০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ই-স্পোর্টসকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

তরুণ সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে এবং একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে বহুজাতিক টুর্নামেন্ট, কোটি কোটি ডলারের পৃষ্ঠপোষকতা ও লাখো তরুণের অংশগ্রহণে ই-স্পোর্টস এখন আর নিছক ‘খেলাধুলার বিকল্প’ নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়াশ্রয়ী শিল্প। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ই-স্পোর্টসকে সম্ভাব্য অলিম্পিক ডিসিপ্লিন হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক দেশই এর উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ই-স্পোর্টসকে মূলধারার খেলাধুলার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছি। তরুণদের আগ্রহ এবং এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
ইতোমধ্যে দেশের কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছে। গেমারদের একটি সক্রিয় কমিউনিটি তৈরি হয়েছে, যারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ই-স্পোর্টস ফেডারেশন (প্রস্তাবিত) এর একজন সংগঠক বলেন, “সরকারি স্বীকৃতি পেলে আমরা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। পাশাপাশি, পেশাদার গেমারদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।”

সরকারি স্বীকৃতির ফলে ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়রা পাবেন ক্রীড়া ভাতা, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ক্রীড়া সংক্রান্ত পুরস্কার ও অনুদানসহ অন্যান্য সুবিধা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও গেমিং ক্লাব ও প্রতিযোগিতা আয়োজন সহজ হবে।
তবে ই-স্পোর্টস নিয়ে সামাজিক পর্যায়ে এখনও রয়েছে কিছু দ্বিধা। অনেকেই মনে করেন, এটি কেবলমাত্র একটি বিনোদন মাধ্যম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণা, কৌশল, রিফ্লেক্স, টিমওয়ার্ক এবং মানসিক চাপ মোকাবেলার দক্ষতা—সব মিলিয়ে ই-স্পোর্টস একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক খেলা।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে, যার আলোকে ই-স্পোর্টস সংক্রান্ত সংগঠন গঠনের নিয়ম, খেলোয়াড়দের যোগ্যতা, স্বীকৃত টুর্নামেন্টের ধরণ এবং বাজেট বরাদ্দের কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি স্বীকৃতি কার্যকর হলে বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক মানের ই-স্পোর্টস আয়োজন ও অংশগ্রহণের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রকে/সবা

জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ই-স্পোর্টসকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০৯:০০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫

তরুণ সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় ইলেকট্রনিক স্পোর্টস বা ই-স্পোর্টসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রীড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে এবং একটি খসড়া নীতিমালাও তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে বহুজাতিক টুর্নামেন্ট, কোটি কোটি ডলারের পৃষ্ঠপোষকতা ও লাখো তরুণের অংশগ্রহণে ই-স্পোর্টস এখন আর নিছক ‘খেলাধুলার বিকল্প’ নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়াশ্রয়ী শিল্প। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ই-স্পোর্টসকে সম্ভাব্য অলিম্পিক ডিসিপ্লিন হিসেবে বিবেচনায় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর অনেক দেশই এর উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ নিয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ই-স্পোর্টসকে মূলধারার খেলাধুলার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছি। তরুণদের আগ্রহ এবং এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
ইতোমধ্যে দেশের কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন ই-স্পোর্টস টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আসছে। গেমারদের একটি সক্রিয় কমিউনিটি তৈরি হয়েছে, যারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অংশ নিচ্ছে।
বাংলাদেশ ই-স্পোর্টস ফেডারেশন (প্রস্তাবিত) এর একজন সংগঠক বলেন, “সরকারি স্বীকৃতি পেলে আমরা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জাতীয় পতাকা নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারব। পাশাপাশি, পেশাদার গেমারদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।”

সরকারি স্বীকৃতির ফলে ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়রা পাবেন ক্রীড়া ভাতা, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ক্রীড়া সংক্রান্ত পুরস্কার ও অনুদানসহ অন্যান্য সুবিধা। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও গেমিং ক্লাব ও প্রতিযোগিতা আয়োজন সহজ হবে।
তবে ই-স্পোর্টস নিয়ে সামাজিক পর্যায়ে এখনও রয়েছে কিছু দ্বিধা। অনেকেই মনে করেন, এটি কেবলমাত্র একটি বিনোদন মাধ্যম। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণা, কৌশল, রিফ্লেক্স, টিমওয়ার্ক এবং মানসিক চাপ মোকাবেলার দক্ষতা—সব মিলিয়ে ই-স্পোর্টস একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক খেলা।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে, যার আলোকে ই-স্পোর্টস সংক্রান্ত সংগঠন গঠনের নিয়ম, খেলোয়াড়দের যোগ্যতা, স্বীকৃত টুর্নামেন্টের ধরণ এবং বাজেট বরাদ্দের কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি স্বীকৃতি কার্যকর হলে বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক মানের ই-স্পোর্টস আয়োজন ও অংশগ্রহণের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রকে/সবা