এক যুগের বেশি সময় ধরে দখল হয়ে যাওয়া কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী বাঁকখলী নদী অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে।
১ সেপ্টেম্বর, সোমবার সকাল ১১টায়,কক্সবাজার শহরের কুস্তুরাঘাট এলাকা নতুন ব্রিজ সংলগ্ন শাপলা মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব উপস্থিত রয়েছে।
বাঁকখালী নদীর তীরে প্রায় ৬ কিলোমিটারের মতো এলাকায় শত শত ঘরবাড়িসহ স্কুল মাদ্রাসা মসজিদ গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে কক্সবাজার শহরের মাঝিরঘাট থেকে শুরু হয়ে পেশকার পাড়া নতুন পেশকার পাড়া, কস্তুরাগাট থেকে শুরু করে একেবারে নুনিয়াছড়া নাজির একটা পর্যন্ত নদী ভরাট করে ফ্লট আকারে জাল খতিয়ান তৈরি করে প্লট বিক্রি করেছি অনেক অসাধু ব্যক্তিরা।
২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ টানা দুদিনের অভিযানে নদীর তীর থেকে ৬ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু আড়াই বছরে আবারও অবৈধভাবে দখল করে তৈরি করা হয়েছে হাজারেরও বেশি স্থাপনা।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘বাঁকখালী নদী দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে অভিযান শুরু হয়েছে। অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। জেলা প্রশাসনের ৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব উপস্থিত রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র তথ্যমতে ২০১০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার বিআইডব্লিউটিএকে বাঁকখালী নদী বন্দরের সংরক্ষক নিযুক্ত করে। প্রজ্ঞাপনে নদী তীরের ৭২১ একর জমি বিআইডব্লিউটিএকে বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেয়। জমি বুঝিয়ে দিতে বারবার জেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও দেয়নি। ফলে নদী বন্দর প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় দখল অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যে বাঁকখালী নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে আগামী চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গত ২৪ আগস্ট সরকারকে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ওই নির্দেশনার এক সপ্তাহের মধ্যেই কক্সবাজার সফরে আসেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
মামলার রায়ে বলা হয়, কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর বর্তমান প্রবাহ এবং আরএস জরিপের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারণপূর্বক নদীটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া নদীর সীমানায় থাকা সব দখলদারের তালিকা তৈরি করে আগামী চার মাসের মধ্যে উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গত শনিবার কক্সবাজার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে হাইকোর্টের আদেশ মোতাবেক বাঁকখালী নদী দখলমুক্তকরণের লক্ষে বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নৌপরিবহণ উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের উপস্থিতিতে বাঁকখালী নদী রক্ষায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুরু হওয়া অভিযানে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। এরপর নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হবে।’





















