০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা প্রশাসন

নারায়ণগঞ্জকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা প্রশাসন। সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এক বিশাল র‍্যালির মধ্য দিয়ে সর্বশেষ গাছ রোপন করে দুই মাসব্যাপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এর মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির আওতায় এক লক্ষ গাছ রোপনের  মাইলফলক স্পর্শ করল। এক অনাড়ম্বর ও উৎসবমুখর পরিবেশে গাছ রোপন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসন কতৃপক্ষ জানায়, শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বায়ু দূষণের ফলে শহরের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বনায়নের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও নগরায়ণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সবুজ ও টেকসই শহরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে তার এই উদ্যোগ।
‘নারায়ণগঞ্জ হবে সবুজে ঘেরা, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হবে বিশ্ব সেরা’- এই প্রত্যয় নিয়ে গত ১০ মে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ গাছ রোপণ কর্মসূচি শুরু করে জেলা প্রশাসন। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৬০ দিনে ১৮০.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে রোপণ করা হয় ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রকারের গাছ। এছাড়া জেলার ৭টি থানা পুলিশের কার্যালয় ও হাসপাতালগুলোসহ ৪২ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৩১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চার কিলোমিটার খাল পাড় জুড়েও গাছ রোপন করা হয়।
বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে ৪৮ প্রজাতির গাছ নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাখির আবাসযোগ্যতা, বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ উপযোগিতা। বিদেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চেরি, গোলাপি ট্রাম্পেট, জাকারান্ডা, ফক্সটেল পাম, গ্লোরিয়া সিরিয়া এবং রেইন ট্রি। এর মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩ হাজার দেবদারু গাছ রোপণ করা হয়েছে যা সড়কটিকে সবুজ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মোড়ানো একটি পরিচ্ছন্ন করিডোরে রূপান্তর করেছে। এছাড়া শহরের ঐতিহাসিক হাজিগঞ্জ দূর্গ ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্পটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সবুজায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির আওতায় পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক সৌন্দর্যবর্ধক গাছের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা নগরের দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে। এই বিশাল কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১৫৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী, ১০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৬৬০ জন বাগান শ্রমিক, অগণিত স্বেচ্ছাসেবী এবং ২০টি সামাজিক ও পরিবেশ সচেতন সংগঠন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা এমন একটি নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই যেখানে নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ রক্ষা ও ঐতিহ্য এক সাথে লালিত হবে। এই কর্মসূচি সেই স্বপ্নের পথচলার সূচনা। এই পরিবেশবান্ধব, অংশগ্রহণমূলক এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সবুজ ও মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হয়ে থাকবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে শহরের যানজট নিরসনেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে রোপনকৃত গাছগুলো রক্ষায় যথাযথভাবে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তারা।
জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা প্রশাসন

আপডেট সময় : ০১:০১:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
নারায়ণগঞ্জকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ করেছে জেলা প্রশাসন। সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এক লাখ গাছ রোপণ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এক বিশাল র‍্যালির মধ্য দিয়ে সর্বশেষ গাছ রোপন করে দুই মাসব্যাপি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এর মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির আওতায় এক লক্ষ গাছ রোপনের  মাইলফলক স্পর্শ করল। এক অনাড়ম্বর ও উৎসবমুখর পরিবেশে গাছ রোপন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসন কতৃপক্ষ জানায়, শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বায়ু দূষণের ফলে শহরের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় বনায়নের উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও নগরায়ণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সবুজ ও টেকসই শহরে রূপান্তরের অংশ হিসেবে তার এই উদ্যোগ।
‘নারায়ণগঞ্জ হবে সবুজে ঘেরা, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হবে বিশ্ব সেরা’- এই প্রত্যয় নিয়ে গত ১০ মে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির আওতায় এক লাখ গাছ রোপণ কর্মসূচি শুরু করে জেলা প্রশাসন। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৬০ দিনে ১৮০.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাজুড়ে রোপণ করা হয় ফলজ, বনজ ও ঔষধিসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রকারের গাছ। এছাড়া জেলার ৭টি থানা পুলিশের কার্যালয় ও হাসপাতালগুলোসহ ৪২ টি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ৩১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং চার কিলোমিটার খাল পাড় জুড়েও গাছ রোপন করা হয়।
বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশি মিলিয়ে ৪৮ প্রজাতির গাছ নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে পাখির আবাসযোগ্যতা, বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পরিবেশ উপযোগিতা। বিদেশি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চেরি, গোলাপি ট্রাম্পেট, জাকারান্ডা, ফক্সটেল পাম, গ্লোরিয়া সিরিয়া এবং রেইন ট্রি। এর মধ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সর্বোচ্চ সংখ্যক ৩ হাজার দেবদারু গাছ রোপণ করা হয়েছে যা সড়কটিকে সবুজ ও মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে মোড়ানো একটি পরিচ্ছন্ন করিডোরে রূপান্তর করেছে। এছাড়া শহরের ঐতিহাসিক হাজিগঞ্জ দূর্গ ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্পটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সবুজায়নের আওতায় আনা হয়েছে।
‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন’ কর্মসূচির আওতায় পর্যটনবান্ধব নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক সৌন্দর্যবর্ধক গাছের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে, যা নগরের দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে। এই বিশাল কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ১৫৬ জন কর্মকর্তা কর্মচারী, ১০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ৬৬০ জন বাগান শ্রমিক, অগণিত স্বেচ্ছাসেবী এবং ২০টি সামাজিক ও পরিবেশ সচেতন সংগঠন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা এমন একটি নারায়ণগঞ্জ গড়তে চাই যেখানে নাগরিক সুবিধা, পরিবেশ রক্ষা ও ঐতিহ্য এক সাথে লালিত হবে। এই কর্মসূচি সেই স্বপ্নের পথচলার সূচনা। এই পরিবেশবান্ধব, অংশগ্রহণমূলক এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক কর্মসূচি নারায়ণগঞ্জ জেলাকে সবুজ ও মানবিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হয়ে থাকবে’।
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে শহরের যানজট নিরসনেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে রোপনকৃত গাছগুলো রক্ষায় যথাযথভাবে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান জেলার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তারা।