১১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির চক্রের তিনজন গ্রেপ্তার

লোহাগাড়ায় নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. আলমগীর (২৬), আমিরাবাদ ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের পুত্র; মো. শাহ আলম (৫০), বড়হাতিয়া ইউনিয়নের আব্দুল আলী সিকদার পাড়ের মৃত হাফেজ আবদুছ সালামের পুত্র; এবং মো. নাজাত (২৩), লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বিল্লা পাড়ের মৃত আকতার মিয়ার পুত্র।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন: মো. বেলাল (৩৫), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লোহাগাড়া শাখার কর্মী; মো. জাহেদ (২৭), আধুনগর ইউনিয়নের রশিদারঘোনা আদর্শ পাড়ের মাহাবুবুর রহমানের পুত্র; মো. রিদুয়ান (৩০), আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি সুন্নিয়া পাড়ের মৃত রশিদ আহমদের পুত্র; এবং মো. রাজা মিয়া (৩৫), কলাউজান ইউনিয়নের পূর্ব কলাউজান জয়নগর এলাকার আব্দুল করিমের পুত্র।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীর নামে একজন ব্যক্তি ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বানিয়ে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে নকল সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়। আলমগীর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সার্টিফিকেটটি তিনি আল আকছা ট্রাভেলসের মালিক শাহ আলমের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেছেন।

তদন্তে উঠে আসে, শাহ আলম মো. বেলালের মাধ্যমে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতেন। লোহাগাড়া থানার সামনে কম্পিউটারের দোকানে মো. নাজাত নকল সার্টিফিকেট বানিয়ে ব্যবসা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজাত স্বীকার করেছেন, তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট তৈরি করে দেন। এছাড়া তার মোবাইল ফোনে থাকা ছবিতে জাহেদ, রিদুয়ান ও রাজা মিয়ার বিষয়েও প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তবে তারা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। থানার ক্লিনিক্যাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) যাচাই করে দেখা যায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে ১টি, জাহেদের বিরুদ্ধে ২টি, রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি এবং রিদুয়ানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে।

লোহাগাড়া থানার এসআই জাহেদ হোসেন জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাদের আদালতের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ আরও ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে।

এমআর/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএলে শেষের নাটকীয়তার পর ৫ রানে জিতল রাজশাহী

লোহাগাড়ায় নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির চক্রের তিনজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৬:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

লোহাগাড়ায় নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযান চালিয়ে গত সোমবার রাতে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: মো. আলমগীর (২৬), আমিরাবাদ ইউনিয়নের আব্দুর রশিদের পুত্র; মো. শাহ আলম (৫০), বড়হাতিয়া ইউনিয়নের আব্দুল আলী সিকদার পাড়ের মৃত হাফেজ আবদুছ সালামের পুত্র; এবং মো. নাজাত (২৩), লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের বিল্লা পাড়ের মৃত আকতার মিয়ার পুত্র।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন: মো. বেলাল (৩৫), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক লোহাগাড়া শাখার কর্মী; মো. জাহেদ (২৭), আধুনগর ইউনিয়নের রশিদারঘোনা আদর্শ পাড়ের মাহাবুবুর রহমানের পুত্র; মো. রিদুয়ান (৩০), আমিরাবাদ ইউনিয়নের সুখছড়ি সুন্নিয়া পাড়ের মৃত রশিদ আহমদের পুত্র; এবং মো. রাজা মিয়া (৩৫), কলাউজান ইউনিয়নের পূর্ব কলাউজান জয়নগর এলাকার আব্দুল করিমের পুত্র।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আলমগীর নামে একজন ব্যক্তি ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য নকল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট বানিয়ে নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন। অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে নকল সার্টিফিকেট জব্দ করা হয়। আলমগীর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সার্টিফিকেটটি তিনি আল আকছা ট্রাভেলসের মালিক শাহ আলমের কাছ থেকে ২৮ হাজার টাকায় সংগ্রহ করেছেন।

তদন্তে উঠে আসে, শাহ আলম মো. বেলালের মাধ্যমে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতেন। লোহাগাড়া থানার সামনে কম্পিউটারের দোকানে মো. নাজাত নকল সার্টিফিকেট বানিয়ে ব্যবসা করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে নাজাত স্বীকার করেছেন, তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট তৈরি করে দেন। এছাড়া তার মোবাইল ফোনে থাকা ছবিতে জাহেদ, রিদুয়ান ও রাজা মিয়ার বিষয়েও প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। তবে তারা পলাতক থাকায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। থানার ক্লিনিক্যাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) যাচাই করে দেখা যায়, আলমগীরের বিরুদ্ধে ১টি, জাহেদের বিরুদ্ধে ২টি, রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে ৪টি এবং রিদুয়ানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে।

লোহাগাড়া থানার এসআই জাহেদ হোসেন জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাদের আদালতের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ আরও ব্যাপক তদন্ত চালাচ্ছে।

এমআর/সবা