অফিসের স্বাভাবিক পরিবেশ। বর্তমানে জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মহসীন উদ্দীন আহমেদ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার মো. আবুল কালাম সপ্তাহে দুইদিন করে এই অফিসে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করেন। উনারা এই অফিসটিকে শত চেষ্টা করেও নিয়মের ভিতরে নিয়ে আসতে পারছেন না।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা রেজিস্ট্রার মো. আসাদুল ইসলাম জানান, জামালপুর সদরের জন্য নিয়মিত সাব-রেজিষ্ট্রার নিযুক্তকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আর আমি সিন্ডিকেটের বিষয়ে শুনেছি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।