টানা বর্ষণ ও মুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেনীর ফুলগাজী পরশুরামে বন্যায় ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গত ৩ দিনে দুইটি উপজেলার ২১ টি নদী রক্ষাকারী বাঁধ ভেঙে প্রায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করে এবং পাশ্ববর্তী ছাগলনাইয়া উপজেলা ও ফেনী সদরের আংশিক অঞ্চল প্লাবিত হয়। গতকাল রাত থেকে বৃষ্টি বন্ধ থাকায় পানি কমতে শুরু করছে। এতে করে ক্ষয়ক্ষতি চিহ্নিত হচ্ছে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি
হয়েছে তা এখনো নির্ণয় করা যায়নি। গত বছরের বন্যার ক্ষতি এখনো কাটিয়ে না উঠতেই আবার বন্যা অনেক মানুষ শেষ সম্ভল হারিয়ে নিঃশেষ হয়েছে। ফসলি জমি,পুকুর, পোলট্রি খামার সহ ব্যপক ক্ষতির শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ।
ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির বিশেষ টিম, পুলিশ, ফেনী যুব রেড় ক্রিসেন্ট উদ্ধার ও ত্রাণ-সাহায্য নিয়ে কাজ করছে, পাশাপাশি বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত, এনসিপিসহ ফেনী জেলা সেচ্ছাসেবী পরিবার স্থানীয়দের সহায়তায় নিরলস কাজ করছে।
বিএনপি ফেনী-১ সংসদীয় আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে নগদ অর্থ ও রান্না করা খাওয়া বিতরণ করেছেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বন্যার আগে-পরে ‘ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ চাই’ এই স্লোগান দিয়ে আসলেও বন্যাকালীন সময়ে ১টি ত্রানের প্যাকেটই জেনো বেঁচে থাকার সম্বল। কেউ সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে শতশত লোক। এইসব অঞ্চলে বন্যাদুর্গত মানুষের নূন্যতম ২ বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাপনা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
যারা আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছে তারা প্রশাসনের সাহায্য – সহায়তা পেলেও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ীঘরে আশ্রয় নেওয়া নারী,শিশু, বৃদ্ধরা চরম দুর্ভোগের স্বীকার।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার বলেন, রাত ১১টার দিকে নদীর পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি কমার পরেই বাঁধ মেরামতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবল চাকমা বলেন, মাঠপর্যায়ে থেকে দুর্গত মানুষের সহায়তায় আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। উপজেলায় ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে।
এ ব্যাপারে ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও ফেনী সদর উপজেলার আংশিক অংশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্যোগে আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭ হাজারের মতো মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ছয় উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এমআর/সবা
শিরোনাম
ফেনীতে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি
-
ফেনী প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
- ।
- 121
জনপ্রিয় সংবাদ
























