০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাঁচবিবিতে মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মোমবাতি প্রজ্বালন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা ক্যাথলিক মিশনের কবরস্থানে রবিবার সন্ধ্যায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন। সারি সারি সমাধিতে জ্বলতে থাকা মোমবাতিতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো কবরস্থান। প্রিয়জনের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রার্থনা করেন স্বজনেরা।

গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা শেষে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা সারিবদ্ধভাবে হেঁটে কবরস্থানে আসেন। এরপর তারা প্রিয়জনের সমাধিতে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে পবিত্র জল ছিটিয়ে মোমবাতি জ্বালান এবং প্রার্থনা করেন।

আটাপুর ও কুসুম্বা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মানুষ বিকেল ৫টা থেকেই কবরস্থানে গিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন। প্রতি বছর ২ নভেম্বর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মৃত আত্মীয়দের স্মরণে গির্জা ও কবরস্থানে প্রার্থনা করে থাকেন।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের জ্বালানো মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কবরস্থান। প্রার্থনার সময় অনেকেই ক্রুশবিদ্ধ যিশুর প্রতিকৃতির সামনেও প্রদীপ জ্বালান। খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস, এই দিনে প্রয়াতদের জন্য প্রার্থনা করলে তাদের আত্মা শান্তি লাভ করে।

পাথরঘাটা এলাকার জয়িতা কুজুর জানান, “কয়েক মাস আগে আমার বাবা মারা গেছেন। আজ মোমবাতি জ্বালাতে মা, বোন ও ভাইকে নিয়ে কবরস্থানে এসেছি। বাবার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছি।”

স্থানীয় খ্রিষ্টানরা জানান, তাদের কবরস্থানটি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারিভাবে যদি এটি উঁচু করে বাউন্ডারি দেওয়া যায়, তাহলে তারা নিরাপদে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন।

আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. স. ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, “মিশন থেকে কবরস্থান সংস্কারের জন্য কোনো আবেদন আসেনি। আগামী সরকারি বরাদ্দে কবরস্থানে বাউন্ডারি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচবিবিতে মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মোমবাতি প্রজ্বালন

আপডেট সময় : ০২:১৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা ক্যাথলিক মিশনের কবরস্থানে রবিবার সন্ধ্যায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষজন মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন। সারি সারি সমাধিতে জ্বলতে থাকা মোমবাতিতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো কবরস্থান। প্রিয়জনের সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে প্রার্থনা করেন স্বজনেরা।

গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা শেষে ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টানরা সারিবদ্ধভাবে হেঁটে কবরস্থানে আসেন। এরপর তারা প্রিয়জনের সমাধিতে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে পবিত্র জল ছিটিয়ে মোমবাতি জ্বালান এবং প্রার্থনা করেন।

আটাপুর ও কুসুম্বা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের মানুষ বিকেল ৫টা থেকেই কবরস্থানে গিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন। প্রতি বছর ২ নভেম্বর খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মৃত আত্মীয়দের স্মরণে গির্জা ও কবরস্থানে প্রার্থনা করে থাকেন।

সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে স্বজনদের জ্বালানো মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কবরস্থান। প্রার্থনার সময় অনেকেই ক্রুশবিদ্ধ যিশুর প্রতিকৃতির সামনেও প্রদীপ জ্বালান। খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস, এই দিনে প্রয়াতদের জন্য প্রার্থনা করলে তাদের আত্মা শান্তি লাভ করে।

পাথরঘাটা এলাকার জয়িতা কুজুর জানান, “কয়েক মাস আগে আমার বাবা মারা গেছেন। আজ মোমবাতি জ্বালাতে মা, বোন ও ভাইকে নিয়ে কবরস্থানে এসেছি। বাবার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা করেছি।”

স্থানীয় খ্রিষ্টানরা জানান, তাদের কবরস্থানটি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। সরকারিভাবে যদি এটি উঁচু করে বাউন্ডারি দেওয়া যায়, তাহলে তারা নিরাপদে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন।

আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. স. ম. সামছুল আরেফিন চৌধুরী আবু বলেন, “মিশন থেকে কবরস্থান সংস্কারের জন্য কোনো আবেদন আসেনি। আগামী সরকারি বরাদ্দে কবরস্থানে বাউন্ডারি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”