০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় উত্তেজনা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেণির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আইন অনুষদ থেকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নেতারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসু নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন অনুষদের ডিন অফিসে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় স্টাফ ও অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে-এমন আশঙ্কার কথা জানালে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।
পরে চাকসু নেতারা তাঁকে আইন অনুষদের সামনে থেকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান আইন অনুষদের সামনে থেকে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে আইন অনুষদের ওই সহকারী অধ্যাপক অন্যতম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থেকে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রাখেন।
ফজলে রাব্বির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় ডেকে নেশা করানো, শাহ আমানত হলে গৃহশিক্ষক থাকাকালে হলটিকে আওয়ামী লীগ ও সিএফসির আস্তানায় পরিণত করা এবং শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করার সঙ্গেও ওই শিক্ষক জড়িত ছিলেন। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে কেন একজন অভিযুক্ত শিক্ষক পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন এ প্রশ্ন তুলতেই চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় তাঁদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই শিক্ষক ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন এবং একটি গাছের গুঁড়িতে আঘাত লেগে পড়ে যান।
চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “তাকে কোনোভাবেই মারা হয়নি। আমরা আইন অনুষদে পরিদর্শনের সময় খবর পাই। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি আইন অনুষদের গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যথা পান।”
সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি একদিনের জন্যও বাইরে বের হইনি। কোনো দায়িত্বেও ছিলাম না। মৌন মিছিলেও অংশ নিইনি। শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বোর্ডের সদস্যও ছিলাম না। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি কাউকে মামলা দেইনি।” তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার হলে থাকা অবস্থায় স্টাফ ও শিক্ষকরা তাঁকে জানান যে পরিস্থিতি ভালো নয়। এরপর তিনি হল থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন চাকসু নেতারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তিনি ভয়ে দৌড় দেন এবং পড়ে যান। তাঁর অভিযোগ, এরপরও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি এবং পরীক্ষার হল থেকে বের না হলে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাফর উল্লাহ বলেন, “আমি ডিন অফিসে থাকার সময় চাকসু নেতারা আমার কাছে আসে। হঠাৎ শুনি রোমান স্যার পরীক্ষার হল থেকে বের হচ্ছেন। তখন তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর কাজ আমার নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বেতন বন্ধ রয়েছে। তাহলে কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা আমি বলতে পারছি না।”
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রকিবা নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “এখন পর্যন্ত সব পরীক্ষায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে জানতে পারি তাঁকে প্রক্টর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখানে হট্টগোল হচ্ছিল। আমরা তৎক্ষণাৎ সবাইকে বের করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে তাঁর ফোনসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
শু/সবা
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেণির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদ এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আইন অনুষদ থেকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নেতারা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসু নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইন অনুষদের ডিন অফিসে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় স্টাফ ও অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে-এমন আশঙ্কার কথা জানালে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন।
পরে চাকসু নেতারা তাঁকে আইন অনুষদের সামনে থেকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান আইন অনুষদের সামনে থেকে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমান সোহান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি গণমাধ্যমকে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে আইন অনুষদের ওই সহকারী অধ্যাপক অন্যতম। তাঁর দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থেকে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রাখেন।
ফজলে রাব্বির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় ডেকে নেশা করানো, শাহ আমানত হলে গৃহশিক্ষক থাকাকালে হলটিকে আওয়ামী লীগ ও সিএফসির আস্তানায় পরিণত করা এবং শিক্ষার্থীদের ‘শিবির’ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করার সঙ্গেও ওই শিক্ষক জড়িত ছিলেন। তাঁর দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত চলাকালে কেন একজন অভিযুক্ত শিক্ষক পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন এ প্রশ্ন তুলতেই চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় তাঁদের উপস্থিতির খবর পেয়ে ওই শিক্ষক ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন এবং একটি গাছের গুঁড়িতে আঘাত লেগে পড়ে যান।
চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “তাকে কোনোভাবেই মারা হয়নি। আমরা আইন অনুষদে পরিদর্শনের সময় খবর পাই। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি আইন অনুষদের গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যথা পান।”
সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি একদিনের জন্যও বাইরে বের হইনি। কোনো দায়িত্বেও ছিলাম না। মৌন মিছিলেও অংশ নিইনি। শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার বোর্ডের সদস্যও ছিলাম না। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি কাউকে মামলা দেইনি।” তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার হলে থাকা অবস্থায় স্টাফ ও শিক্ষকরা তাঁকে জানান যে পরিস্থিতি ভালো নয়। এরপর তিনি হল থেকে বেরিয়ে আসেন। তখন চাকসু নেতারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তিনি ভয়ে দৌড় দেন এবং পড়ে যান। তাঁর অভিযোগ, এরপরও তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি এবং পরীক্ষার হল থেকে বের না হলে মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. জাফর উল্লাহ বলেন, “আমি ডিন অফিসে থাকার সময় চাকসু নেতারা আমার কাছে আসে। হঠাৎ শুনি রোমান স্যার পরীক্ষার হল থেকে বের হচ্ছেন। তখন তাঁরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাউকে আমন্ত্রণ জানানোর কাজ আমার নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর বেতন বন্ধ রয়েছে। তাহলে কীভাবে তিনি পরীক্ষার দায়িত্ব পেলেন, তা আমি বলতে পারছি না।”
এ বিষয়ে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক রকিবা নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ পর কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “এখন পর্যন্ত সব পরীক্ষায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে জানতে পারি তাঁকে প্রক্টর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সেখানে হট্টগোল হচ্ছিল। আমরা তৎক্ষণাৎ সবাইকে বের করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে তাঁর ফোনসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”
শু/সবা