লালমনিরহাটের আলোচিত সাংবাদিক হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিদের অবশেষে বিএনপিতে যোগদান করানো হয়েছে।
২০ আগস্ট সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কেডি বুড়িকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিম চাঁদ, ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ মণ্ডলসহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে মামলার আসামি আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দক জুয়ারু এবং তোজাম হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
জানা যায়, গত ৯ আগস্ট রাতে সাপ্তাহিক আলোর মনি পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ও দৈনিক চিত্র এর লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হেলাল হোসেন কবির পেশাগত কাজে শহরে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরের মকড়া ঢঢগাছ এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতা ও দাদন ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেন, তাঁর বাবা মকবুল হোসেন, সহযোগী আব্দুল আজিজ ওরফে আব্দক জুয়ারু, তোজাম হোসেনসহ স্বজনেরা মিলে হেলালকে আটকিয়ে লাঠি ও রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান। এসময় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা হয়। চিৎকার শুনে তাঁর মা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
সেদিন রাতেই লালমনিরহাট সদর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় জাতীয় পার্টির নেতা সোহরাব হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বাকিরা ১৩ আগস্ট কোর্টে হাজির হয়ে জামিন নেন এবং পরবর্তীতে হেলালের স্বাক্ষীদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। সোহরাবও গত ১৮ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান।
তোজাম দীর্ঘদিন মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাহমেদুল ইসলাম বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তাঁর অবৈধভাবে রাস্তার গাছ কাটা বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ঠিকাদারি কাজও দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে আব্দুল আজিজ জাতীয় পার্টির হয়ে ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মামলার আসামিদের এভাবে নতুন রাজনৈতিক দলে যোগদান স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি করেছে।

























