১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে কমল ১১ লাখ ভোট— ইসি বলছে ‘করণিক ভুল’

নেত্রকোণার তিনটি আসনে এক্সেল শিটে ডাটা এন্ট্রির সময় ‘করণিক ভুল’ বা ট্রান্সপজিশন এররের কারণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ফলাফলের তুলনায় মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। তবে ভোটের সংখ্যায় পরিবর্তন এলেও ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের জয়-পরাজয়ের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, নেত্রকোণা-৩, নেত্রকোণা-৪নেত্রকোণা-৫ আসনের ফলাফল প্রস্তুতের সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ভোটসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেত্রকোণা-৩ আসনে প্রকৃত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এন্ট্রি করা হয়। একই আসনে ৬০ হাজার ৭৮৭টির বদলে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি ‘না’ ভোট দেখানো হয়।

নেত্রকোণা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১ লাখ ২ হাজার ১১৩টির বদলে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি করা হয়।

নেত্রকোণা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হয় এবং ৪৪ হাজার ৫৭৩টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি করা হয়।

উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রথম গেজেট অনুযায়ী,‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি, ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি।
মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি, এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সে হিসাবে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।

সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি, ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। মোট প্রদত্ত ভোট ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি, বাতিল ভোট ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। ফলে মোট বৈধ ভোট হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।

সংশোধনের ফলে আগের তুলনায়

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি,

  • ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি,

  • বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি।

এ বিষয়ে আখতার আহমেদ, ইসি সচিব বলেন, “তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশন এরর ছিল। যেহেতু কাজগুলো হাতে করা হয়, তাই এমন ভুল হতেই পারে। পরে মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মূল প্রতিপাদ্য—‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ব্যবধান—এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই জায়গায় কোনো ধরনের বিচ্যুতি হয়নি।”

শু/সবা

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটে কমল ১১ লাখ ভোট— ইসি বলছে ‘করণিক ভুল’

গণভোটে কমল ১১ লাখ ভোট— ইসি বলছে ‘করণিক ভুল’

আপডেট সময় : ১০:৩১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নেত্রকোণার তিনটি আসনে এক্সেল শিটে ডাটা এন্ট্রির সময় ‘করণিক ভুল’ বা ট্রান্সপজিশন এররের কারণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ফলাফলের তুলনায় মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি। তবে ভোটের সংখ্যায় পরিবর্তন এলেও ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের জয়-পরাজয়ের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, নেত্রকোণা-৩, নেত্রকোণা-৪নেত্রকোণা-৫ আসনের ফলাফল প্রস্তুতের সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ভোটসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেত্রকোণা-৩ আসনে প্রকৃত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এন্ট্রি করা হয়। একই আসনে ৬০ হাজার ৭৮৭টির বদলে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫টি ‘না’ ভোট দেখানো হয়।

নেত্রকোণা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ১ লাখ ২ হাজার ১১৩টির বদলে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি করা হয়।

নেত্রকোণা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেখানো হয় এবং ৪৪ হাজার ৫৭৩টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট এন্ট্রি করা হয়।

উল্লেখ্য, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত জানতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল।

প্রথম গেজেট অনুযায়ী,‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি, ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি।
মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি, এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি।
সে হিসাবে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।

সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি, ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। মোট প্রদত্ত ভোট ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি, বাতিল ভোট ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। ফলে মোট বৈধ ভোট হয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।

সংশোধনের ফলে আগের তুলনায়

  • ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি,

  • ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি,

  • বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯টি।

এ বিষয়ে আখতার আহমেদ, ইসি সচিব বলেন, “তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশন এরর ছিল। যেহেতু কাজগুলো হাতে করা হয়, তাই এমন ভুল হতেই পারে। পরে মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মূল প্রতিপাদ্য—‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ব্যবধান—এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই জায়গায় কোনো ধরনের বিচ্যুতি হয়নি।”

শু/সবা