০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ মেলা শুরু হয়। ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, আদমপুর ও মুন্সীবাজারে বসা মাছের মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দুপুরে ভানুগাছ ও মুন্সীবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে বড় আকারের মাছ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মেলায় বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, বাঘ মাছসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের সমাহার দেখা যায়। পাঁচ কেজি থেকে শুরু করে ৩৫–৪০ কেজি ওজনের বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ বাজারে দুর্লভ এসব মাছ ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মুন্সীবাজারের মাছ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, তিনি ২৫ কেজি ওজনের বোয়াল ও বাগাইর মাছ নিয়ে মেলায় বসেছেন। মাছ দুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা ৩০–৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত দর দিলেও তিনি বিক্রি করেননি।

ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী ঝুলন মিয়া বলেন, তিনি ২০ কেজি ওজনের বাগাইর, ১০ কেজির চিতল ও ১৫ কেজির বোয়াল মাছ এনেছেন। বাগাইর মাছের দাম ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হলেও ২০ হাজার দর উঠলেও বিক্রি হয়নি। তবে চিতল ও বোয়াল মাছ বিক্রি হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী শিপন মিয়া জানান, ৩৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম তিনি ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন। ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দর উঠলেও মাছটি বিক্রি হয়নি।

মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, হাওর ও নদীতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা টাটকা দেশীয় মাছ কিনতেই তারা প্রতিবছর এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। অনেক দুর্লভ মাছ শুধুমাত্র পৌষ সংক্রান্তির মাছের মেলাতেই পাওয়া যায়। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ ভালো হলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম।

মৎস্য ব্যবসায়ী অদন পাল বলেন, “পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এখান থেকে পাইকারি মাছ কিনে মৌলভীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।”

দর্শনার্থী রাজন আবেদীন বলেন, “এত বড় মাছ সাধারণ সময়ে দেখা যায় না। এই মেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।”

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে এ মেলা শুরু হয়। ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, আদমপুর ও মুন্সীবাজারে বসা মাছের মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দুপুরে ভানুগাছ ও মুন্সীবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানে বড় আকারের মাছ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। মেলায় বোয়াল, চিতল, রুই, কাতলা, বাঘ মাছসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের সমাহার দেখা যায়। পাঁচ কেজি থেকে শুরু করে ৩৫–৪০ কেজি ওজনের বড় মাছ বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ বাজারে দুর্লভ এসব মাছ ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হলেও দাম তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মুন্সীবাজারের মাছ বিক্রেতা সুমন মিয়া জানান, তিনি ২৫ কেজি ওজনের বোয়াল ও বাগাইর মাছ নিয়ে মেলায় বসেছেন। মাছ দুটির দাম হাঁকানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। ক্রেতারা ৩০–৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত দর দিলেও তিনি বিক্রি করেননি।

ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী ঝুলন মিয়া বলেন, তিনি ২০ কেজি ওজনের বাগাইর, ১০ কেজির চিতল ও ১৫ কেজির বোয়াল মাছ এনেছেন। বাগাইর মাছের দাম ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হলেও ২০ হাজার দর উঠলেও বিক্রি হয়নি। তবে চিতল ও বোয়াল মাছ বিক্রি হয়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী শিপন মিয়া জানান, ৩৫ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছের দাম তিনি ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন। ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দর উঠলেও মাছটি বিক্রি হয়নি।

মেলায় আসা ক্রেতারা জানান, হাওর ও নদীতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা টাটকা দেশীয় মাছ কিনতেই তারা প্রতিবছর এই মেলার অপেক্ষায় থাকেন। অনেক দুর্লভ মাছ শুধুমাত্র পৌষ সংক্রান্তির মাছের মেলাতেই পাওয়া যায়। তবে এ বছর মাছের সরবরাহ ভালো হলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম।

মৎস্য ব্যবসায়ী অদন পাল বলেন, “পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে এখান থেকে পাইকারি মাছ কিনে মৌলভীবাজার, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।”

দর্শনার্থী রাজন আবেদীন বলেন, “এত বড় মাছ সাধারণ সময়ে দেখা যায় না। এই মেলা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ।”

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

শু/সবা