জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মেন্দারবেড় গ্রাম স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘২১ কানার গ্রাম’ নামে। কথিত আছে, এই গ্রামে একসময় ২১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (কানা) মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু স্থানীয়দের ভাষ্যে, দৃষ্টিহীনতার চেয়েও বড় অন্ধত্ব এখন প্রশাসনিক নথিতে। প্রায় তিন হাজার মানুষের এই গ্রামে একই রাস্তায় দুই অর্থবছরে ভুয়া নামে প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ তোলার অভিযোগ উঠেছে। তাই এলাকাজুড়ে মন্তব্য, “কানার হাটে বাটপারের বাটপারি”।
স্থানীয় সূত্র ও নথিপত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাসুমের দোকান থেকে ফারুকের বাড়ি পর্যন্ত একটি ইটের সলিং রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়। তখন ইউপি সদস্য বাবলু মিয়া কাজটি বাস্তবায়ন করেন। এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা এখনো চলাচলের উপযোগী ও অক্ষত।
কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই রাস্তাকে ভিন্ন নামে দেখিয়ে আবারও বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে। নতুন প্রকল্পের নাম ‘মেন্দারবেড় ফারুকের বাড়ি হতে আনোয়ারা বেগমের বাড়ীগামী রাস্তা ইটের সলিং করণ’। বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে রাস্তা আগে থেকেই ইটের সলিং করা এবং ব্যবহারযোগ্য, সেখানে নতুন করে বরাদ্দ কেন?
এলাকাবাসীর কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “রাস্তার নাম একটু এদিক-সেদিক করে নতুন প্রকল্প দেখানো হয়েছে। কাজের কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।”
৪ নং আওনা ইউনিয়ন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবলু মিয়া বলেন, “রাস্তাটি আমি দুই বছর আগে ইটের সলিং করেছি। এখনো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয়টি আমার জানা নেই।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী মহল প্রকল্পের নাম ও সীমা পরিবর্তন করে একই কাজকে নতুন দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি দাবি করেছেন তারা।
আওনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রাসেল মাহমুদ জানান, রাস্তায় ১৫০ ফুট কাজ হয়েছে। বাকী কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল জানান, প্রকল্পটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি জেনে পরবর্তীতে আপনাদের জানানো হবে।
এ বিষয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। তাদের বক্তব্য, “মেন্দারবেড় যদি কানার গ্রামও হয়, প্রশাসন যেন কানা না থাকে।”
শু/সবা

















