নবগঠিত সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। দলের বক্তব্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত জনগণের ম্যান্ডেট ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন সরকারের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় দলের নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের হাতে সবচেয়ে নির্যাতিত হওয়া সত্ত্বেও যদি বর্তমান সরকার বিচার ছাড়া তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তাহলে ছাত্র-জনতা বা ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না।” তিনি নবগঠিত সরকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের সংস্কার ও চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দলের অবস্থানও তুলে ধরেন।
মঞ্জু বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দল। শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে তৈরি ‘জুলাই সনদ’ যেন কোনোভাবে ভূলুণ্ঠিত না হয়, সেদিকে সরকারের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) চলা গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার এবং আগের সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নতুন সরকারের প্রতি জোর দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও কার্যালয় খোলা প্রসঙ্গে মঞ্জু বলেন, “শেখ হাসিনা সরাসরি ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করিয়েছেন। তথ্যপ্রমাণ সবার কাছে আছে। বিচার ছাড়া জালেমদের পুনর্বাসন বা ক্ষমা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পোস্টাল ব্যালট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিআইবি রিপোর্ট অনুযায়ী ২২ শতাংশ ভোট জালিয়াতি হয়েছে। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনার জন্য সাংবাদিক, পুলিশ, চিকিৎসক ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য আগাম ভোট বা পোস্টাল ব্যালট চালুর প্রস্তাব দেন।
এছাড়া, নির্বাচনের পর সহিংসতা রোধ এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামানোর প্রস্তাব দেন। তিনি নতুন সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও আমলাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরে সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বানও জানান, যাতে দুর্নীতি রোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি দৃশ্যমান হয়।
মঞ্জু শেষ করেন, নতুন সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জনগণের প্রতি বিনয়ী হবে এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে।
শু/সবা

























