০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঋণের চাপে মেয়েকে বিক্রির চেষ্টা, স্ত্রীর বাধায় রক্ষা পেল শিশু

Oplus_16777216

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিজের ৩ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রির চেষ্টা করেন হাবিবুর রহমান (৩৮) নামে এক হতদরিদ্র কৃষক। তবে শেষ মুহূর্তে স্ত্রী নূর নাহারের বাধার মুখে শিশুটি রক্ষা পায়।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর সিন্দুর্ণা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর রহমান পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও মাকে নিয়ে বসবাস করেন। কৃষিকাজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৫ লাখ টাকা সুদে ধার নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি বন্যা ও ঝড়ে তার ভুট্টা ও বাদাম চাষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ঋণের বোঝা আর সংসারের চাপ তাকে দিশেহারা করে তোলে।

চরম হতাশায় পড়ে হাবিবুর প্রথমে জলঢাকা এলাকার একটি ক্লিনিকে কিডনি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু কিডনির মূল্য আশানুরূপ না হওয়ায় সে পরিকল্পনা বাতিল করেন। এরপর ক্লিনিকেই এক ব্যক্তির প্রস্তাবে নিজের মেয়েকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা বায়না নেন তিনি।

তবে শিশুটিকে নিতে এলে হাবিবুরের স্ত্রী নূর নাহার বাধা দেন এবং সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে ক্রেতা ব্যক্তি টাকা ফেরত নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে কৃষিকাজ করলেও ফলন না হওয়ায় হাবিবুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিশুকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রীর নামে একটি ভিডাব্লিউবি কার্ড করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা সবাই যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই, যাতে হাবিবুর ঋণমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণের চাপে মেয়েকে বিক্রির চেষ্টা, স্ত্রীর বাধায় রক্ষা পেল শিশু

আপডেট সময় : ১২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিজের ৩ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে বিক্রির চেষ্টা করেন হাবিবুর রহমান (৩৮) নামে এক হতদরিদ্র কৃষক। তবে শেষ মুহূর্তে স্ত্রী নূর নাহারের বাধার মুখে শিশুটি রক্ষা পায়।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিন্দুর্ণা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর সিন্দুর্ণা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, হাবিবুর রহমান পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও মাকে নিয়ে বসবাস করেন। কৃষিকাজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৫ লাখ টাকা সুদে ধার নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি বন্যা ও ঝড়ে তার ভুট্টা ও বাদাম চাষ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এতে ঋণের বোঝা আর সংসারের চাপ তাকে দিশেহারা করে তোলে।

চরম হতাশায় পড়ে হাবিবুর প্রথমে জলঢাকা এলাকার একটি ক্লিনিকে কিডনি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু কিডনির মূল্য আশানুরূপ না হওয়ায় সে পরিকল্পনা বাতিল করেন। এরপর ক্লিনিকেই এক ব্যক্তির প্রস্তাবে নিজের মেয়েকে ৫ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা বায়না নেন তিনি।

তবে শিশুটিকে নিতে এলে হাবিবুরের স্ত্রী নূর নাহার বাধা দেন এবং সন্তানকে দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে ক্রেতা ব্যক্তি টাকা ফেরত নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে কৃষিকাজ করলেও ফলন না হওয়ায় হাবিবুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিশুকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্ত্রীর নামে একটি ভিডাব্লিউবি কার্ড করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দেশবাসীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমরা সবাই যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই, যাতে হাবিবুর ঋণমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।