* ব্যবসায়ীরা আশ্বাস দিলেও দোকান বন্ধ
* চাহিদানুযায়ী মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার, স্বস্তি নেই দামে
* এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম সংকট নিরসনের দাবি বিএলপি’র
‘বর্তমানে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। জ্বালানি উপদেষ্টার উচিত ছিল গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পদত্যাগ করা উচিত’
– ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি (বিএলপি)
চলমান সংকট নিরসনে জরুরি বৈঠকে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু ধর্মঘট প্রত্যাহর করা হলেও এখনও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে খুচরা বাজারে এলপি গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী মিলছে না কাঙ্খিত এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান সিন্ডিকেটেই আটকে আছে এলপি গ্যাস সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম! কোথাও কোথাও সরবরাহ থাকলেও বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে। ফলে স্বস্তিতে নেই ভোক্তারা। এদিকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জোর তদারকি না থাকায় সরকারের জ¦ালানি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম (এলপি) গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও কৃত্রিম সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি (বিএলপি)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলছেন, বর্তমানে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। জ্বালানি উপদেষ্টার উচিত ছিল গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পদত্যাগ করা উচিত।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির দোকানগুলোর সাঁটার নামানো। তাল ঝুঁলিয়ে রেখেছেন খুচরা দোকানিরা। নগরীর কোথাও দেখা মেলেনি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির কার্যক্রম। পাড়া-মহল্লা ছাপিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে এলপি গ্যাস ব্যবহারকারীরা দৈনিক সবুজ বাংলাকে জানিয়েছেন। লালবাগের নবাবগঞ্জের চা দোকানি মো. সিদ্দিকুর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, মাইলের পর মাইল হেঁটেও কোন এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান খোলা পাইনি। দেখাও মেলেনি আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে জরুরি ব্যবহৃত এলপিজি’র সিলিন্ডার। তিনি বলেন, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে লালবাগের শহীদ নগর এলাকা ঘুরে এক দোকানির দেখা মিললেও প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম হাঁকেন ৩৫০০ টাকা। নিরুপায় হয়ে একটি সিলিন্ডার কিনে দোকানে এসে চা বানিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে চায়ের দাম বাড়াতে গেলেই ক্রেতাদের সাথে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়াতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে চায়ের দোকানও বন্ধ করে দেই। দিনের অর্ধেক সময় বন্ধ রেখে বিকেলে দোকান খুলে প্রতিকাপ চা ৫ টাকার পরিবর্তে ২ টাকা বাড়িয়ে ৭ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার কোনো দোকানেই সিলিন্ডারের গ্যাস নেই। দু-একটি দোকানে কিছু সিলিন্ডার থাকলেও দাম বেশি। এই এলাকার সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবসায়ী আরাফাত দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, প্রতি ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিছুদিন আগেও ২১০০ থেকে ২৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন সরবরাহ না থাকায় বোতলপ্রতি ১ হাজার টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই এলাকার একটি দোকানেও গ্যাস নেই। চাহিদা অনুযায়ী আমরা সিলিন্ডার পাচ্ছি না। ডিস্ট্রিবিউটর ও কোম্পানি উভয়েই দাম বেশি রাখছে। ১৩৭০ টাকার গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকেই ডিস্ট্রিবিউটররাও বেশি দামে আনছে।

ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকেই আমাদের দুই থেকে তিন হাজার টাকায় আনতে হয়। তিনি আরও বলেন, গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও খুচরা বাজারে বিন্দুমাত্র এর প্রভাব পড়েনি। গত ৭ জানুয়ারি রাতে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে বেশকিছু সিলিন্ডার এনেছিলাম। প্রতিটি সিলিন্ডার ২১০০ ৩৩০০ টাকায় কিনে আনতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানে সব শেষ হওয়ায় দোকান বন্ধ রেখেছি। দোকান খোলা থাকলেই এলাকার পরিচিতজনরা সিলিন্ডার কিনতে ভিড় করেন। শনিবারও (১০ জানুয়ারি) কোথাও গ্যাস সিলিন্ডার পাইনি।
এর আগে, গত ৭ জানুযারি রাতে দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। বলা হয়, সব কোম্পানির প্ল্যান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে। ওইদিন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতি। বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) থেকে নতুন করে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয় করতে হবে। প্রশাসন দিয়ে ডিলারদের হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম খান। তিনি বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় বিইআরসির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মানা হলে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি শুরু হবে। না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতির এমন ঘোষণার পর থেকেই চাহিদানুযায়ী ব্যবহৃত এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে না পারায় বন্ধ হয়ে যায় আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে রেঁস্তোরায় রান্নার কাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন গৃহিনীসহ নানা শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা।
এদিকে, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতি দিয়ে আমদানি পর্যায়ে এলপি গ্যাসের ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বাজারে চলমান সংকট নিরসনে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। ‘এলপি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্র্নিধারণ’ শিরোনামের চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানি কর্তৃক আমদানি করা হয়, যার অধিকাংশ শিল্পখাতসহ গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণভাবে শীতকালে বিশ্ববাজারে এবং দেশে এলপি গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় দাম বাড়ে। তাছাড়া শীতকালে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও অপেক্ষাকৃত কম থাকায় এলপি গ্যাসের চাহিদা বাড়ে। বর্তমানে এসব কারণে বাজারে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ জনজীবনে এর প্রভাব পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক এলপি গ্যাসের আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহারপূর্বক ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব প্রণয়ন সময়োপযোগী। তবে, প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজি ক্রয় বাবদ কী পরিমাণ ব্যয় হ্রাস পাবে তা বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। এজন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক সমন্বিত পর্যালোচনাপূর্বক পুনরায় প্রস্তাবটি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে উপস্থাপন করা সমীচীন। উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় বিস্তারিত আলোচনায় এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে একমত পোষণ করা হলেও উপস্থিত এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আমদানি পর্যায়ে প্রণীত ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের বিপরীতে শূন্য শতাংশের দাবি করেন। যদিও উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে এলপিজি অপারেটররা একমত পোষণ করেছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় বাজারে এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উল্লেখিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বর্তমান সংকট বিবেচনায় নিয়ে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে তা ১০ শতাংশের নিচে নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে আরোপিত ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট এবং আগাম কর অব্যাহতি প্রদানের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের আলোচনার সঙ্গে একমত হয়েছে। এ অবস্থায় এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এলপিজি বিক্রেতাদের সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান। তিনি জানান,
অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাদের এক হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। বৈঠকে নেতারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। সেগুলো হলো- সারাদেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেন যে, চলমান অভিযানের বিষয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন ও চার্জ বাড়াতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন। জালাল আহমেদ বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে যে জাহাজ সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত এক হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে পণ্য বিক্রির কোনো যুক্তি তিনি দেখছেন না। তবে এমন বৈঠকে উভয়পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছে এলপি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খুচরা দোকান খোলা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির খুচরা দোকানগুলো বন্ধ ছিল বলে জানা গেছে। কোথাও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন গৃহিনী মরিয়ম আক্তারসহ আরও অনেক গ্রাহক।
ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের অদক্ষতার কারণে গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান সিন্ডিকেটেই দেশজুড়ে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সিন্ডিকেটের গ্যাড়াকলে আটকে আছে এলপিজি সিলিন্ডার। এর ফলেই খুচরা দোকানগুলোতে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কোথাও কোথাও মিললেও গ্রাহকের চাহিদানুযায়ী সরবরাহ সংকটের অজুহাতে তা দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।
বগুড়া সদর নিউজের ফেসবুক ফলোয়ার লিমন হাসান নামে এক ব্যক্তি এলপি গ্যাসের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষোভ জানিয়ে উল্লেখ করেন-গ্যাস ব্যবসায়ীরা একেকটা রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে, এদের ব্যবসা চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হোক, আর সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে এলপিজি গ্যস সাপ্লাই দেয়ার জোর দাবি জনাই। মো. শরীফুল ইসলাম লেখেন- এদের সবার লাইসেন্স বাতিল করা হোক এরা দেশের পণ্য দেশের মানুষের কাছে উচ্চ দামে বিক্রি করছে এবং সাধারণ জনগনদের ভোগান্তির মধ্যে ফেলাচ্ছে।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, দেশের লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপরে নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহুরে পরিবারে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করারও সুযোগ নেই। জীবনধারণের এমন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিয়ে কয়েকদিন ধরে যা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির যে গতিপথ বোঝা যাচ্ছে তা হতাশাজনক। তিনি বলেন, পুরো ব্যবস্থাপনায় নাগরিকের স্বার্থ দেখার কেউ নেই। তাই এক্ষেত্রে সরকারকে দ্রুত, যৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যে করেই হোক জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতেই হবে। কারও কোনো কারসাজি থাকলে তা শক্তহাতে দমন করতে হবে।
এদিকে শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির (বিএলপি) চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বর্তমানে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে। এর দাম (প্রতি লিটার) ৫৯ টাকা। আবার একই গ্যাস যখন রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয় তখন সরকার নির্ধারিত দাম হচ্ছে ১১৪ টাকা। সবকিছু একই, কিন্তু দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণ-তিনগুণ। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত রান্নার ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও তা খোলাবাজারে ডিলাররা বিক্রি করছেন ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। যে গ্যাসের দাম হওয়ার কথা ছিল ৭২০ টাকা, সেই গ্যাস ২ হাজার ৫০০ বা এর চেয়েও বেশি টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে না আনতে পারলে জ্বালানি উপদেষ্টার পদত্যাগ করা উচিত। তিনি বলেন, এলপি গ্যাসের বাজার শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দখলে চলে গেছে। কালোবাজারি সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, আজ ১১ থেকে ১৫ জানুয়ারি রাজধানীর সব থানায় মানববন্ধন করা হবে। ১৬ জানুয়ারি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার অধিদপ্তরে স্মারকলিপি পেশ করা হবে। এছাড়া ১৮ জানুয়ারি জ্বালানি মন্ত্রণালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান দৈনিক সবুজ বাংলাকে বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই আমাদের ১৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তবে সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পরও কেন গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে না, খুচরা দোকান বন্ধ রাখা হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।

























